শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে পুনর্গঠন চাই না। এ খাতে রূপান্তর প্রয়োজন। শুধু বই পরিবর্তন করলে হবে না। একজন শিক্ষার্থী পরীক্ষার্থী নয়, মানুষ হিসেবে গড়ে উঠছে কি না সেটা দেখতে হবে। শিক্ষার্থীদের নীতিবান মানুষ তৈরি করতে হবে। শিক্ষার্থীকে পরীক্ষার্থী বানিয়ে নয়, শিক্ষার্থীকে মানুষ করতে হবে। গতকাল সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘গণতান্ত্রিক পুনর্গঠনের জন্য সংলাপ’ শীর্ষক ধারাবাহিক আয়োজনের অংশ হিসেবে, সেন্টার ফর ‘শিক্ষা ও জনস্বাস্থ্য’বিষয়ক সংলাপে বিশিষ্টজনরা এসব কথা বলেন।
তারা আরও বলেন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের মৌলিক চাহিদাগুলোর দিকে তেমন একটা মনোযোগও দেওয়া হয়নি। দেশে বিভিন্ন সংস্কার কমিশন তৈরি করা হলেও শিক্ষাবিষয়ক সংস্কার কমিশন তৈরি হয়নি। দেশে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করে কীভাবে অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা যায় এ বিষয়ে কাজ করতে হবে। এ ছাড়াও জনস্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নের জন্য সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, গবেষণা প্রতিষ্ঠানসহ সিভিল সোসাইটিরও কাজ করতে হবে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও গণস্বাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, আমাদের এই সরকারের কাছে অনেক প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু মনে হচ্ছে শিক্ষাটা অগ্রাধিকার থেকে ছুটে গিয়েছে। কোথায় গেছে বলতে পারি না, আপনারাও জানেন। কিছু কিছু সিদ্ধান্ত, কিছু কিছু কাজ তারা করেছেন যা সাধারণ মানুষের কোনো কাজে আসবে না।
তিনি বলেন, আমাদের সন্তানরা দশম শ্রেণি পাস করছে। কিন্তু তারা ষষ্ঠ শ্রেণির জ্ঞান অর্জন করতে পারছে না। তাহলে তাদের আমরা কী শেখাচ্ছি? এ ছাড়াও যত্রতত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠছে। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে নীতিমালা থাকলেও এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য কোনো নীতিমালা নেই।
বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, আমাদের আজকের যে অধঃপতন এর জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী নীতিনির্ধারকরা। আর আমাদের যারা জড়িত ছিল।
এদেশের বড় সমস্যা শিক্ষিত মানুষ। অশিক্ষিত গরিব মানুষ এদেশের সমস্যা না। ওরা কেউ এই চেয়ারে বসে না, আমরা যারা এই চেয়ারে বসি তারাই এর জন্য দায়ী।
তিনি বলেন, বিশেষায়িত স্বাস্থ্য সেবার আমাদের যে স্তরগুলো আছে, এগুলো নিয়ে কাজ করতে হবে। এদেশে সরকারি খাতের পাশাপাশি শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বেসরকারি খাত বিগত ৩০-৪০ বছরে বেশ উন্নতি করেছে। সেটাকে কীভাবে আরও মানসম্মত করা যায় তা নিয়ে কাজ করতে হবে।
শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, বর্তমানে আমাদের দেশে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার হযবরল অবস্থা। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য কমিশন করুন এবং কুদরত ই খুদা শিক্ষা কমিশন বাস্তবায়ন করুন। সবার একটি দাবি হলো শিক্ষা কমিশন চাই, যেটি এই সরকারে নাই।
আইইডিসিআরের উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ মুশতাক হোসেন বলেন, দেশের প্রধান হাসপাতালগুলোতে রোগীদের পা ফেলার জায়গা নেই। কিন্তু সেকেন্ডারি কেয়ার হাসপাতাল, যেগুলো উপজেলা হাসপাতাল খালি পড়ে থাকে। সব স্তরের হাসপাতালগুলোকে সমানভাবে ইউটিলাইজ করার ব্যবস্থা করতে হবে। এজন্য উপজেলা লেভেলের হাসপাতালগুলোর স্বাস্থ্যসেবার মানের দিকে আরও বেশি নজর দিতে হবে। এভাবে স্বাস্থ্যসেবার বিকেন্দ্রীকরণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
এ ছাড়াও বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান, জাতীয় নাগরিক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. তাসনিম জারা, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর ড. মামুন আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্সেসের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মঈনুল ইসলাম, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. নিজাম উদ্দিন আহমেদ, বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, জি-নাইনের সাধারণ সম্পাদক ডা. সাখাওয়াত হোসেন সায়ন্থ, সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী গোলাম সারোয়ার মিলন, শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. শওকত আরা হোসাইন, জাপান বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালের চেয়ারম্যান ড. সরদার এ. নাঈম, আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট ড. ডি. কে. শিল অর্পণ প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের সভাপতি জিল্লুর রহমান।