Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শনিবার, ১৮ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৭ জুন, ২০১৬ ২৩:৫৭
ইফতার ও সাহরীতে যা খাবেন
ডা. এম শমশের আলী
ইফতার ও সাহরীতে যা খাবেন

পবিত্র রমজান মাসে রোজা রাখা বিশ্বের সব সুস্থ-সামর্থ্যবান মুসলমানের জন্য ফরজ। তবে এটাও মনে রাখতে হবে, ইসলাম ধর্ম অসুস্থ ব্যক্তির রোজা রাখাকে অনুমোদন দেয়নি। ধর্মীয় পণ্ডিত ব্যক্তিরা বলে থাকেন, একজন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ যখন যথাযথভাবে যাচাই করে মতামত দিয়ে থাকেন যে, রোজা রাখলে কারও সে ধরনের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে (অসুস্থতা বেড়ে যাওয়া কিংবা জীবন সংকটাপন্ন হওয়া) তাহলে সেই ব্যক্তি রোজা রাখা থেকে বিরত থাকতে পারেন।

ছোট শিশু ও রোগাক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য রোজা ফরজ নয়, যদি রোজার কারণে তার অসুস্থতার তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ার ঝুঁকি থাকে। হৃদরোগীদের চিকিৎসার হাতিয়ার হিসেবে আমরা চিকিৎসকরা অনেক ধরনের মেডিসিন ব্যবহার করে থাকি। রোজা রাখার ফলে যদি আমরা বিবেচনা করি যে এসব মেডিসিন গ্রহণের যে বিচ্যুতি হবে, তাতে রোগীর অসুস্থতা বৃদ্ধি পাবে। হৃদরোগীদের বেলায় আরও কিছু বাড়তি সতর্কতা হিসেবে রোগীর রক্তের সুগার কন্ট্রোল, কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ অতীব জরুরি। রোজাদারদের বেশ কিছু খাদ্য গ্রহণের প্রতি সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। অনেক রোজাদার রমজান মাসে তাদের কায়িক শ্রমের পরিমাণ অনেকাংশে কমিয়ে দিয়ে কিছুটা অলস জীবনধারা পালন করতে থাকেন, যা আপনার সুস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর বৈকি। রমজানে বছরের অন্যান্য সময়ের মতো কর্মচাঞ্চল্যতা বজায় রাখতে হবে। রমজান মাসে রোজদাররা অন্য সময়ের চেয়ে একটু বেশি ও শক্তিদায়ক খাদ্যবস্তু দ্বারা আহার সম্পন্ন করে থাকেন। তেল, চিনি, মিষ্টি ও পাকাজাতীয় ফলে ক্যালরির (শক্তির) পরিমাণ বেশি থাকায় এসব খাদ্যবস্তু অধিক পরিমাণ গ্রহণ করলে ওজন বৃদ্ধি ঘটে থাকে। তাই রমজান মাসে খাদ্যবস্তু গ্রহণে একটু হিসাবী হলে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। ইফতারের সময় বেশি করে পানি গ্রহণ স্বাস্থ্যসম্মত। এছাড়া ইফতারে থাকতে হবে শসা, খিরা, পেয়ারা, তরমুজ, টমেটো, নাশপাতির মতো ফল। এছাড়া বেশি পরিমাণে তৈলাক্ত খাদ্যবস্তু, মুড়ি, জিলাপি, ফিরনি, পায়েস, পাকা আম, কাঁঠাল ইত্যাদির পরিমাণ একটু কম করে গ্রহণ করতে হবে। রাতের খাবার সহজপাচ্য হওয়া বাঞ্ছনীয়, কারণ রাতের খাবার ও সাহরীর মাঝে সময় খুব কম হওয়ায় সহজপাচ্য খাদ্য গ্রহণের ফলে সাহরীর খাবারের সময় ক্ষুধা থাকে এবং একটু বেশি পরিমাণ খাদ্য গ্রহণ করা যায়। রাতের খাবারে ভাত, মাছ, সবজি ও ডালজাতীয় খাদ্য স্বাস্থ্যসম্মত। রাতের খাবার রাত ১০-১১টার মধ্যে খেয়ে ফেলা ভালো। সাহরীর খাবার একটু দেরিতে গ্রহণ করা ভালো। সাহরিতে এমন ধরনের খাদ্য গ্রহণ করা উচিত যেসব খাবার হজম হতে বেশি সময় নেয়, যেমন- মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, ডালজাতীয় খাদ্যবস্তু। রোজা হচ্ছে বাড়তি ওজনসম্পন্ন লোকদের জন্য ওজন কমানোর উপায়। কিন্তু অতিভোজনের কারণে সে উদ্দেশ্য অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। রোজায় দীর্ঘ সময় উপবাস থাকতে হয় বলে সাহরীতে কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট বা জটিল শর্করা গ্রহণ করা উচিত। এই জটিল শর্করা ধীরগতিতে হজম হয় এবং হজম হতে প্রায় আট ঘণ্টা সময় লাগে। ফলে দিনের বেলায় ক্ষুধা কম অনুভূত হয়। জটিল শর্করা জাতীয় খাবারের মধ্যে রয়েছে শস্যদানা, অপরিশোধিত বা নন-রিফাইনড আটা, ময়দা এবং ঢেঁকিছাঁটা চাল।

লেখক : সিনিয়র কনসালট্যান্ট (কার্ডিওলজি)

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং মুন ডায়াগনস্টিক সেন্টার, শ্যামলী, ঢাকা।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow