Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ২০ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৯ মার্চ, ২০১৯ ২৩:৩২

শেখ হাসিনা হল ও ড. ওয়াজেদ ইনস্টিটিউটের নির্মাণকাজ বন্ধ

রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়

শাহজাদা মিয়া আজাদ ও রেজাউল করিম মানিক, রংপুর

শেখ হাসিনা হল ও ড. ওয়াজেদ ইনস্টিটিউটের নির্মাণকাজ বন্ধ

রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে শেখ হাসিনা হল ও ড. ওয়াজেদ রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্মাণকাজ সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বহীনতার কারণে দুই বছর ধরে বন্ধ হয়ে আছে। কাজ শুরু করা নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। ইতিমধ্যে প্রকল্পে বরাদ্দের ১৮ কোটি টাকা ফেরত গেছে, চলতি অর্থ বছরেও আসা ১৭ কোটি টাকা ফেরত যাওয়ার প্রহর গুনছে। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ প্রকল্পের নির্মাণকাজে এমন অনিশ্চয়তায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দফতর সূত্রে প্রকাশ, ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার পর বিল পরিশোধ সংক্রান্ত জটিলতায় কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এতে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে নির্ধারিত বরাদ্দের কাজ শেষ না হওয়ায় ১৮ কোটি টাকা ফেরত গেছে। চলতি অর্থবছরে বরাদ্দ রয়েছে সাড়ে ১৭ কোটি টাকা। এ বছরও নির্ধারিত বরাদ্দের কাজ শেষ হবে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে চলতি অর্থবছরের বরাদ্দ পাওয়া অর্থও ফেরত যেতে পারে।

জানা গেছে, সাবেক ভিসি প্রফেসর ড. আবদুল জলিল মিয়া ২০১২ সালের ১০ মে প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি ছাত্রী হল এবং প্রধানমন্ত্রীর স্বামীর নামে প্রতিষ্ঠিত ড. ওয়াজেদ রিসার্চ ইনস্টিটিউট এর জন্য একটি স্বতন্ত্র ভবন নির্মাণে বরাদ্দের জন্য আবেদন করেন। ওই বছর ২২ জুলাই প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় থেকে একটি চিঠির মাধ্যমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং             শিক্ষা ও প্রকৌশল বিভাগের প্রধান প্রকৌশলীকে ভবন দুটি নির্মাণের লক্ষ্যে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং গৃহীত কার্যক্রম অবহিত করতে বলা হয়। প্ল্যানিং কমিশন হয়ে ২০১৫ সালের জানুয়ারি মাসে একনেক সভায় যায় প্রকল্পটি। প্রস্তাবনায় ৬ তলা ছাত্রী হল এবং ইনস্টিটিউট ভবন নির্মাণের কথা বলা হয়। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী একনেক সভায় ৬ তলা হলকে ১০ তলা নির্মাণের ঘোষণা দেন। ফলে এই প্রকল্পটি প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্পের বহিঃপ্রকাশ ঘটে এবং প্রকল্পটি প্রায় ১০০ কোটি টাকার প্রকল্পে রূপান্তরিত হয়। ২০১৬ সালের ৪ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রকল্পের নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন। পরে ৭ মে নতুন ভিসি নিয়োগ পাওয়ার পরই নির্মাণ কাজে অনিয়মের অভিযোগ তুলে কাজ বন্ধ করে দেন বর্তমান ভিসি প্রফেসর ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ।

 বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন কাজ তদারকি করার জন্য ভিসি তাঁর ভাগ্নে প্রকৌশলী মঞ্জুর কাদেরকে পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও ওয়ার্কস কমিটির সদস্য হিসেবে নিয়োগ দেন। ভবন নির্মাণে নিয়োজিত আর্কিটেককে অব্যাহতি দিয়ে নতুন আর্কিটেক হিসেবে ভাগ্নে মঞ্জুর কাদেরকে নিয়োগ দেওয়া হয়। যিনি প্রথম আর্কিটেক নিয়োগের ওপেন টেন্ডারে কাজ পাননি।

এভাবে দুই বছরেও এ কাজের কোনো অগ্রগতি হয়নি। নির্মাণ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, প্রকল্পের ৩০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। ভবনের নকশা পরিবর্তন করার কারণে কাজ বন্ধ রয়েছে। আগামী জুনে কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু এ কাজ শেষ করতে নকশা জটিলতা কাটানোর পর আরও অন্তত এক বছর সময় লাগবে। বিশ^বিদ্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী কমলেশ চন্দ্র সরকার বলেন, আগামী জুনের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করা সম্ভব হবে না। গত অর্থবছরে কিছু টাকা ফেরত গেছে। এ বছর যাতে টাকা ফেরত না যায় সে ব্যাপারে প্রশাসন আশা করি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি ড. তুহিন ওয়াদুদ জানান, প্রধানমন্ত্রী অগ্রাধিকার প্রকল্পের কাজ দুটি দ্রুত গতিতে সম্পন্ন করার ব্যাপারে উদ্যোগ নিতে হবে। শিক্ষক সমিতির বর্তমান সেক্রেটারি তাবিউর রহমান প্রধান জানান, নকশা বহির্ভূতভাবে কিছু কাজ করার কারণে জটিলতা তৈরি হয়েছিল। এখন সব জটিলতা কেটে গেছে। এ ব্যাপারে ভিসি প্রফেসর ডক্টর নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহর সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।


আপনার মন্তব্য

এই পাতার আরো খবর