দীর্ঘ প্রায় দুই বছর পর ২৮ জুন থেকেই বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভারতীয় ট্যুরিস্ট ভিসা আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। সরকারের এ সিদ্ধান্তে পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের হিলি চেকপোস্টে আনন্দের জোয়ার বইছে। সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দা, ব্যবসায়ী এবং চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশ থেকে আসা রোগীদের স্বজনরা এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান। একই চিত্র রাজ্যটির নদীয়া জেলার গেদে স্থল সীমান্তেও। একটা সময় দিনে কয়েক হাজার বাংলাদেশি পর্যটক আসত ভারতে। কিন্তু গত দুই বছরে কেবল মেডিকেল ভিসা চালু থাকায় সেই সংখ্যাটা কয়েকগুণ কমেছে। এ সময় হিলি কিংবা গেদে দুই সীমান্তের ব্যবসায়ীরা অত্যন্ত কঠিন সময় পার করেছেন। ব্যবসায় মন্দার কারণে বিকল্প আয়ের পথ বেছে নিতে হয়েছে অনেককে। পুনরায় ট্যুরিস্ট ভিসা চালুর সিদ্ধান্তে একদিকে যেমন পুনরায় বাংলাদেশ থেকে পর্যটক আসার সংখ্যা বাড়বে, তেমনি উভয় সীমান্ত এলাকার ব্যবসা, বাণিজ্যের উন্নতি ঘটবে বলে প্রত্যাশা ব্যবসায়ীদের। ভারতের হিলি সীমান্তের ব্যবসায়ী অংশুমান সাহা বলেন, ‘ট্যুরিস্ট ভিসা পুনরায় চালু হলে আশা করা যাচ্ছে ব্যবসার পরিস্থিতি আগের থেকে অনেকটাই ভালো হবে।
আগে প্রতিদিন সীমান্ত দিয়ে ৭০০ থেকে ৮০০ মানুষ বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে যাতায়াত করত ভিসা নিয়ে। বিগত দুই বছর ধরে ভারত শুধু বাংলাদেশিদের জন্য মেডিকেল ভিসা দিচ্ছিল। যার ফলে এ সংখ্যাটা কমে এসেছিল মাত্র ১৫০ থেকে ২০০ এর মধ্যে। আমার প্রত্যাশা পর্যটক ভিসা চালুর ফলে আমাদের জেলার সীমান্ত এলাকায় ব্যবসা-বাণিজ্য আবার পুনরায় উন্নতি ঘটবে।’ বাংলাদেশের দিনাজপুর জেলা থেকে ভারতে চিকিৎসা করতে আসা সাদিয়া নামে এক বাংলাদেশি তরুণী বলেন, ‘এটা আমাদের কাছে একটা অনেক ভালো লাগার বিষয় কারণ দীর্ঘ দুই বছর পর ট্যুরিস্ট ভিসা ফের চালু হতে চলেছে। আমি নিজেও মেডিকেল ভিসা নিয়ে চিকিৎসা করার জন্য ভারতে প্রবেশ করেছি। ব্যাঙ্গালোরে চিকিৎসা করিয়ে এবার বাড়ি ফিরে যাচ্ছি। আশা করি সামনের বার যখন আসব তখন মেডিকেল ভিসা নয়, সরাসরি ট্রাভেল ভিসা নিয়ে ভারতে প্রবেশ করতে পারব।’ বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময়কেন্দ্রের মালিক দীনবন্ধু হালদার জানান, ‘ওই সিদ্ধান্তে দুই দেশের সম্পর্ক ভালো হবে। আর্থিক দিক দিয়ে এ স্থলবন্দরের উন্নতি হবে। কারণ গত দুই বছর ধরে এটা স্তব্ধ হয়ে পড়েছিল। তা ছাড়া ভিসা কম হওয়ার কারণে চিকিৎসা পরিষেবা থেকেও বাংলাদেশিরা বঞ্চিত হচ্ছিল। ট্যুরিস্ট ভিসা চালু হলো, আশা করা হচ্ছে অন্য ভিসাও চালু হবে।’