জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) নির্বাচনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী শুক্রবার (২৯ আগস্ট) বিকাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হয়েছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নির্দেশনা অমান্য করে হলে হলে এখনো অবস্থান করছেন মেয়াদোত্তীর্ণ শিক্ষার্থী।
জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সম্প্রতি এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে মেয়াদোত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের হলে না থাকার নির্দেশ দিয়েছে। এতে যেসকল শিক্ষার্থীদের ইতোমধ্যে স্নাতকোত্তর পরীক্ষা সমাপ্ত হয়েছে তাদেরকে ২৯ আগস্ট থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো আবাসিক হলে অবস্থান না করার নির্দেশ প্রদান করে।
এর আগে, গত ১০ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ১৬ আগস্ট বিকেলের মধ্যে সকল মেয়াদোত্তীর্ণ শিক্ষার্থীকে হল থেকে বের হতে নির্দেশ দেয়। পরদিন রাতে আ ফ ম কামাল উদ্দিন হলে অভিযান চালিয়ে কিছু কক্ষ সিলগালা করা হলেও শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের কাজে বাধা দেন। এমনকি তালা ভেঙে পুনরায় রুমে প্রবেশের ঘটনাও ঘটে।
হল প্রশাসনের সূত্রে জানা যায়, ২০১৫–২০১৬ ও ২০১৬–২০১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা নোটিশ পাওয়ার পর হল থেকে চলে গেলেও ২০১৭–২০১৮ ও ২০১৮–২০১৯ শিক্ষাবর্ষের অনেক শিক্ষার্থী এখনো হলে অবস্থান করছেন। তাদের দাবি, দেরিতে সিট পাওয়া বা দীর্ঘদিন গণরুমে থাকার কারণে তারা আরও কিছুদিন হলে থাকতে চান। গত ২৫ আগস্ট উপাচার্যের নেতৃত্বে প্রশাসনের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকেও তারা অন্তত অক্টোবর পর্যন্ত হলে থাকার অনুমতি চান। তবে তারা আশ্বাস দেন যে নির্বাচনী প্রচারণাকালে হলে অবস্থান করবেন না।
জাকসুতে প্রার্থীদের অভিযোগ, প্রশাসন কেবল দায়সারা বিজ্ঞপ্তি দিয়েই দায়িত্ব শেষ করছে, বাস্তবে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না। ফলে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে দেখা দিয়েছে শঙ্কা।
শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর বলেন, “মেয়াদোত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের হলে রেখে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। তাদের হল থেকে বের করে দেওয়ার দায়িত্ব প্রশাসনের, আমাদের নয়। আমরা কেবল প্রশাসনকে বলতে পারি। নির্বাচনের আগে অবশ্যই মেয়াদোত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের হলে থেকে বের করতে হবে।”
একই সুরে শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মহিবুর রহমান মুহিব বলেন, “প্রশাসনের কার্যকর কোনো উদ্যোগ আমরা দেখছি না। সাবেক শিক্ষার্থীদের হলে জিইয়ে রেখে নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করা হলে এর ফল ভালো হবে না।”
বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ (বাগছাস) জাবি শাখার আহ্বায়ক ও জাকসুর সহ-সভাপতি প্রার্থী আরিফুজ্জামান উজ্জল বলেন, “জাকসু নির্বাচন একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, তা নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হওয়া জরুরি। কিন্তু হলে বিপুল সংখ্যক মেয়াদোত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর অবস্থান নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। উপাচার্য, রেজিস্ট্রার, প্রভোস্ট কমিটি কিংবা নির্বাচন কমিশন কেউই কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। অবিলম্বে হলে থেকে সব মেয়াদোত্তীর্ণ শিক্ষার্থীকে সরিয়ে প্রকৃত ভোটারদের অবস্থান নিশ্চিত করতে হবে, নইলে এই নির্বাচন প্রহসনে পরিণত হবে।”
এবিষয়ে প্রভোস্ট কমিটির সভাপতি অধ্যাপক আবেদা সুলতানা বলেন, “উপাচার্য স্যারের সঙ্গে মেয়াদোত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের আলোচনা হয়েছে। তারা আশ্বাস দিয়েছেন যে প্রচারণা শুরুর দিন থেকে ভোটের আগ পর্যন্ত হলে অবস্থান করবেন না। শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো প্রশাসন বিবেচনা করে দেখবে।”
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও জাকসু নির্বাচন কমিশনের সদস্য সচিব এ কে এম রাশিদুল আলম বলেন, “মেয়াদোত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের হল থেকে বের করে দেওয়া নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব নয়, এটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাজ। আমরা লিখিতভাবে প্রশাসনকে অনুরোধ জানিয়েছি।”
সার্বিক বিষয়ে জাবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামরুল আহসান বলেন, “এগুলো মূলত নির্বাচন কমিশনের কাজ। নির্বাচনের সময়ে প্রশাসনকে চুপ থাকতে হয়, নইলে সেটা নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ইন্টারফেয়ারেন্স হয়ে যাবে। তবে কমিশন চাইলে আমি অবশ্যই সহযোগিতা করব। মেয়াদোত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা হলে থাকতে পারবে না। নির্বাচনের সময় চালাকি করে হলে থাকার কোনো সুযোগ নেই।”
বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন