মামলা দায়েরের পরও আসামিদের হুমকির মুখে বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে এক ভুক্তভোগী পরিবার। অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে অভিযোগ করেছেন মামলার বাদী খাদিজা বেগম। তিনি আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে গাইবান্ধা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন খাদিজা বেগম। তিনি গাইবান্ধার পলাশবাড়ি উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের কুমেদপুর ডিপ বাজার এলাকার রিকশাচালক ফরিদুল ইসলামের স্ত্রী।
লিখিত বক্তব্যে খাদিজা বেগম জানান, গত ২ জুন তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার স্বামী ফরিদুল ইসলামের সঙ্গে প্রতিবেশী সাদা মিয়ার ছেলে আসাদুল শেখ, আশরাফুল ইসলাম ও জিন্নাত আলীর কথা-কাটাকাটি হয়। এর জের ধরে পরে আশরাফুল ইসলামের নির্দেশে আসাদুল শেখ, জিন্নাত আলী, সাদা শেখ, রশিদা বেগম, ববিতা বেগম, মারুফা বেগম ও আফরোজা সংঘবদ্ধভাবে ফরিদুল ইসলামকে মারধর করেন।
স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে পলাশবাড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, চিকিৎসার জন্য পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে ব্যস্ত থাকার সুযোগে প্রতিপক্ষ তাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। এ সময় স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা, আসবাবপত্রসহ প্রায় ৫ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নেওয়া হয়।
খাদিজা বেগমের দাবি, এ ঘটনায় পলাশবাড়ি থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি; বরং তাদের শাসিয়ে দেয়। পরে ৯ জুন আদালতে মামলা দায়ের করা হলে আদালত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে থানাকে নির্দেশ দেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত পুলিশ কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, আসামিরা গ্রেফতার না হওয়ায় আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তারা তাকে ও তার পরিবারকে নিয়মিত প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। এ কারণে তারা বাড়িতে ফিরতে পারছেন না এবং অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে চরম দুর্দশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
সংবাদ সম্মেলনে খাদিজা বেগম জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কাছে আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে তার শ্বশুর শফিকুল ইসলাম, স্থানীয় বাসিন্দা জোব্বারসহ এলাকার আরও কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন।
বিডি-প্রতিদিন/এমএল