সরকারি খাস জমি ছাড়াও ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি কিনে প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। দেশের ১০টি স্থানে নতুন করে সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের জন্য সম্প্রতি দরপত্র আহ্বান করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সোলার রুফটপ কর্মসূচির পাশাপাশি এবার সরকারি পতিত জমিতে হবে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন। এর অংশ হিসেবে রেলের অব্যবহৃত জমি, মহাসড়কের পাশের স্থান এবং চা-বাগানেও সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে।
বিদ্যুৎ-জ্বালানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে সৌরবিদ্যুৎই হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের ভরসা। প্রাকৃতিক গ্যাসের সংকট, ব্যয়বহুল জ্বালানি তেল ও এলএনজি-কয়লার আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সবার চোখ শুধু এখন নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ করে সৌরবিদ্যুতের দিকে। সরকারও বিদ্যুৎ উৎপাদনে সৌরবিদ্যুৎকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। পাকিস্তান-ভিয়েতনামের মতো বাংলাদেশও এখন সোলার বিপ্লবের পথে হাঁটছে।
করোনা মহামারির সময় ২০২০ সালে মাত্র এক বছরের মধ্যে ভিয়েতনাম প্রায় ১১ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ গ্রিডে যুক্ত করেছিল। এর মধ্যে ৪৮ শতাংশই ছিল রুফটপ সোলার। আর পাকিস্তান এবার মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের সময় বিদ্যুতের সংকট থেকে রক্ষা পেতে এবং অর্থ সাশ্রয় করতে সৌরবিদ্যুতে ঝুঁকে। দেশটির জনগণ নিজ উদ্যোগে সোলার রুফটপ স্থাপন শুরু করে। এতে সৌরবিদ্যুতের সক্ষমতা বাড়তে থাকে।
মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের মধ্যেই পাকিস্তান এলএনজি ও তেল আমদানির খরচ প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার সাশ্রয় করে। পাকিস্তানের পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ার ভারত ও শ্রীলঙ্কাও দ্রুত নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর নির্ভরতা বাড়াচ্ছে। সঠিক নীতিমালা, সৌরবিদ্যুৎ খাতে কর ও শুল্ক সুবিধা প্রদানসহ এ খাতে প্রণোদনা দেওয়া হলে সৌরবিদ্যুৎ প্রসারে বাংলাদেশে একটি নতুন যুগের সূচনা হবে।
এরই মধ্যে বাংলাদেশ সরকার সৌরবিদ্যুতের প্রসারে বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে বড় বড় সব পরিকল্পনা। সরকারের লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে যেভাবেই হোক নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে ৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে এজন্য দ্রুত কাজ এগিয়ে নিচ্ছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। এর অংশ হিসেবে বেশ কয়েকটি প্রকল্পের মাধ্যমে আগামী চার- বছরে ৫ হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নের কাজ চলছে।
সরকারি খাস জমি ছাড়াও ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি কিনে প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। দেশের ১০টি স্থানে নতুন করে সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের জন্য সম্প্রতি দরপত্র আহ্বান করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ।
বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সোলার রুফটপ কর্মসূচির পাশাপাশি এবার সরকারি পতিত জমিতে হবে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন। এর অংশ হিসেবে রেলের অব্যবহৃত জমি, মহাসড়কের পাশের স্থান এবং চা- বাগানেও সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। এরই মধ্যে সৌর প্রকল্প স্থাপনের জন্য বেশ কিছু স্থানের প্রাথমিক তালিকা তৈরি করা হয়েছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের নবায়নযোগ্য জ্বালানি অনুবিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, বর্তমানে তেল, কয়লা ও এলএনজির ব্যবহার ব্যয়বহুল। প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুতও ক্রমে ফুরিয়ে আসছে। জীবাশ্ম জ্বালানির অতিরিক্ত মূল্যের জন্য বাংলাদেশের মতো দেশে সৌরবিদ্যুৎ ছাড়া অন্য বিকল্প নেই।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আগামী চার বছরের মধ্যে নবায়নযোগ্য খাত থেকে ৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় নতুন করে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে উদ্যোক্তাদের কাছে উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড এ উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে সৌরবিদ্যুৎ কিনবে। বেশ কয়েকটি প্রকল্পের মাধ্যমে মোট ৫ হাজার ৩৯০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে।
এ ছাড়া চলতি বছর এপ্রিলের ২৭ তারিখে দেশের ১০টি স্থানে সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের জন্য নতুন করে দরপত্র আহ্বান করা হয়। চলতি জুনের ২৫ তারিখ পর্যন্ত দরপত্র জমা দেওয়ার কথা। বাজিতপুরে ২৫ মেগাওয়াট, লোহাগড়ায় ৩০ মেগাওয়াট, কুড়িগ্রামে ৪৫ মেগাওয়াট, ভালুকায় ৪৫ মেগাওয়াট, কক্সবাজারে ৫০ মেগাওয়াট করে দুটি, পঞ্চগড়ে ৫০ মেগাওয়াট, লালমনিরহাটে ৫০ মেগাওয়াট, নেত্রকোনায় ৫০ মেগাওয়াট এবং টাঙ্গাইলে ১০০ মেগাওয়াট করে এই সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো স্থাপন করা হবে।