শিরোনাম
প্রকাশ : ২৬ নভেম্বর, ২০২০ ১০:২৬
আপডেট : ২৬ নভেম্বর, ২০২০ ১৬:১৩
প্রিন্ট করুন printer

করোনায় বেসামাল ইউরোপ, গভীর মন্দায় অর্থনীতি

অনলাইন ডেস্ক

করোনায় বেসামাল ইউরোপ, গভীর মন্দায় অর্থনীতি

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের প্রভাবে বেসামাল হয়ে পড়েছে ইউরোপ। করোনা মোকাবেলায় এই মহাদেশের বিভিন্ন দেশে লকডাউনসহ নানা বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। কিন্তু তাতেও কোনওভাবে নিয়ন্ত্রণে করা যাচ্ছে না ইউরোপের করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি।

অঞ্চলটির বিভিন্ন দেশে প্রতিদিনই বেড়েই চলেছে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। একই সঙ্গে বাড়ছে প্রাণহানিও। করোনা নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে ইউরোপের অর্থনীতি, আবারও মন্দার দিকে যাচ্ছে, বাড়ছে ঋণের পরিমাণও।

সোমবার আইএইচএস মার্কিট প্রকাশিত জরিপে দেখা যায়, গত নভেম্বরে ইউরোজোনের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ব্যাপকভাবে কমেছে। দেশে দেশে লকডাউনে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত সেবা খাত। বলা হয়, ইউরোজোনের ১৯ দেশে নভেম্বরে পিএমআই সূচক কমে হয় ৪৫.১ পয়েন্ট, যা অক্টোবরে ছিল ৫০.০ পয়েন্ট। এই সূচক ৫০ পয়েন্টের ওপরে থাকলে প্রবৃদ্ধি ধরা হয়, আর নিচে থাকলে সংকোচন। প্রতিষ্ঠানটির মতে, এটি স্পষ্ট যে ইউরোজোনের দেশগুলোর অর্থনীতি চতুর্থ প্রান্তিকে আবারও মন্দায় নামছে। যদিও বছরের মাঝামাঝিতে কিছুটা প্রবৃদ্ধি দেখা গিয়েছিল।

আইএইচএস মার্কিটের প্রধান অর্থনীতিবিদ ক্রিস উইলিয়ামসন বলেন, ‘করোনার দ্বিতীয় দফা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের নানা প্রচেষ্টার মধ্যেই ইউরোজোনের অর্থনীতি আবারও তলানিতে নেমেছে।’ তিনি বলেন, ‘অর্থনীতি নতুন করে নিম্নমুখী হওয়া এই অঞ্চলের জন্য বড় ধরনের আঘাত। বলার অপেক্ষা রাখে না পুনরুদ্ধার দীর্ঘায়িত হবে।’ সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী ২০২০ সালে ইউরোজোনের অর্থনীতি ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৭.৪ শতাংশ সংকুচিত হবে। তবে ২০২১ সালে ৩.৭ শতাংশ পুনরুদ্ধারে ফিরবে।

ইউরোজোনের দ্বিতীয় বৃহৎ অর্থনৈতিক দেশ ফ্রান্স। করোনার দ্বিতীয় দফা সংক্রমণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এই দেশটি। নভেম্বরে দেশটির পিএমআই সূচক কমে হয়েছে ৩৯.৯ পয়েন্ট, যা অর্থনীতির ব্যাপক নিম্নমুখিতার প্রমাণ দিচ্ছে। যদিও তুলনামূলক কিছুটা স্বস্তিতে আছে এই অঞ্চলে সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক দেশ জার্মানি।

ইউরোপের অন্যতম বৃহৎ অর্থনৈতিক দেশ ব্রিটেনেরও পিএমআই সূচকও নভেম্বরে কমে হয়েছে ৪৭.৪ পয়েন্ট, যা অক্টোবরে ছিল ৫২.১ পয়েন্ট। এটি পাঁচ মাসে সর্বনিম্ন। করোনার নতুন ঢেউ আসায় দেশটির ব্যাবসায়িক কর্মকাণ্ড আবারও তলানিতে নেমেছে। এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন চার সপ্তাহের লকডাউন ঘোষণা করেছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, চতুর্থ প্রান্তিকে সংকুচিত হবে ব্রিটেনের অর্থনীতি। বেসরকারি খাতে কর্মসংস্থানও বিপুলসংখ্যক কমেছে।

এদিকে ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্সের (আইআইএফ) এক প্রতিবেদনে বলা হয়, করোনার আঘাতে ঋণের সুনামিতে প্লাবিত হতে যাচ্ছে বিশ্ব অর্থনীতি। মহামারীর ধাক্কা সামাল দিতে সব দেশের সরকার আর কোম্পানিগুলো কোটি কোটি ডলার খরচ করছে। সেপ্টেম্বরেই বিশ্বে মোট ঋণের পরিমাণ ছিল ২৭২ ট্রিলিয়ন ডলার। বছর শেষে তা পৌঁছাবে ২৭৭ ট্রিলিয়ন ডলারে। একই সময়ে ইউরোজোনের মোট ঋণ ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলার বেড়ে সেপ্টেম্বরে ৫৩ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। তবে এ পরিমাণ ২০১৪ সালের মন্দায় হওয়া ৫৫ ট্রিলিয়ন ডলারের ঋণের চেয়ে কিছুটা কম।

করোনায় অর্থনীতি মন্দার দিকে যাওয়ায় ইউরোজোনের  ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানগুলো ঝুঁকিতে পড়েছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক (ইসিপি)। সংস্থার মতে, সরকারি সহায়তার পাশাপাশি ইসিবি থেকে সহজ ঋণে প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো টিকে আছে। ইউরো অঞ্চলে সভরেইন ঋণ সংকটের কারণে করপোরেট ঝুঁকি সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। যদি সরকারি সহায়তা অব্যাহত না থাকে ও সহজ ঋণ না পায় তবে অনেক প্রতিষ্ঠানই দেউলিয়ার আবেদন জানাতে বাধ্য হবে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। সূত্র: রয়টার্স, এএফপি

বিডি প্রতিদিন/কালাম


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর