শিরোনাম
প্রকাশ : ১৯ নভেম্বর, ২০১৯ ১৮:১৭

টিসিবির গাড়ি দেখেই কমে গেল পিয়াজের দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম:

টিসিবির গাড়ি দেখেই কমে গেল পিয়াজের দাম
ফাইল ছবি

অবশেষে চট্টগ্রাম নগরীতে ট্রেডিং করপোরেশন অফ বাংলাদেশ (টিসিবি) খোলা বাজারে ভর্তুকি মূল্যে পিয়াজ বিক্রি করায় পাইকারি ও খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। আগের দিন অর্থাৎ সোমবার যে পিয়াজ কেজি ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত্র বিক্রি হয়েছিল, সেই একই পিয়াজ আজ ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। বিপরীতে টিসিবি’র এজেন্টগাড়ি নগরের বিভিন্ন স্থানে প্রথমবারের মতো খোলা বাজারে প্রতিকেজি ৪৫ টাকায় পিয়াজ বিক্রি করেছে। আর এতেই বাজারে কমে গেছে পিয়াজের দাম।

এদিকে মঙ্গলবার প্রতি ট্রাকে ১ টন করে ৬ ট্রাকে টিসিবি’র পিয়াজ বিক্রি হয়েছে কোতোয়ালী, বায়েজিদ, পাহাড়তলী, হালিশৃহর, বন্দর থানা ও দামপাড়া পুলিশ লাইন্সের সামনে। এ সময় মধ্যবিত্ত থেকে উচ্চ মধ্যবিত্ত নারী-পুরুষকে কাড়াকাড়ি করে ৪৫ টাকায় পিয়াজ কিনতে দেখা গেছে। দুপুর থেকে টিসিবির ট্রাকগুলো নির্দিষ্ট পয়েন্টে দাঁড়ালে সাধারণ ক্রেতারা হুমড়ি খেয়ে পড়েন। এ সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি হিসেবে ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও পুলিশ কর্তৃপক্ষ শৃঙ্খলা রক্ষায় তৎপর থাকলেও কোথাও কোথাও তা রক্ষা করা যায়নি।

টিসিবির চট্টগ্রামের আঞ্চলিক প্রধান জামাল উদ্দিন আহমেদ জানান, আগে আসলে আগে পাবেন ভিত্তিতে নগরের ৬টি পয়েন্টে পিয়াজ বিক্রি করা হচ্ছে। প্রতি ট্রাকে ১ টন করে প্রথম দিন ৬টি ট্রাকে বিক্রি করা হয়েছে। একজন সর্বোচ্চ ১ কেজি পেঁয়াজ কিনতে পারবেন। পর্যায়ক্রমে নগরীতে আরো স্পট বাড়ানো হবে। এরইমধ্যে আমদানিও বাড়বে এবং দেশি জাতের পিয়াজও বাজারে আসবে। তখন দাম এমনিতেই কমে আসবে।

টিসিবি’র দামপাড়া পুলিশ লাইনসংলগ্ন ট্রাক থেকে ৪৫ টাকায় এক কেজি পিয়াজ সংগ্রহ করে ফারুক সিকদার নামে মধ্যবিত্ত এক ক্রেতা বলেন, সরকার এই উদ্যোগটা চাইলে আরো আগেই নিতে পারতো। তাহলে সিন্ডিকেটধারী সুবিধা করতে পারতো না। কিছুটা ভর্তুকি দিয়ে হলেও টিসিবির মাধ্যমে পিয়াজ বিক্রির এই উদ্যোগ আমাদের অনেক সহায়ক হবে।

এদিকে একদিনের ব্যবধানেই পাইকারি ও খুচরা বাজারে পিয়াজের দাম হর হর করে কমতে শুরু করেছে। টিসিবির মাত্র ৬টি ট্রাক খোলা বাজারে নামতেই সেই খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এতে খুচরা দোকানীরা আপনাতেই পিয়াজের দাম কমিয়ে দিয়েছেন। তবে অনেক খুচরা বিক্রেতাকে লোকসান দিতে হয়েছে বলে জানা গেছে। নগরীর আশকারদিঘীর পাড়ের দোকানদার আলমগীর হোসেন জানান, তিনি সর্বশেষ পাইকারি বাজার থেকে ২০০ টাকা দামে পিয়াজ এনেছিলেন। সেই পিয়াজ তিনি ২৩০ টাকা করে বিক্রি করেছেন সকালেও। কিন্তু দুপুরের পর টিসিবির গাড়ি পিয়াজ নিয়ে রাস্তায় নামার পর আমাদের লোকসান দিয়ে বিক্রি করতে হয়েছে। অথচ লুটপাট যারা করার তার করে গেছে, ক্ষতি হচ্ছে আমাদের।

খাতুনগঞ্জের আড়ৎদার রিতাপ উদ্দিন বাবু জানান, ভাল মানের পিয়াজ প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছে ১৩০ টাকা। একটু কম মানেরটা বিক্রি হয়েছে ১০০ টাকা করে। বাজারে পরিমাণ কম থাকলেও দাম কমে গেছে। আরও কমবে।

বিডি প্রতিদিন/মজুমদার


আপনার মন্তব্য