মৌলভীবাজার সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পুশইনের চেষ্টা থামছেই না। এক সপ্তাহ ধরে ১৫-২০ বার পুশইনের চেষ্টা করলেও বিজিবির বাধার মুখে তা ব্যর্থ হয়েছে। কয়েক দিনে জেলার বড়লেখা উপজেলার পাল্লাতল, নিউ পাল্লাতল, লাতু, গান্দাইল, বোবারতল ও উত্তর ষাইটঘর সীমান্ত দিয়ে ৩০-৪০ জনকে পুশইনের চেষ্টা চালিয়েছে বিএসএফ। এ অবস্থায় ৫২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের আওতাধীন ১১৪ কিলোমিটার সীমান্তজুড়ে পুশইন ঠেকাতে বিজিবি কঠোর অবস্থান নিয়ে টহল বৃদ্ধি করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভারত সীমান্তের চতুর্দিকে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ, সার্চলাইট স্থাপন ও পর্যবেক্ষণ টাওয়ার নির্মাণ করে বিএসএফ ভারী অস্ত্র, দূরবিক্ষণ যন্ত্র, টেলিযোগাযোগ, পরিবহন সুবিধা বৃদ্ধি করে পুশইনে তৎপরতরা চালাচ্ছে। রাত হলেই সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে মানুষদের জড়ো করে বাংলাদেশের প্রবেশমুখে নো ম্যান্স ল্যান্ডের কাছে জঙ্গলের ভিতর লুকিয়ে রাখছে। পরে গভীর রাতে সুযোগ বুঝে ওইসব মানুষদের বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পুশইনের চেষ্টা চালাচ্ছে। রাতে বিএসএফের সার্চলাইটে সীমান্ত আলোকিত হয়ে উঠছে। আবার পুশইনকালে সেই আলো ক্ষণিকের জন্য বন্ধ রাখা হচ্ছে। এ কারণে পুশইন ঠেকাতে এখন বিএসএফের সার্চলাইটের দিকে বাড়তি নজর দিতে শুরু করেছে বিজিবি। পালাক্রমে ২৪ ঘণ্টা সতর্ক টহল ও পুশইন ঠেকাতে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি)। ৫২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আতাউর রহমান জানান, সীমান্তজুড়ে পুশইন ঠেকাতে বিজিবি আরও কঠোর অবস্থান নিয়ে দিনরাত টহল কয়েক গুণ বৃদ্ধি করেছে। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা, আনসার ও ভিডিপির সঙ্গে সমন্বয় করে সীমান্তবর্তী এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।