শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ২৩:৪৮

ছয় ঘণ্টার ব্যবধানে মারা গেল প্রসূতি ও নবজাতক

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

বাড়ি থেকে মেডিকেল কলেজের দূরত্ব প্রায় আড়াই কিলোমিটার। আর জেনারেল হাসপাতালের দূরত্ব প্রায় তিন কিলোমিটার। সারারাত প্রসব বেদনায় কাতরালেও একজন প্রসূতিকে হাসপাতালে নেওয়া হয়নি। ছয় ঘণ্টার ব্যবধানে নবজাতক ও প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার বৌলাই ইউনিয়নের মূল সতাল গ্রামে। মৃতরা হলেন- ওই গ্রামের ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম চাঁন মিয়ার স্ত্রী রেহানা খাতুন ও নবজাতক সন্তান। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাতে রেহানা খাতুনের প্রসব বেদনা উঠলে গ্রামের ধাত্রী দিয়ে সন্তান প্রসবের চেষ্টা করা হয়। ভোর ৫টার দিকে তিনি একটি মৃত সন্তান প্রসব করেন। এক পর্যায়ে তার রক্তক্ষরণ হতে থাকে। এ অবস্থায়ও তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়নি। অথচ বাড়ি থেকে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দূরত্ব প্রায় আড়াই কিলোমিটার এবং ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের দূরত্ব প্রায় তিন কিলোমিটার। একই দূরত্বে রয়েছে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র।

অবশেষে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বাড়িতেই রেহানার মৃত্যু হয়। এরপর তাকে ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। রেহানার স্বামী নজরুল ইসলাম জানান, মৃত সন্তান প্রসবের পর তার স্ত্রীকে সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

রেহানার চাচা আবুল কালাম জানান, রেহানার ২৮ মাস বয়সী একটি কন্যা শিশু রয়েছে। তখন নরমাল ডেলিভারি হয়েছিল। এবারও নরমাল ডেলিভারির আশায় তাকে বাড়িতেই রাখা হয়।

কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. মুজিবুর রহমান বলেন, প্রাথমিকভাবে অজ্ঞতার কারণেই এমনটি হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। এ ধরনের মৃত্যুর ঘটনায় স্বাস্থ্যকর্মীর মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে তদন্ত করলে বিষয়টি জানা যাবে।

 


আপনার মন্তব্য