গ্রীষ্মের প্রথম পূর্ণিমার চাঁদ এখন আকাশে। চমৎকার এই চাঁদের নাম দেওয়া হয়েছে ‘স্ট্রবেরি মুন’। আজ মঙ্গলবার রাতেও আকাশ আলোকিত করে রাখবে এই অপরূপ চাঁদ।
যুক্তরাষ্ট্রের ইস্টার্ন সময় (ET) অনুযায়ী, সোমবার রাত ৭টা ৫৭ মিনিটে চাঁদটি সবচেয়ে বেশি উজ্জ্বল ছিল। বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী সেই সময়টি ছিল আজ মঙ্গলবার ভোর ৫টা ৫৭ মিনিট। তখন এটি তার সর্বোচ্চ আলো ছড়িয়েছে। তবে আজ মঙ্গলবার রাতেও রাতের আকাশে এই চাঁদের অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করা যাবে।
উত্তর গোলার্ধে এই চাঁদটি এ বছরের সবচেয়ে নিচু পথ ধরে আকাশে উঠবে। আর দক্ষিণ গোলার্ধে এটি চলবে সবচেয়ে উঁচু পথ ধরে।
এবারের ‘স্ট্রবেরি মুন’ পৃথিবী থেকে সবচেয়ে দূরে অবস্থান করছে। তাই বিজ্ঞানীরা একে ‘মাইক্রোমুন’ বলছেন। এটি ২০২৬ সালের দ্বিতীয় ক্ষুদ্রতম চাঁদ। তবে চাঁদটি কিছুটা ছোট হলেও খালি চোখে এই পার্থক্য খুব একটা বোঝা যায় না।
চাঁদটি ভালোভাবে দেখার জন্য বিজ্ঞানীরা একটি পরিষ্কার ও অন্ধকার জায়গা বেছে নিতে বলেছেন। তারা জানান, বড় দালান বা গাছপালার বাধা নেই—এমন জায়গা থেকে চাঁদটি সবচেয়ে ভালো দেখা যাবে।
চাঁদের এই ‘স্ট্রবেরি’ নামটি দিয়েছে আমেরিকার আদিবাসী আলগনকুইন উপজাতিরা। বছরের এই সময়ে তারা স্ট্রবেরি বা বেরি জাতীয় ফল ঘরে তুলত বলে চাঁদের এমন নাম দেওয়া হয়েছে।
অনেকেই ভাবতে পারেন চাঁদের রঙ হয়তো সত্যিই বদলে যায়। আসলে চাঁদের আসল রঙ কখনো বদলায় না। সূর্যের আলো চাঁদে পড়ে পৃথিবীতে আসার সময় আমাদের বায়ুমণ্ডল পার হয়ে আসে। বায়ুমণ্ডলের অবস্থা ও বায়ু দূষণের কারণে আমাদের চোখে চাঁদের রঙে এমন পরিবর্তন দেখা যায়।
সামনেই নাসার ‘আর্টেমিস’ মিশনের মাধ্যমে চাঁদে আবার মানুষ পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। তাই চাঁদ দেখা নিয়ে এখন বিজ্ঞানীদের বেশ আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এ বছর আরও ছয়টি পূর্ণিমার চাঁদ দেখা যাবে। বাকি পূর্ণিমাগুলো হলো: ২৯ জুলাই: বাক মুন, ২৮ আগস্ট: স্টারজন মুন, ২৬ সেপ্টেম্বর: হারভেস্ট মুন, ২৬ অক্টোবর: হান্টারস মুন, ২৪ নভেম্বর: বিভার মুন, ২৩ ডিসেম্বর: কোল্ড মুন
বিডিপ্রতিদিন/কেকে