মহাকাশের এক বিরাট রহস্যের সমাধান হতে চলেছে। পৃথিবীতে একটি রহস্যময় কণা ধরা পড়েছিল। একে বলা হয় ‘ভুতুড়ে কণা’। বিজ্ঞানীরা অবশেষে এর সম্ভাব্য উৎস খুঁজে পেয়েছেন।
এই কণাটি এসেছে প্রায় ১১০০ কোটি আলোকবর্ষ দূরের এক গ্যালাক্সি থেকে। বিজ্ঞানীরা এই গ্যালাক্সির নাম দিয়েছেন ‘শ্যাডো ব্লাস্টার’। তারা মনে করছেন, এই গ্যালাক্সি থেকেই কণাটি পৃথিবীর দিকে ছুটে এসেছে।
এই কণাগুলোর আসল নাম নিউট্রিনো। এদের কোনো বৈদ্যুতিক চার্জ নেই। এদের ভরও খুব সামান্য। এরা অন্য কোনো পদার্থের সাথে একেবারেই মিশতে চায় না। তাই এদের ‘ভুতুড়ে কণা’ বলা হয়। মহাকাশে তারার বিস্ফোরণ বা এ ধরনের বড় ঘটনা থেকে এগুলো তৈরি হয়।
অ্যান্টার্কটিকার বরফের নিচে একটি বিশেষ যন্ত্র আছে। এর নাম আইসকিউব নিউট্রিনো মানমন্দির। এই যন্ত্রে ভুতুড়ে কণা ধরা পড়ে। কিন্তু এগুলো ঠিক কোথা থেকে আসে, তা বের করা বিজ্ঞানীদের জন্য খুব কঠিন একটি কাজ ছিল।
২০২১ সালে আইসকিউব যন্ত্রে একটি খুব শক্তিশালী নিউট্রিনো ধরা পড়ে। গবেষক ড. ইউজি উরাতা এবং তার দল এটি নিয়ে গবেষণা শুরু করেন। তিনি জানান, এই কণাগুলো মহাকাশে কোনো বাধা ছাড়াই ভ্রমণ করতে পারে। তাই এদের উৎস বের করা কঠিন।
তবে এবার বিজ্ঞানীরা একটি দারুণ সুযোগ পেয়ে যান। ভুতুড়ে কণাটি পৃথিবীতে ধরা পড়ার পরপরই ‘শ্যাডো ব্লাস্টার’ গ্যালাক্সিটি হঠাৎ উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। এই ঘটনা থেকেই বিজ্ঞানীরা বুঝতে পারেন কণাটি সম্ভবত ওই গ্যালাক্সি থেকেই এসেছে।
পরে হাওয়াই দ্বীপের শক্তিশালী টেলিস্কোপ ব্যবহার করে বিজ্ঞানীরা ওই গ্যালাক্সিটি পর্যবেক্ষণ করেন। আর এভাবেই রহস্যময় এই ভুতুড়ে কণার সম্ভাব্য ঠিকানা খুঁজে পান তারা।
বিডিপ্রতিদিন/কেকে