ঢাকার কেরানীগঞ্জে ঘাটারচর এলাকায় একটি কুরিয়ার সার্ভিসের গাড়ি হারানো ও চালককে মারধরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে শ্রমিক ও চালকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে শ্রমিক ও পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল কুদ্দুসসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
সোমবার মধ্যরাতে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ঘাটারচর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার সকালেও কুরিয়ার সার্ভিসটির কার্যালয়ের সামনে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করে। বিচার দাবিতে অনেক শ্রমিক কাজে যোগ না দিয়ে সড়কে অবস্থান নেন।
শ্রমিকদের অভিযোগ, সোমবার সন্ধ্যায় ওই কুরিয়ার সার্ভিসের চালক শাহ আলম একটি গাড়ি নিয়ে ঘাটারচর এলাকা থেকে বের হন। পথে নাস্তা করতে গিয়ে গাড়িটি হারিয়ে ফেলেন। পরে তিনি কোম্পানির কার্যালয়ে গিয়ে জিপিএস ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে গাড়িটি শনাক্ত করার অনুরোধ করলে প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন কর্মকর্তা তার কথা বিশ্বাস না করে তাকে মারধর করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
এ ঘটনার প্রতিবাদে ওই কুরিয়ার সার্ভিস প্রতিষ্ঠানটির শ্রমিক ও চালকরা কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা সড়ক অবরোধের চেষ্টা করে। সেখানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে কয়েকটি যানবাহনে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
খবর পেয়ে কেরানীগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলে বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওসি রুহুল কুদ্দুস, এসআই মামুন, মোহাম্মদ সোহাগ, কনস্টেবল জয়নাল, পথচারী ও শ্রমীকসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
শ্রমিক প্রতিনিধি আনোয়ার ও চালক রুবেল বলেন, চালক শাহ আলমের ওপর হামলার সুষ্ঠু বিচার এবং দোষীদের শাস্তির দাবিতে আমরা আন্দোলন করছি। বিচার না হওয়া পর্যন্ত অনেক শ্রমিক কাজে ফিরববো না।
কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওসি রুহুল কুদ্দুস বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করি। এ সময় উত্তেজিত শ্রমিকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে আমিসহ আমার এসআই মামুন, সোহাগ ও কনস্টেবল জয়নাল, শ্রমিক ও পথচারী মিলিয়ে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় থানায় চালক শাহালমের স্ত্রী ময়না আক্তার বাদী হয়ে ও আটি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. জলিল বাদী হয়ে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছে।
বিডি প্রতিদিন/নাজিম