Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৪ নভেম্বর, ২০১৮ ২২:৫৪

গ্যাসের চুলায় মরণফাঁদ

এক বছরে ৫০টি দুর্ঘটনায় নিহত ১২ আহত ৩ শতাধিক

জিন্নাতুন নূর

গ্যাসের চুলায় মরণফাঁদ

অসাবধানতার কারণে বাসাবাড়ির গ্যাসের চুলাগুলো ‘মরণফাঁদে’ পরিণত হচ্ছে। প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহূত এ চুলা থেকে সৃষ্ট দুর্ঘটনায় একের পর এক গ্রাহক প্রাণ হারাচ্ছেন, হচ্ছেন মারাত্মক আহত। ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) ও হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিট এবং ফায়ার সার্ভিস থেকে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, গত এক বছরে আবাসিকে গ্যাসের চুলা দুর্ঘটনা ঘটেছে ৫০টি। আর এতে নিহত হয়েছেন ১২ জন, আহত হয়েছেন ৩ শতাধিক। সংশ্লিষ্টরা জানান, শীতকালে চুলার ওপর কাপড় শুকাতে দেওয়ায় অগ্নি দুর্ঘটনা অন্য সময়ের চেয়ে বেশি ঘটে।

সম্প্রতি রাজধানীর উত্তরখানের ব্যাপারী রোডের একটি বাড়িতে গ্যাসের চুলা থেকে সৃষ্ট দুর্ঘটনায় একই বাড়ির আটজন মারাত্মকভাবে দগ্ধ হন। আটজনের ছয়জনই মৃত্যুবরণ করেন। গত ১৩ অক্টোবরের এ ঘটনায় প্রত্যেকের শরীর ৬০ থেকে ৮০ শতাংশ পুড়ে যায়। মূলত অসাবধানতাবশত গ্যাসের চুলার চাবি বন্ধ না থাকায় ভোরে বাড়ির এক সদস্য চুলা জ্বালাতে গেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরক অধিদফতরের ২০১৭-১৮ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে বিভিন্ন সময় দেশে গ্যাসের চুলা থেকে সৃষ্ট দুর্ঘটনার তদন্তে দেখা যায়, রান্নার পর অসাবধানতায় চুলার নব বন্ধ না করায়, চুলার ওপর ভেজা কাপড় শুকাতে দেওয়ায় সেখান থেকে আগুন লেগে, আবদ্ধ ঘরে জমে থাকা গ্যাসের উপস্থিতি যথাযথভাবে পরীক্ষা না করে আগুনের সংস্পর্শে এবং গ্যাসের চুলার হোজপাইপ ফাটা বা ক্ষতিগ্রস্ত থাকলেই অগ্নি দুর্ঘটনা ঘটছে। তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডের দেওয়া তথ্যে, ২০১৬-১৭ বছরে গ্যাস লিকেজের মোট ঘটনা ঘটে ৫ হাজার ৬৫০টি। আর অগ্নি দুর্ঘটনা ঘটে ২৩৮টি। ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের প্রধান সমন্বয়কারী ডা. সামন্ত লাল সেন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘গ্যাসের লাইন থেকে অগ্নি দুর্ঘটনায় আক্রান্তদের ফুসফুস পুড়ে যাওয়ায় তাদের অক্সিজেন গ্রহণে সমস্যা হয়। এতে তাদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনাও কমে যায়। সাধারণত ৬০ শতাংশের বেশি পোড়া রোগীর ক্ষেত্রে বেঁচে থাকার সম্ভাবনা আরও কমে যায়।’ তিনি জানান, শীতকালে কাপড় শুকাতে গিয়ে এ দুর্ঘটনার হার বেড়ে যায়। অসাবধানতার কারণে এ চুলাগুলোই এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। এজন্য সাবধানতা হিসেবে তিনি প্রতি ছয় মাস পরপর চুলা ঠিক আছে কিনা তা পরীক্ষা করে দেখার পরামর্শ দিয়েছেন। অগ্নি দুর্ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, রাজধানীর লালমাটিয়ার ব্লক-এ-এর ৫/৫ ভবনেও চুলার নব ঠিকভাবে বন্ধ না করায় আবদ্ধ ঘরে আগুনের সংস্পর্শে এসে সেই বাড়ির গৃহিণী দগ্ধ হন। এতে তার শরীরের ৪০ শতাংশ পুড়ে যায়। বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই সেই নারী মৃত্যুবরণ করেন। বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরের মহাপরিচালক আলী আহাম্মেদ খান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই অসচেতনতার ফলে মানুষ গ্যাসের চুলার দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে দুর্ঘটনা এড়াতে গ্রাহকদের সচেতনতার পাশাপাশি চুলায় লিকেজ আছে কিনা তা নিয়মিত পরীক্ষা করে দেখতে হবে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর