Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ৮ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৮ নভেম্বর, ২০১৯ ০১:৪৮

সৌদিতে নির্যাতিতা সুমি

বিমান ভাড়াসহ ২২ হাজার রিয়াল দিতে হবে এজেন্সিকে

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

বিমান ভাড়াসহ ২২ হাজার রিয়াল দিতে হবে এজেন্সিকে

সৌদি আরবে নির্যাতন থেকে বাঁচতে আকুতি জানানো গৃহকর্মী সুমি আক্তারকে দেশে ফেরাতে বিমান টিকিট ও নিয়োগকর্তার প্রাপ্য ২২ হাজার রিয়াল (প্রায় পাঁচ লাখ টাকা) দিতে হবে রিক্রুটিং এজেন্সি ‘রূপসী বাংলা ওভারসিজ’কে। এজন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিতে এজেন্সিকে অনুরোধ করেছে জেদ্দায় অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল। মঙ্গলবার জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল থেকে পাঠানো আনুষ্ঠানিক চিঠিতে এ অনুরোধ জানানো হয়। চিঠিতে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল লিখেছে- ২২ হাজার সৌদি রিয়াল সুমির নিয়োগকর্তাকে (কফিল) দিলে তার কাছ থেকে ছাড়া পাবেন সুমি।

এ ছাড়া তার নিয়োগকর্তা তাকে ছাড়তে অপারগতা প্রকাশ করেছেন। সুমির নিয়োগকর্তার দাবি, সুমিকে সৌদি নিতে তার প্রায় তিন লাখ টাকার মতো খরচ হয়েছে, যা তিনি সেবার মাধ্যমে শোধ করেননি। অর্থাৎ সুমিকে নিয়ে যাওয়া রূপসী বাংলা ওভারসিজের কাছ থেকে অর্থ আদায় করে দিলেই তাকে ছাড়বেন সৌদির সেই কফিল। চিঠিতে আরও জানানো হয়, ২২ হাজার সৌদি রিয়াল কফিলকে দিলে তার কাছ থেকে ফাইনাল এক্সিট গ্রহণ করা যাবে। এর পরই টিকিট কেটে সুমিকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো যাবে। আর এসব ব্যয় রূপসী বাংলা ওভারসিজকেই বহন করতে হবে।

সুমি আক্তার বর্তমানে নাজরান পুলিশের তত্ত্বাবধানে নাজরান শহরের একটি সেইফহোমে অবস্থান করছেন। তবে কফিলের অনুমোদনসংক্রান্ত সৌদি আইনি জটিলতায় তাকে দেশে ফেরানো যাচ্ছে না। সম্প্রতি ফেসবুকে কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিজের ওপর পাশবিক নির্যাতনের কথা বলে সুমি তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানান। ভিডিওতে তাকে বলতে দেখা যায়, ‘ওরা আমারে মাইরা ফালাইব, আমারে দেশে ফিরাইয়া নিয়া যান। আমি আমার সন্তান ও পরিবারের কাছে ফিরতে চাই। আমাকে আমার পরিবারের কাছে নিয়ে যান। আর কিছুদিন থাকলে আমি মরে যাব।’ পরে সৌদি আরবে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূতের কার্যালয় থেকে কর্মকর্তারা তার (সুমি) সঙ্গে কথা বলেন। এর পরই সুমি আক্তারকে তার কর্মস্থল থেকে উদ্ধার করে হেফাজতে নিয়েছে সেখানকার পুলিশ।

সুমি আশুলিয়ার চারাবাগ এলাকার নুরুল ইসলামের স্ত্রী। চলতি বছরের জানুয়ারিতে গৃহকর্মীর ট্রেনিং শেষ করেন পঞ্চগড় জেলার বোদা সদর থানার রফিকুল ইসলামের মেয়ে সুমি আক্তার। গত ৩০ মে ‘রূপসী বাংলা ওভারসিজ’ নামে একটি এজেন্সির মাধ্যমে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সৌদি এরাবিয়ান এয়ারলাইনস (এসভি) ৮০৫ যোগে সৌদি যান সুমি। সৌদি যাওয়ার সপ্তাহখানেক পর থেকে শুরু হয় তার ওপর মারধর, যৌন হয়রানিসহ নানা নির্যাতন। সে কারণে সুমির স্বামী নুরুল ইসলাম গত ১১ অক্টোবর পল্টন থানায় ‘রূপসী বাংলা ওভারসিজ’ এজেন্সির মালিক আক্তার হোসেনের নামে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে। এ ছাড়া ন্যায়বিচারের জন্য জনশক্তি কর্মসংস্থান রপ্তানি ব্যুরোর মহাপরিচালকের দফতরে লিখিত অভিযোগ করা হয়।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর