আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলগুলোর ভ্রাতৃঘাতি সংঘাতে ফের অশান্ত পাহাড়। মাত্র ২৫দিনের মাথায় আবারও হত্যাযজ্ঞ। ঝরল আরও তিন প্রাণ। এ নিয়ে শুধু রাঙামাটিতে দেড় বছরে খুন হয়েছেন ২৭জন। শুধু রাঙামাটি নয়, অপর দুই পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে একইভাবে ঘটছে খুন, গুম ও অপহরণের ঘটনা। যার কোন সঠিক পরিসংখ্যান এখনো জানা যায়নি।
পুলিশ বলছে, এসব ঘটনায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে মামলা করতে চায় না ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার। তাই বিচারও হয়না। কিছু কিছু সংঘাতের ঘটনা প্রকাশ হয়, আবার কিছু হয়না। পাহাড়ের বুকে চাপা পড়ে আছে হাজারো মানুষের আত্মচিৎকার। পার্বত্যাঞ্চলে একের পর এক সংঘাতে ঘটনা দেশে আলোচনার শীর্ষস্থান দখল করলেও এনিয়ে সরকার ও প্রশাসন সঠিক কোন সিদ্ধান নেয়নি বলে অভিযোগ স্থায়ীদের। তাই কোনো সুষ্ঠু সমাধানও হয়নি। তাই সংঘাতে পাহাড়ের বসবাসরত মানুষগুলোর মধ্যে বিরাজ করছে চাপা উত্তেজনা।
এদিকে, গত সোমবার (২৮মে) বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের গঙ্গ্যারামমুখ কড়ল্যাছড়ি গ্রামে দুর্বৃত্তের ব্রাশ ফায়ারে নিহত ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট ইউপিডিএফের কর্মী সঞ্জীব চাকমা, স্মৃতি চাকমা ও অটল চাকমার হত্যাকে কেন্দ্র করে পাহাড়ে আবারও সহিংসতার আশংকা করছে স্থানীয়রা। তাই আতঙ্কে বসছেনা কোন হাটবাজার। রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি-সাজেক- বাঘাইছড়ি উপজেলা সড়কে চলাচল করেনি কোন যানবাহন। সাজেকে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
তবে রাঙামাটি জেলা পুলিশ সুপার মো. আলমগীর কবির বলছে, আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এসব সহিংসতার ঘটনায় স্থানীয় সাধারণ মানুষের জীবনে তেমন বিরূপ প্রভাব পরবে না। তাছাড়া সাধারণ মানুষকে নিরাপত্তা দিতে পুলিশ সর্বাতক প্রস্তুত। বর্তমানে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
অন্যদিকে মঙ্গলবার বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের গঙ্গ্যারামমুখ কড়ল্যাছড়ি গ্রামে থেকে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট ইউপিডিএফের তিনকর্মীর মরদেহ খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে নিয়ে আসে পুলিশ। হাসপাতালের মর্গে তাদের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত নিহতদের লাশ হস্তান্তরের বিষয়ে পুলিশের সাথে যোগাযোগ করেনি তাদের পরিবারের কোন সদস্য। তাছাড়া থানায় হত্যাকান্ডের বিষয়ে কোন মামলা করেনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার বলে জানান, রাঙামাটির সাজেক থানার উপ-পরিদর্শক মোঃ কামরুজ্জামান।
প্রসঙ্গত, গত ৩মে পাহাড়ে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাসীদের ব্রাশফায়ারে নানিয়ারচর উপজেলা চেয়ারম্যান শক্তিমান চাকমা নিহত হন। পরদিন অর্থাৎ ৪ মে শক্তিমান চাকমার দাহক্রিয়া অনুষ্ঠানে যোগদানের পথে সন্ত্রাসীদের ব্রাশফায়ারে একইভাবে নিহত হন ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক দলের প্রধান তপন জ্যোতি চাকমা ওরফে বর্মাসহ ৬ জন। সে সময় আহত হয় প্রায় ৮জন। গত ২৫দিনে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের ব্রাশ ফায়ারে রাঙামাটিতে খুন সংখ্যা দাঁড়ালো ৯জনের।
বিডি-প্রতিদিন/ সালাহ উদ্দীন