বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানিয়েছেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিদ্যুৎ খাতের কুইক রেন্টালের নামে লুটপাট ও বিদেশে পাচার হওয়া টাকা দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংক কাজ করছে। ভোক্তা পর্যায়ে সরকার নির্ধারিত মূল্যে এলপিজি সিলিন্ডার নিশ্চিত এবং কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। গতকাল ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে লিখিত প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এসব তথ্য জানান। সংসদ সদস্য মো. শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, বিগত সরকারের আমলে ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন, ২০১০’ জারি করা হয়েছিল। এই আইনের আওতায় উন্মুক্ত দরপত্র ছাড়াই বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব অনুমোদনের সুযোগ তৈরি করা হয়।
এই আইনের ৫ ধারা অনুযায়ী গঠিত নেগোসিয়েশন কমিটির মাধ্যমে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ট্যারিফ অনুমোদন করা হতো। প্রায়ই বিদ্যুতের অন্যায্য মূল্য এবং অস্বাভাবিক ক্যাপাসিটি চার্জ নির্ধারণ করা হতো। এসব বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনকারী ব্যবসায়ীদের মধ্যে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা এবং তাদের আত্মীয়-স্বজনরাও জড়িত ছিলেন। এতে হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে। তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সরকার ওই বিশেষ বিধান আইনটি বাতিল করে অধ্যাদেশ জারি করে। ওই অধ্যাদেশটি ৭ এপ্রিল সংসদে বিল আকারে পাস হয়েছে।
একই সংসদ সদস্যের অপর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, ভোক্তা পর্যায়ে সরকার নির্ধারিত মূল্যে এলপিজি সিলিন্ডার নিশ্চিত করতে এবং কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। মজুতদারদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসকদের বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী আরও জানান, সারা দেশে বিইআরসি নির্ধারিত মূল্যে এলপিজি বিক্রি নিশ্চিত করতে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে নিবিড় তদারকি ও বাজার মনিটরিংয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।