শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ১২ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১২ জানুয়ারি, ২০২০ ০১:৪৬

সড়কে গেছে ৭৮৫৫ প্রাণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

সড়কে গেছে ৭৮৫৫ প্রাণ

গত বছর সারা দেশে ৫ হাজার ৫১৬ সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ হাজার ৮৫৫ জন নিহত হয়েছেন। আর এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন ১৩ হাজার ৩৩০ জন। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির বার্ষিক সড়ক দুর্ঘটনা পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। গতকাল রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী এ প্রতিবেদন তুলে ধরেন। দুর্ঘটনার ১২টি কারণ চিহ্নিত করে প্রতিবেদনে ১১ দফা সুপারিশও তুলে ধরেছে সংগঠনটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একই সময় রেলপথে ৪৮২ দুর্ঘটনায় ৪৬৯ জন নিহত ও ৭০৬ জন আহত এবং নৌপথে ২০৩ দুর্ঘটনায় ২১৯ জন নিহত ও ২৮২ জন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া নৌ দুর্ঘটনায় ৩৭৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন। সড়ক, রেল, নৌপথে সর্বমোট ৬ হাজার ২০১ দুর্ঘটনায় ৮ হাজার ৫৪৩ জন নিহত এবং ১৪ হাজার ৩১৮ জন আহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দেশের জাতীয়, আঞ্চলিক ও অনলাইন সংবাদপত্রে প্রকাশিত সড়ক, রেল ও নৌ দুর্ঘটনার সংবাদ মনিটরিং করে অন্যান্য বছরের মতো এবারও এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে বলে জানায় যাত্রী কল্যাণ সমিতি। সড়কে প্রাণহানির ঘটনা বেড়েছে উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৮ ও ২০১৯ সালে প্রায় একই ধরনের দুর্ঘটনা ঘটলেও প্রাণহানি ২০১৯ সালে ৮.০৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে যাত্রী কল্যাণ সমিতির সুপারিশ : যাত্রী কল্যাণ সমিতিরি ১১ দফা সুপারিশ হচ্ছেÑ ডিজিটাল পদ্ধতিতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করে সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা, টিভি চ্যানেল ও সংবাদপত্রে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ব্যাপক প্রচারের ব্যবস্থা করা, জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশ থেকে হাট-বাজার অপসারণ করা, ফুটপাথ দখলমুক্ত করা, দেশের সড়ক-মহাসড়কে রোড সাইন (ট্রাফিক চিহ্ন) স্থাপন করা, জেব্রা ক্রসিং অঙ্কন করা, গণপরিবহন চালকদের প্রফেশনাল ট্রেনিং ও নৈতিক শিক্ষার ব্যবস্থা করা, যাত্রী, পথচারী ও গণপরিবহনবান্ধব সড়ক পরিবহন বিধিমালা প্রণয়ন, গাড়ির ফিটনেস ও চালকদের লাইসেন্স প্রদানের পদ্ধতি উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আধুনিকায়ন করা, সড়ক দুর্ঘটনায় আর্থিক সহায়তা তহবিল গঠনপূর্বক হতাহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা, দেশব্যাপী চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত মানসম্মত নতুন গণপরিবহন নামানোর উদ্যোগ নেওয়া, ট্রাফিক পুলিশের কর্মকর্তা ও সদস্যদের প্রশিক্ষণের জন্য একাডেমি গড়ে তোলা, গণপরিবহনে সেবা ও নিরাপত্তার মান পর্যবেক্ষণের জন্য মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, সচিব, জেলা প্রশাসকসহ জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তাদের প্রতি মাসে এক দিন গণপরিবহন ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা এবং সড়কে চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর