১৯৩০ থেকে ২০২৬; মাঝের এই দীর্ঘ ৯৬টি বছরে বিশ্বকাপ ফুটবলের আঙিনায় অনেক রোমাঞ্চকর দ্বৈরথ দেখেছে বিশ্ব। কিন্তু ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম দুই পরাশক্তি ফ্রান্স ও সুইডেনের কখনো বৈশ্বিক এই মহোৎসবে একে অপরের মুখোমুখি হওয়া হয়নি। অবশেষে কাটতে যাচ্ছে প্রায় এক শতাব্দীর সেই দীর্ঘ অপেক্ষা। উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশের নকআউট ম্যাচে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে এই দুই দল। মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় রাত ৩টায় নিউ ইয়র্কের মাঠে অবসান ঘটবে অলিখিত এই ইঁদুর-বেড়াল খেলার।
অথচ ফুটবল ইতিহাসের পাতা ওল্টালে দেখা যায়, ১৯৫৮ সালের বিশ্বকাপেই এই দুই দলের মুখোমুখি হওয়ার সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। সেবার ঘরের মাঠে সুইডেন পশ্চিম জার্মানিকে হারিয়ে ফাইনালে উঠলেও, জুস্ত ফঁতেন ও রেমঁ কোপাদের ফ্রান্স সেমিফাইনালে পেলের ব্রাজিলের কাছে ৫-২ ব্যবধানে হেরে বিদায় নেয়। ফলে স্টকহোমের সেই স্বপ্নের ফাইনাল আর দেখা হয়নি ফুটবলপ্রেমীদের। এর আগে ১৯৫০ সালের ব্রাজিলেও লড়তে পারত দুই দল, কিন্তু শেষ মুহূর্তে ফ্রান্স নাম প্রত্যাহার করে নেওয়ায় তা ভেস্তে যায়। এমনকি ১৯৯৪ সালেও সুইডেন যখন মূল পর্বে দারুণ খেলছিল, তখন বাছাইপর্বে বুলগেরিয়ার কাছে হেরে ছিটকে গিয়েছিল ফরাসিরা। আবার ফ্রান্স যখন ১৯৯৮ বা ২০২২ সালের ফাইনালে খেলেছে, সুইডেন তখন মূল পর্বেরই টিকিট কাটতে পারেনি। আর ২০০৬ ও ২০১৮ সালে দুই দল এক বিশ্বকাপে থাকলেও ভাগ্যের ফেরে গ্রুপ ছিল আলাদা।
বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা না হলেও ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ কিংবা বাছাইপর্বে অবশ্য তাদের নিয়মিত সাক্ষাৎ হয়েছে। ১৯৯২ সালের ইউরোতে ১-১ ড্রয়ের পর, ২০১২ সালের ইউরোতে জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচের সেই বিখ্যাত দৃষ্টিনন্দন ভলিতে ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়েছিল সুইডেন। বড় কোনো টুর্নামেন্টে সেটিই ছিল তাদের শেষ ম্যাচ। এরপর ২০১৮ সালের বিশ্বকাপ বাছাই পর্বেও দুই দল নিজেদের মাঠে একে অপরকে হারিয়েছিল।
এবারের লড়াইয়ে অবশ্য শক্তিমত্তার বিচারে দুই দল দাঁড়িয়ে আছে দুই ভিন্ন মেরুতে। দিদিয়ে দেশমের অধীনে ফ্রান্স গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচের সবকটিতে জিতে, প্রতিপক্ষের জালে ১০ গোল দিয়ে দাপটের সাথে নকআউটে এসেছে। অন্যদিকে গ্রাহাম পটারের সুইডেন কোনো রকমে তৃতীয় সেরা আট দলের একটি হয়ে শেষ বত্রিশে জায়গা করে নিয়েছে। সাবেক সুইডিশ তারকা ইব্রাহিমোভিচও অকপটে স্বীকার করেছেন যে, এই ফ্রান্স অন্য স্তরের ফুটবল খেলছে এবং তাদের হারানো ভীষণ কঠিন। তবে ফরাসি কোচ দেশোঁ মোটেও হালকাভাবে নিচ্ছেন না সুইডিশদের। বিশেষ করে সুইডেনের বর্তমান কোচিং স্টাফ সেবাস্তিয়ান লারসনকে নিয়ে সতর্ক তিনি, যার গোলে ২০১২ সালে হেরেছিল ফ্রান্স। লারসনও অতীত ইতিহাসের অনুপ্রেরণা টেনেই নিজের দলকে লড়ার সাহস জোগাচ্ছেন। কাগজে-কলমে ফেভারিটের তকমা ফ্রান্সের গায়ে থাকলেও ফুটবল যে সবসময় চেনা চিত্রনাট্য মেনে চলে না, তা ইতিহাস বারবার প্রমাণ করেছে। তাই শতাব্দী প্রাচীন এই দ্বৈরথ ঘিরে ফুটবল বিশ্বে এখন টানটান উত্তেজনা।
বিডি প্রতিদিন/এনএইচ