দীর্ঘ ২৮ বছর পর বিশ্বকাপের মঞ্চে খেলতে এসেছে আর্লিং হলান্ডের নরওয়ে। শেষবার ১৯৯৮ সালের আসরে খেলেছিলেন তার বাবা। সেবার নরওয়ে রাউন্ড অব ১৬-এ উঠেছিল। দীর্ঘদিন পর বিশ্বমঞ্চে ফিরে এসেছে ভাইকিংসরা। গোলমেশিন হলান্ডের দারুণ পারফরম্যান্সে রাউন্ড অব ৩২-এ উঠেছে নরওয়ে। আজ রাতে শেষ ষোলোয় ওঠার লড়াইয়ে ইউরোপের এ উদীয়মান পরাশক্তির মুখোমুখি হবে আফ্রিকার পরাশক্তি আইভরি কোস্ট। ইতিহাসের পাতায় নাম লিখিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে পা রেখেছে আফ্রিকার ‘দ্য এলিফ্যান্টস’রা। ইকুয়েডরকে ১-০-তে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানির সঙ্গে দারুণ লড়াই করে ২-১ গোলে হেরে যায় আইভরিয়ানরা। পরের ম্যাচে নবাগত কুরাসাও দাঁড়াতে পারেনি তাদের সামনে। ২-০-তে জেতে তারা। অন্যদিকে, গ্রুপ পর্বে হলান্ডের আলোতেই অনেকটা আলোকিত ছিল নরওয়ে। ইরাক ও সেনেগালের বিপক্ষে দুই ম্যাচে জোড়া গোল করেছিলেন এ ফরোয়ার্ড। ফ্রান্সের বিপক্ষে তাকে বিশ্রাম দেন কোচ; ম্যাচটিও নরওয়ে হেরে যায় ৪-১ গোলে। তবে এর আগে বিশ্বকাপে বা আন্তর্জাতিক ম্যাচে মুখোমুখি হওয়ার অভিজ্ঞতা নেই দুই দলেরই। প্রথমবারের মতো খেলবে দুই মহাদেশের পরাশক্তিরা। এ ম্যাচে নরওয়ের আক্রমণভাগে ফিরবেন হলান্ড। ক্ষুধার্ত বাঘের মতোই আইভরি কোস্টের ডিফেন্সে হানা দিতে চাইবেন এ তারকা। মাঝ মাঠে তাকে নিখুঁত বল জোগাতে প্রস্তুত অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ড।
তবে উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর ম্যাট সামনে রেখে দলটির কোচ আইমার্স ফাই বলেছেন, হলান্ডের আলোটুকু কেড়ে নিতে চান তারা। ২৪ বছর বয়সি ফরোয়ার্ডকে আটকে রাখার সামর্থ্য আছে আইভরিয়ানদের রক্ষণের। বিশেষ করে, তাদের রক্ষণে আছেন উসমানে ডায়মন্ডে। এ ছাড়া দ্য এলিফ্যান্টদের আক্রমণভাগও বেশ শক্তিশালী। ইয়ান ডায়মন্ডে, কুরাসাওয়ের বিপক্ষে জোড়া গোল করা নিকোসাস পেপে, ইকুয়েডরের বিপক্ষে একমাত্র গোলটি করা আমাদ জিয়ালো আছেন। নরওয়ের আক্রমণভাগ যতটাই ধারালো, তাদের রক্ষণভাগ ঠিক ততটাই নড়বড়ে। শেষ ১০ ম্যাচের মাত্র একটিতে ক্লিন শিট রাখতে পেরেছে তারা। তবে আইভরি কোস্টের লক্ষ্য থাকবে নরওয়ের এই দুর্বল জায়গায় আঘাত করা। তবে উইলফ্রেড সিঙ্গোর ইনজুরি কিছুটা ভাবাচ্ছে আফ্রিকান শিবিরকে। এ ট্যাকটিক্যাল দ্বৈরথে যারা স্নায়ুচাপ ধরে রাখতে পারবে, শেষ ১৬-এর টিকিট কাটবে তারাই। ডালাসের সবুজ গালিচায় আজ আফ্রিকার হাতির গর্জন শোনা যাবে নাকি ভাইকিংদের জয়ের কেতন উড়বে।