শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৬ অক্টোবর, ২০২০ ২৩:৩২

ভ্যাটে অডিট আপত্তি ২৫ হাজার কোটি টাকা

আদায় মাত্র পাঁচ হাজার কোটি

রুহুল আমিন রাসেল

ভ্যাটে অনিয়ম হওয়ায় প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা অডিট আপত্তি তুলেছে স্থানীয় ও রাজস্ব অডিট অধিদফতর। সংস্থাটি সাড়ে ৯ হাজারের বেশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান অডিট করে ভ্যাটে এই বিপুল পরিমাণ অনিয়ম চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে সোয়া ৫ হাজার কোটি টাকার মূল্য সংযোজন কর-মূসক বা ভ্যাট আদায় হয়েছে। বাকি সাড়ে ১৯ হাজার কোটি টাকার ভ্যাট অনাদায়ি থাকার তথ্য মিলেছে। এ তথ্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এনবিআরসূত্রে পাওয়া গেছে। এ প্রসঙ্গে এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান মো. গোলাম হোসেন গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘অডিট আপত্তিতে থাকা ভ্যাটের পাওনা আদায়ে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি বা এডিআরের মাধ্যমে সমঝোতা করা যেতে পারে। কিন্তু বাস্তবে এডিআর নিয়ে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেই। আবার কর্মকর্তারাও ভয় পান এডিআরে মামলা নিষ্পত্তি করতে। এ ক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের অভয় দিতে হবে। পাশাপাশি প্রশাসনিকভাবেও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে চাপ দিতে হবে। কর্মকর্তারা সিরিয়াস হলে এ ভ্যাট আদায় সম্ভব। আবার সামর্থ্যবান প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে বকেয়া আদায়ে চাপ দিতে হবে।’ তবে এনবিআরের দুজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ধীরগতি হলেও আদায় প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এনবিআরসূত্র জানান, সারা দেশে ১২টি ভ্যাট কমিশনারেটের আওতায় ৯ হাজার ৬৭৩টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের অনিয়ম খতিয়ে ২৪ হাজার ৮২০ কোটি টাকা অডিট আপত্তি তুলেছে স্থানীয় ও রাজস্ব অডিট অধিদফতর। এর মধ্যে ৫ হাজার ২৪২ কোটি টাকা আদায় হলেও অনাদায়ি রয়েছে ১৯ হাজার ৫৭৯ কোটি টাকা। সবচেয়ে বেশি অডিট আপত্তি উঠেছে ভ্যাটের বৃহৎ করদাতা ইউনিট বা ভ্যাট এলটিইউতে। এখানকার ৫২৯টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ১১ হাজার ৭ কোটি টাকা অনিয়ম পাওয়া গেছে। এর পরই সবচেয়ে বেশি অনিয়ম পাওয়া গেছে চট্টগ্রাম কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটে। এখানে ১ হাজার ২৬০টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে অডিট করে ৪ হাজার ২৩৩ কোটি টাকা অনিয়ম উদ্ঘাটন করা হয়েছে। কিন্তু আদায় হয়েছে মাত্র ৫৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। অনাদায়ি রয়েছে ৪ হাজার ১৭৯ কোটি টাকা। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনার মোহাম্মদ এনামুল হক বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘অডিট আপত্তির টাকা উদ্ধারে তৎপরতা চলছে। যদিও প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার ভ্যাট আদায়সংক্রান্ত মামলা উচ্চ আদালতে ঝুলে আছে। এসব মামলা এডিআরে সুরাহা করার উদ্যোগ আছে।’

এনবিআরসূত্র জানান, ঢাকা উত্তরের কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের আওতাধীন ৮২২টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কাছে পাওনা ২ হাজার ৪৯৩ কোটি টাকা। আর ঢাকা দক্ষিণে ১ হাজার ৫৬৭টি প্রতিষ্ঠানে অনিয়মের বিপরীতে পাওনা ১ হাজার ১২২ কোটি টাকা। ঢাকা পূর্বে ১ হাজার ৮১টি প্রতিষ্ঠানের কাছে পাওনা ১ হাজার ৭০ কোটি টাকা আর ঢাকা পশ্চিমে ৭৫৭ প্রতিষ্ঠানে পাওনা ৩৮৩ কোটি টাকা। এ ছাড়া সিলেট কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের আওতাধীন ৪২৫টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের অনিয়মের বিপরীতে ১ হাজার ৮৫৬ কোটি, খুলনার ১ হাজার ১২৩টি প্রতিষ্ঠানের কাছে ৮৫৫ কোটি, কুমিল্লার ১৩১টি প্রতিষ্ঠানের কাছে ৭৩২ কোটি, রংপুরের ৪১৮টি প্রতিষ্ঠানের কাছে ৫৬০ কোটি, রাজশাহীর ৭৭৭টি প্রতিষ্ঠানের কাছে ৪৮৮ কোটি, যশোরের ৪৮৩টি প্রতিষ্ঠানের কছে মাত্র ১৭ কোটি টাকা অডিট আপত্তি তুলেছে স্থানীয় ও রাজস্ব অডিট অধিদফতর।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর