বিশ্বকাপে বড় অঘটন ঘটিয়েছে প্যারাগুয়ে। রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচে ফুটবল পরাশক্তি জার্মানিকে টাইব্রেকারে হারিয়ে শেষ ষোলোতে জায়গা করে নিয়েছে লাতিন আমেরিকার দেশটি। আর এই ঐতিহাসিক জয়ের অন্যতম নায়ক হয়ে উঠেছেন গোলকিপার অরল্যান্ডো গিল।
১২০ মিনিটের কঠিন লড়াই শেষে ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে, যেখানে একের পর এক দুর্দান্ত সেভ করে দলকে জয় এনে দেন গিল। তার অসাধারণ পারফরম্যান্সেই ১৬ বছর পর আবারও বিশ্বকাপের শেষ ১৬-এ পৌঁছে যায় প্যারাগুয়ে।
তবে মাঠের নায়ক হওয়ার গল্প শুরু হয়েছে আরও অনেক আগেই। জীবনের কঠিন এক অধ্যায় পেরিয়ে আজকের এই অবস্থানে পৌঁছেছেন গিল। সন্তানের জন্মের সময় চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে নিজের ফুটবল বুট, ট্রেনিং সামগ্রী এবং অনূর্ধ্ব-২০ জাতীয় দলের জার্সি পর্যন্ত বিক্রি করতে হয়েছিল তাকে। সেই ত্যাগ ও সংগ্রামের পথ পেরিয়েই আজ তিনি বিশ্বমঞ্চে আলোচনার কেন্দ্রে।
ক্লাব ফুটবলে আর্জেন্টিনার সান লরেঞ্জো দে আলমাগ্রোর হয়ে খেলেন ২৬ বছর বয়সী এই গোলকিপার। জাতীয় দলের জার্সিতে এটি ছিল তার ১০তম ম্যাচ। বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত প্যারাগুয়ের তিনটি ম্যাচেই প্রথম একাদশে ছিলেন তিনি।
গ্রুপ পর্বে আমেরিকার বিপক্ষে চার গোল হজম করলেও পরের দুই ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া ও তুরস্কের বিপক্ষে দারুণ নৈপুণ্য দেখান গিল, দুটি ম্যাচেই ক্লিন শিট রাখেন তিনি। ধারাবাহিক পারফরম্যান্সই তাকে নকআউটে দলের প্রধান ভরসায় পরিণত করে।
জার্মানির বিপক্ষে ম্যাচে ইতিহাস গড়ে প্যারাগুয়ে। এর আগে টাইব্রেকারে কখনো না হারার রেকর্ড থাকা জার্মানি শেষ পর্যন্ত গিলের সামনে দাঁড়াতে পারেনি। তার একের পর এক সেভেই ভেঙে যায় ইউরোপিয়ান জায়ান্টদের স্বপ্ন।
বিডি প্রতিদিন/এম.এস