Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:২৯

অতিদরিদ্রদের কর্মসূচিতে অনিয়মের পাহাড়

নওগাঁ ও কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

অতিদরিদ্রদের কর্মসূচিতে অনিয়মের পাহাড়

নওগাঁ ও কুষ্টিয়ায় অতিদরিদ্রদের কর্মসৃজন প্রকল্পে (৪০ দিনের কর্মসূচি) ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কতিপয় লোকের দুর্নীতির কারণে বঞ্চিত হচ্ছেন প্রকৃত সুবিধাভোগীরা। জানা যায়, নওগাঁর সাপাহার উপজেলার তিলনা ইউনিয়নে ৪০ দিনের কর্মসূচিতে হতদরিদ্রদের স্থানে সাত গ্রাম পুলিশসহ ১০ জনের নামে টাকা উত্তোলন করা হচ্ছে। এ অর্থ ইউপি চেয়ারম্যান হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এর সুষ্ঠু বিচার চেয়ে ইউপি সদস্যরা ইউএনও, ডিসিসহ বিভিন্ন দফতরে অভিযোগ দিয়েছেন।

জানা যায়, তিলনা ইউনিয়ন পরিষদের মাটিকাটা-ইজিপিপি কর্মসূচির আওতায় পরিষদের বিভিন্ন রাস্তার তিনটি প্রকল্পে ৪০ দিনের কর্মসূচি চলমান রয়েছে। এই তিনটি প্রকল্পে গ্রামের ১৪১ নারী-পুরুষের নাম আছে। এ হতদরিদ্রদের এ তালিকায় নাম আছে সাতগ্রাম পুলিশসহ ১০ ব্যক্তির। তারা কাজ না করলেও প্রকল্প সভাপতি-সুপারভাইজারকে নিয়মিত খাতায় হাজিরা দেখিয়ে ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে তাদের নামে টাকা উত্তোলন করছেন। তিলনা ইউপি চেয়াম্যান মোসলেম উদ্দীন জানান, ইতোপূর্বে ৪০ দিনের কর্মসূচিতে ব্যাপক অনিয়ম করা হয়েছে। অনিয়ম ঠেকাতে কাজ তদারকির জন্য চৌকিদার নিয়োগ করা হয়েছে, হয়তো এটা আইনসম্মত হয়নি’। সাপাহারের ইউএনও ফাহাদ পারভেজ জানান, ৪০ দিনের কর্মসূচির কাজে অনিয়মের বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করতে বলা হয়েছে। রিপোর্ট পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে কুষ্টিয়ার মিরপুরে অতিদরিদ্রদের কর্মসৃজন প্রকল্পে প্রথম পর্যায়ের কাজে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বাররা যেনতেনভাবে কাজ করে হাতিয়ে নিচ্ছেন অর্থ। সরেজমিনে মিরপুর উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের ছয়টি প্রকল্প ঘুরে অনিয়মের ভয়াবহ এ চিত্র পাওয়া গেছে। ইউনিয়নগুলো হল— বারুইপাড়া, বহুলবাড়িয়া ও তালবাড়িয়া। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার নির্দেশে কয়েকটি প্রকল্পের কাজ বন্ধ রাখার কথাও জানা গেছে। প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুল কাইয়ুম বলেন, ‘কাজ করতে গেলে ভুলত্রুটি কিছু হতেই পারে’। কাজ বন্ধের বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, ‘আমরা দেরিতে কাজ শুরু করেছিলাম। সময় শেষ হয়ে যাওয়ায় কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। সময় বাড়ানো হলে আবার করা হবে।’ ইউএনও জামাল হোসেন বলেন, ‘আমি এ সব কাজ দেখি না। সব পিআইও দেখভাল করে। কাজ না করে বিল তুলে নেওয়া হলে চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাজের কি অবস্থা খোঁজ নিয়ে দেখব।’


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর