বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় কমেডি ফ্র্যাঞ্চাইজি ‘হেরা ফেরি’র তৃতীয় কিস্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা টানাপোড়েন চলছে। এবার এই প্রজেক্ট নিয়ে এলো এক বড় ধাক্কা। সিনেমাটির মূল পরিচালক প্রিয়দর্শন আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন যে তিনি আর ‘হেরা ফেরি ৩’-এর সঙ্গে যুক্ত নেই। সম্প্রতি প্রযোজক ফিরোজ নাদিয়াদওয়ালা এক সাক্ষাৎকারে প্রিয়দর্শনের বাদ পড়ার কথা জানানোর পর, এই প্রখ্যাত পরিচালক নিজেই বিষয়টি সংবাদমাধ্যমের কাছে খোলাসা করেন।
হিন্দুস্তান টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রিয়দর্শন বলেন, প্রযোজক ফিরোজ নাদিয়াদওয়ালা যা বলেছেন তা শতভাগ সত্যি এবং বর্তমানে এই সিনেমার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তবে এর চেয়েও বড় আশঙ্কার কথা শুনিয়েছেন এই পরিচালক। তার মতে, তার থাকা বা না থাকাটা বড় বিষয় নয়; বরং নানা আইনি জটিলতা এবং অভ্যন্তরীণ ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের কারণে ‘হেরা ফেরি ৩’ সিনেমাটি হয়তো আর কখনোই প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে না।
জানা গেছে, চলতি বছরের শুরুর দিকেই সিনেমাটির শুটিং ফ্লোরে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সিনেমা ও মিউজিক রাইটস (সংগীতের স্বত্ব) নিয়ে বড় ধরনের আইনি জটিলতা তৈরি হওয়ায় কাজ বারবার পিছিয়ে যায়। কিছুদিন আগে টি-সিরিজের প্রধান ভূষণ কুমার প্রকাশ্যে এই সিনেমার মিউজিক রাইটস তার নিজের বলে দাবি করেন। এ ছাড়া ‘সেভেন আর্টস ইন্টারন্যাশনাল’ নামের একটি প্রযোজনা সংস্থাও ফিরোজ নাদিয়াদওয়ালার বিরুদ্ধে চুক্তিভঙ্গের অভিযোগ এনে আদালতে গেছে। তাদের দাবি, ফিরোজের অধিকার কেবল মালয়ালাম মূল সিনেমা ‘রামজি রাও স্পিকিং’-এর হিন্দি রিমেক করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল, ফ্র্যাঞ্চাইজি বাড়ানোর কোনো আইনি অধিকার তার ছিল না।
আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি এই সিনেমাটি শুরু থেকেই নানা ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বে জর্জরিত। গত বছর অভিনেতা পরেশ রাওয়াল প্রজেক্টটি থেকে সরে দাঁড়ালে সহ-অভিনেতা অক্ষয় কুমার তার বিরুদ্ধে ২৫ কোটি রুপির মানহানির মামলা করেছিলেন, যা অবশ্য পরে মিটমাট হয়ে যায়।
২০০০ সালে অক্ষয় কুমার, সুনীল শেঠি ও পরেশ রাওয়ালের কালজয়ী রসায়ন নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল ‘হেরা ফেরি’, যার সিক্যুয়েল আসে ২০০৬ সালে। তবে বর্তমান জটিল পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, রাজু, শ্যাম আর বাবুরাওয়ের সেই ম্যাজিক বড় পর্দায় ফিরে আসার সম্ভাবনা একেবারে নিভে গেল।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস, এনডিটিভি
বিডি প্রতিদিন/কেএইচটি