ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের টানা হামলায় নিহতের সংখ্যা ৬৩ হাজার ছাড়িয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার বেলা ৩টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৫৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে প্রায় দুই বছরে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে অন্তত ৬৩ হাজার ২৫। তাঁদের একটি বড় অংশই নারী ও শিশু। আহত হয়েছেন দেড় লাখের বেশি মানুষ। নিখোঁজ রয়েছেন কয়েক হাজার।
জাতিসংঘ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যকে যথাযথ বললেও ইসরায়েল তা অস্বীকার করছে। তবে কিছু সংস্থা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মতে, প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়েও বেশি। সম্প্রতি ফাঁস হওয়া ইসরায়েলের একটি নথি বলছে, নিহতদের প্রায় ৮৩ শতাংশই বেসামরিক নাগরিক।
গাজার মানবিক পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় অপুষ্টিতে আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে কেবল অপুষ্টিতেই প্রাণ হারিয়েছেন ৩২২ জন, তাঁদের মধ্যে ১২১ জন শিশু।
এ ছাড়া গত মার্চে নতুন করে অবরোধ আরোপের পর থেকে গাজায় ত্রাণ সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। জাতিসংঘসহ অন্যান্য সংস্থা কার্যত ত্রাণ বিতরণে অক্ষম। সীমিতসংখ্যক ট্রাক প্রবেশের অনুমতি দিলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অতি সামান্য। এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিতর্কিত সংস্থা গাজা হিউম্যানিটেরিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ) ত্রাণ বিতরণ শুরু করে। তবে এসব কেন্দ্রের আশপাশে ইসরায়েলি সেনা ও জিএইচএফের নিজস্ব অস্ত্রধারী বাহিনীর গুলিতে এ পর্যন্ত ২ হাজার ২০৩ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ১৬ হাজার ২২৮ জন।
শুক্রবার বেলা ৩টা পর্যন্ত ইসরায়েলের বোমা হামলায় নতুন করে আহত হয়েছেন অন্তত ২২৪ জন। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গাজায় আহতের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ ৫৯ হাজার ৫০০ জনে।
শুধু গাজাই নয়, পশ্চিম তীরেও সহিংসতা বেড়েই চলেছে। সেখানে ইসরায়েলি সেনা ও অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত এক হাজার ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন।
বিডি প্রতিদিন/নাজমুল