বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের দাপুটে পারফরম্যান্সের পর এবার নকআউটের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে নামছে ফ্রান্স। নকআউটের নকশায় সাধারণত অনেক কোচই রক্ষণাত্মক বা সাবধানী কৌশলে দল সাজাতে পছন্দ করেন, তবে ফরাসি কোচ দিদিয়ের দেশম হাঁটছেন সম্পূর্ণ ভিন্ন পথে। সুইডেনের বিপক্ষে শেষ বত্রিশের মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, নিজেদের চেনা ছক থেকে সরবেন না তারা; বরং মাঠের লড়াইয়ে আগ্রাসী ফুটবলই খেলবে গত আসরের রানার্সআপরা।
উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় ওঠার এই লড়াইয়ে আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় রাত ৩টায় নিউইয়র্কে মুখোমুখি হচ্ছে দল দুটি। কিলিয়ান এমবাপ্পে, মাইকেল ওলিসে এবং উসমান দেম্বেলেকে নিয়ে গড়া ফ্রান্সের আক্রমণভাগ যেকোনো রক্ষণের জন্যই এক বড় আতঙ্কের নাম। গ্রুপ পর্বে প্রতিপক্ষের জালে রীতিমতো ঝড় তুলে তিন ম্যাচে ১০টি গোল করেছে ফরাসিরা। যেখানে এমবাপে ও দেম্বেলে রয়েছেন দুর্দান্ত ফর্মে। অতীতের পরিসংখ্যানও বলছে, ২০১৮ সালের শিরোপা জয় কিংবা ২০২২ সালের ফাইনাল সবখানেই নকআউট পর্বে গোলবন্যার ইতিহাস রয়েছে দলটির। দেশম মনে করেন, প্রতিপক্ষকে আক্রমণে ধসিয়ে দেওয়ার এই শক্তিটাই তাদের সবচেয়ে বড় অস্ত্র এবং যেকোনো মূল্যে তারা এই ধারা বজায় রাখতে চান।
অন্যদিকে, বেশ কঠিন সমীকরণ মিলিয়ে নকআউটে পা রেখেছে সুইডেন। গ্রুপ পর্বে তিউনিসিয়াকে বড় ব্যবধানে হারালেও নেদারল্যান্ডসের কাছে বড় ধাক্কা খেয়েছিল তারা। শেষ পর্যন্ত জাপানের সাথে ড্র করে তৃতীয় সেরা দলগুলোর একটি হয়ে শেষ বত্রিশ নিশ্চিত করে সুইডিশরা। ফ্রান্সের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হওয়ার আগে সুইডেন কোচ গ্রাহাম পটার বাস্তববাদী। তিনি অকপটে স্বীকার করেছেন, ডাচদের বিপক্ষে ম্যাচ থেকে শিক্ষা নিয়ে তাদের খেলায় অনেক উন্নতি করতে হবে। ফরাসিদের রুখে দিতে হলে সুইডেনকে তাদের ইতিহাসের সেরা ফুটবলটাই খেলতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন পটার। এখন দেখার বিষয়, দেশমের আগ্রাসী কৌশলের সামনে পটারের সুইডেন কতটুকু প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে।
বিডি প্রতিদিন/এনএইচ