জাপানের বিপক্ষে নকআউট ম্যাচে পিছিয়ে পড়ে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে ব্রাজিল। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা এমন এক পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে, যা তাদের জন্য গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে এক দুশ্চিন্তার নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ফুটবলপ্রেমীদের মনে করিয়ে দিচ্ছে সেই ২০০২ সালের কথা, যখন সর্বশেষ নকআউট পর্বে পিছিয়ে পড়েও জয় তুলে নিয়েছিল সেলেসাওরা। ওই বছর বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে মাইকেল ওয়েনের গোলে ইংল্যান্ড এগিয়ে গেলেও রিভালদো ও রোনালদিনহোর জাদুকরী পারফরম্যান্সে ২-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেছিল ব্রাজিল। এরপর আর কোনো নকআউট ম্যাচে পিছিয়ে পড়ে জয় উদযাপন করার সুযোগ পায়নি হলুদ জার্সিধারীরা।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে ব্রাজিল মোট ১৪ বার প্রতিপক্ষের প্রথম গোল করার পর ঘুরে দাঁড়িয়ে ম্যাচ জেতার কৃতিত্ব দেখিয়েছে। তবে পরিসংখ্যান বলছে, এর অর্ধেক অর্থাৎ সাতটিই ছিল গ্রুপ পর্বের ম্যাচ। নকআউট বা পরবর্তী রাউন্ডে এমন কামব্যাকের নজির রয়েছে মাত্র সাতটি। এর মধ্যে আবার একটি ছিল ১৯৩৮ সালের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ। ফলে নকআউট পর্বে জয় বা শিরোপা নিশ্চিত করার মতো সফল কামব্যাকের সংখ্যা মোটে ছয়টি। বর্তমান সময়ে জাপানের বিপক্ষে এই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে পুরনো সেই পরিসংখ্যান আবারও সমর্থকদের মনে ভয়ের সঞ্চার করছে।
ব্রাজিলের পাঁচটি বিশ্বকাপ শিরোপার ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, দুটি শিরোপাই এসেছে পিছিয়ে পড়ে ঘুরে দাঁড়িয়ে। ১৯৫৮ সালে সুইডেনের বিপক্ষে ফাইনালে খেলা শুরুর চার মিনিটের মাথায় লিডহোমের গোলে পিছিয়ে পড়ার পর ভাভা, পেলে ও জাগালোর গোলে ৫-২ ব্যবধানের বিশাল জয় পায় ব্রাজিল। এর চার বছর পর ১৯৬২ সালের ফাইনালেও মাসোপুস্টের গোলে চেকোস্লোভাকিয়া এগিয়ে গেলেও আমারিল্ডো, জিতো ও ভাভার দুর্দান্ত নৈপুণ্যে ৩-১ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ব্রাজিল। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে আসার পর বর্তমান প্রজন্মের ফুটবলাররা সেই পুরনো ঐতিহ্যের পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে ইতিহাস বদলাতে পারেন কি না, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
বিডি প্রতিদিন/এনএইচ