শিরোনাম
প্রকাশ : ৩ জুলাই, ২০২১ ১৪:৪৪
আপডেট : ৩ জুলাই, ২০২১ ১৪:৫২
প্রিন্ট করুন printer

সৌদি আরবে বাংলাদেশি শ্রমিকের ফেরার ক্ষেত্রে জটিলতা কাটছে না কেন?

অনলাইন ডেস্ক

সৌদি আরবে বাংলাদেশি শ্রমিকের ফেরার ক্ষেত্রে জটিলতা কাটছে না কেন?
গতকাল রাত এবং আজ শনিবার সকালে করোনার মোট ৪৫ লাখ ডোজ টিকা এসেছে বাংলাদেশে
Google News

বাংলাদেশে প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য করোনাভাইরাস টিকা নিবন্ধনের প্রক্রিয়ায় জটিলতা বেড়েছে। শুক্রবার পাসপোর্টের সার্ভার ডাউন থাকায় তাদের টিকার জন্য নিবন্ধন শুরু করা যায়নি বলে জানা গেছে। জনশক্তি কর্মসংস্থান ব্যুরো জানিয়েছে, সার্ভার সচল হলে সৌদি আরব এবং কুয়েতের প্রবাসীদের নিবন্ধনে অগ্রাধিকার দেয়া হবে।

এদিকে নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ করা এবং দ্রুত টিকার দাবিতে একদল প্রবাসী লকডাউন বা বিধিনিষেধের মধ্যে শুক্রবারও ঢাকায় বিক্ষোভ করেছেন।

সৌদি আরবে যেতে এক ডোজ নাকি দুই ডোজ
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় বলেছে, এখন সৌদি আরব এবং কুয়েত ছাড়া মধ্য প্রাচ্যের অন্য কোন দেশের সাথে ফ্লাইট চালু নেই।

সেজন্য এই দু'টি দেশে যাওয়ার জন্য প্রবাসী শ্রমিকদের টিকার নিবন্ধনে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে।

তবে সৌদি আরবে এক ডোজ নাকি দুই ডোজ সম্পন্ন করে যেতে হবে-এনিয়ে প্রবাসী শ্রমিকদের মধ্যে বিভ্রান্তি রয়েছে।

সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব মো. সফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, প্রবাসী শ্রমিক যারা বাংলাদেশ থেকে যাবেন, তাদের দুই ডোজ সম্পন্ন করেই যেতে হবে।

তবে সৌদি আরব থেকে এক ডোজ টিকা নিয়ে যিনি বাংলাদেশে এসেছেন, তিনি এখানে আর কোন ডোজ না নিয়ে সৌদি আরবে ফেরত যেতে পারবেন।

অনেক প্রবাসী শ্রমিকের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরার সময় হয়েছে। এখন তাদের টিকার অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে।

নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু হয়নি কেন?
প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য শুক্রবার নিবন্ধন শুরুর কথা থাকলেও তা করা যায়নি।

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর মহাপরিচালক মো. শহিদুল আলম বলেছেন, বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে সমন্বয় করে প্রক্রিয়াটা শুরু করতে কিছুটা সময় প্রয়োজন হচ্ছে। সুরক্ষা অ্যাপ এখনও প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য চালু হয়নি। সোমবার (৫ জুলাই) নাগাদ এই সুরক্ষা অ্যাপ চালু হবে বলে আমরা আশাবাদ পেয়েছি। সুরক্ষা চালু না হওয়া পর্যন্ত কারও অস্থির হওয়ার কিছু নেই।

তবে সুরক্ষা চালু না হওয়া পর্যন্ত নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু করা যাবে কী না-সেই প্রশ্নে তিনি বলেছেন, প্রবাসী অ্যাপ এ আংশিক কার্যক্রম চালানো যাবে।

প্রবাসী অ্যপে নিবন্ধন
নিবন্ধনে প্রবাসী শ্রমিকদের অগ্রাধিকার দেয়ার জন্য আমি প্রবাসী নামের আলাদা একটি অ্যাপ তৈরি করা হয়েছে।

কেউ নিবন্ধন করতে চাইলে তাকে প্রথমে প্রবাসী অ্যপ এ বিদেশে কর্মস্থলের কিছু তথ্য দিতে হবে।

এই অ্যাপ এ পাসপোর্ট নম্বর দিতে হবে এবং পাসপোর্ট অফিসের সার্ভারের মাধ্যমে নিবন্ধনকারীর পরিচয় নিশ্চিত করা হবে।

এরপর সেই ব্যক্তি সুরক্ষা অ্যাপস এ নিবন্ধনের জন্য অগ্রাধিকার পাবেন।

সুরক্ষা অ্যাপস চালু হওয়ার আগে প্রবাসী অ্যাপস এর কার্যক্রম এগিয়ে নেয়ার কথা বলছে কর্তৃপক্ষ।

তবে শুক্রবার সেই কার্যক্রমও শুরু করা যায়নি।

কর্মকর্তারা বলেছেন, পাসপোর্টের সার্ভারে সমস্যা হওয়ায় নিবন্ধনের প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু করা যায়নি।

কর্তৃপক্ষ আশা করছে, শনিবার সার্ভার সচল হবে এবং প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য নিবন্ধনের প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু করা যেতে পারে।

সৌদি আরব এবং কুয়েতের চাহিদা অনুযায়ী ঢাকায় প্রবাসী শ্রমিকদের ফাইজারের টিকা দেয়া হবে।

'প্রক্রিয়া জটিল থেকে জটিল হচ্ছে'
কুয়েত থেকে পাঁচ মাস আগে ছুটিতে দেশে এসেছিলেন চট্টগ্রামের হোসেন মোবারক।

তার কর্মস্থলে ফেরার টিকেট কাটা আছে এবং ছুটির সময়ও শেষ হয়ে যাচ্ছে।

কিন্তু টিকা দিতে না পারায় তিনি যেতে পারছেন না।

তিনি বলেছেন, আজ তাদের নিবন্ধন শুরু করার কথা বলা হলেও তা হয়নি।

তিনি মনে করেন, নিবন্ধনের প্রক্রিয়া জটিল থেকে জটিল করা হয়েছে।

"ফিরতি টিকিট কনফার্ম করা হয়েছে। এখন আমি টিকার জন্য অপেক্ষা করছি। আমার সময় কিন্তু চলে যাচ্ছে।"

প্রবাসী শ্রমিকের অধিকার নিয়ে আন্দোলনকারী সুমাইয়া ইসলাম বলেছেন, বেশিরভাগ প্রবাসী শ্রমিক প্রত্যন্ত অঞ্চলে থাকেন। সেজন্য প্রক্রিয়াটা সহজ করা উচিত ছিল বলে তিনি মনে করেন।

"নিবন্ধন করতে হলে প্রথমে আমি প্রবাসী অ্যাপ আপলোড করতে হবে। তাতে তথ্য দিয়ে তার প্রিন্ট নিতে হবে।

''এগুলো অনেক প্রবাসী শ্রমিকের কাছে বেশ জটিল বা কঠিন বিষয় হবে" বলে মনে করেন সুমাইয়া ইসলাম।

এদিকে, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় প্রবাসী শ্রমিকরা যাতে সহজে প্রবাসী অ্যাপ পূরণ করতে পারেন, সেজন্য ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় বুথ বসানো হয়েছে।

তবে তারা বলেছেন, নিবন্ধন প্রক্রিয়া এবং টিকা দিতে কিছুটা সময় ধৈর্য ধরতে হবে।

সূত্র : বিবিসি বাংলা

 

বিডি প্রতিদিন/ফারজানা

এই বিভাগের আরও খবর