এবারের বিশ্বকাপে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে দাপটের সঙ্গে শেষ ৩২-এ পা রেখেছে ২০২২ বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। কিন্তু এখন থেকে আর কোনো ভুলের সুযোগ নেই। একটাই ম্যাচ, হারলেই বাদ।
এমন রুদ্ধশ্বাস মঞ্চের সামনে দাঁড়িয়ে আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি স্পষ্ট করেই বললেন, ‘আমরা ভালো করছি, তবে এখন বিশ্বকাপের নতুন এক অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে। আসল রোমাঞ্চ তো এখন শুরু।’
জর্ডানের বিপক্ষে দাপুটে জয়ের পর স্কালোনির এই মন্তব্য কেবলই এক চিলতে উল্লাস নয়, নকআউট পর্বের কঠিন বাস্তবতার নিখুঁত সারসংক্ষেপ। আগামী শুক্রবার শেষ বত্রিশের ম্যাচে আফ্রিকার বিস্ময় কেপ ভার্দের মুখোমুখি হবে আলবিসেলেস্তেরা। আর এই ম্যাচ দিয়েই সম্পূর্ণ বদলে যাচ্ছে টুর্নামেন্টের প্রেক্ষাপট ও স্কালোনির রণকৌশল।
এবারের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার প্রথম লক্ষ্যটা বেশ পরিষ্কার ছিল—গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়া এবং নকআউটের জন্য দলের মূল কাঠামোর ক্লান্তিহীন একটা ভিত তৈরি করা। স্কালোনির শিষ্যরা সেই লক্ষ্য পূরণ করেছেন শতভাগ নম্বর পেয়ে। গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচই জিতেছেন অনায়াসে, খেলোয়াড়দের ওপর অতিরিক্ত কাজের চাপ পড়তে দেননি এবং দলের ব্যাক-আপ বেঞ্চটাকেও ঝালিয়ে নিয়েছেন।
কিন্তু স্কালোনি নিজেই মনে করিয়ে দিয়েছেন, সেই টুর্নামেন্ট এখন অতীত। শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া নতুন এই টুর্নামেন্টে ঘুরে দাঁড়ানোর আর কোনো সুযোগ থাকবে না। ভুল শুধরে নেওয়ার জন্য পরের কোনো ম্যাচ বা পয়েন্টের হিসাব-নিকাশ থাকবে না। প্রতিটি ম্যাচই একেকটি ফাইনাল।প্রথম পর্বে স্কালোনি দলের তারকাদের বিশ্রাম দিতে পেরেছিলেন, পরিস্থিতি অনুযায়ী পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন। কিন্তু নকআউট পর্বে প্রতিপক্ষ এবং তাৎক্ষণিক প্রয়োজনের ওপর ভিত্তি করেই দল সাজাতে হবে। কেপ ভার্দের বিপক্ষে পূর্ণ শক্তির মূল দল নিয়েই মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা।
মাঠের বাইরের পরিকল্পনাতেও স্থায়িত্ব খুঁজছে আর্জেন্টিনা দল। পুরো টুর্নামেন্টে ক্যানসাসকেই নিজেদের মূল ঘাঁটি বানিয়ে প্রস্তুতি সারছে তারা। কোয়ার্টার ফাইনাল টপকাতে পারলে তবেই কেবল শেষ চার ও ফাইনালের জন্য দলটি আটলান্টায় পাড়ি জমাবে।
গ্রুপ পর্বে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা লিওনেল মেসির নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা দল এখন দারুণ আত্মবিশ্বাসী। রক্ষণভাগও জমাট। তবে স্কালোনির জন্য একমাত্র মধুর সমস্যা এখন দলের আক্রমণভাগ নিয়ে। শুক্রবারের ম্যাচে মেসির পাশে কে খেলবেন—লাউতারো মার্তিনেজ নাকি হুলিয়ান আলভারেজ? দুর্দান্ত ফর্মে থাকা লাউতারো অবশ্য এই দৌড়ে কিছুটা এগিয়ে আছেন। চোট কাটিয়ে দলের নির্ভরযোগ্য ডিফেন্ডার ক্রিস্তিয়ান রোমেরো অনুশীলনে ফিরলেও কেপ ভার্দে ম্যাচে তার খেলা নিয়ে এখনও কিছুটা সংশয় রয়েছে।
নকআউট পর্বের ম্যাচে বড়-ছোট দল বলে কিছু নেই। যেখানে একটা ছোট ভুল, একটা সেট-পিস কিংবা টাইব্রেকার পুরো ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দিতে পারে। জার্মানিকে বিদায় করে প্যারাগুয়ের দেওয়া স্তব্ধ করে দেওয়া ধাক্কাই এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ।
কাগজে-কলমে আর্জেন্টিনার সামনে কেপ ভার্দে হয়তো খুব বড় নাম নয়, তবে এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম বড় চমক এই আফ্রিকান দলটি। স্কালোনির আর্জেন্টিনা ভালো করেই জানে, বিশ্বকাপের ইতিহাস এমন সব ট্রাজেডিতে ভরা, যেখানে অতীত পারফরম্যান্সের কোনো মূল্য থাকে না, যদি না নির্দিষ্ট দিনে নিজেদের সেরাটা ঢেলে দেওয়া যায়।
বিডি প্রতিদিন/নাজিম