গাজায় গণহত্যা বন্ধের দাবিতে গতকাল রাজধানীতে ‘মার্চ ফর গাজা’ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা বলেন, ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় নির্বিচারে মানুষ হত্যা করছে ইসরায়েল। সেখানে গণহত্যা চালাতে উৎসাহ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। অবিলম্বে গাজায় গণহত্যা বন্ধ করতে হবে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বোর্ড অব গভর্নরসের সদস্য ও চট্টগ্রামের আন্দরকিল্লা শাহি জামে মসজিদের খতিব আনোয়ার হোসাইন তাহের জাবেরী আল মাদানীর আহ্বানে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। গতকাল জুমার পর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ ফটকে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ হয়। পরে জিরো পয়েন্ট এলাকা থেকে শুরু হয়ে পল্টন, কাকরাইল মোড় হয়ে শান্তিনগর এলাকায় গিয়ে মার্চটি শেষ হয়।
সমাবেশে আনোয়ার হোসাইন তাহের জাবেরী বলেন, গাজায় পাখির মতো মানুষ হত্যা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র গাজায় গণহত্যা চালাতে ইসরায়েলকে উৎসাহ দিচ্ছে। এটি বন্ধ করতে হবে। এ সময় তিনি গণহত্যা বন্ধ এবং স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সব মুসলিমকে ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানান। গণহত্যা বন্ধ, গাজায় মানবিক সহায়তা বৃদ্ধি এবং স্বাধীন ফিলিস্তিন প্রতিষ্ঠার জন্য জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানানো হয় সংক্ষিপ্ত সমাবেশ থেকে। পাশাপাশি মুসলিম বিশ্বের নেতৃত্ব এবং ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) প্রতি ইসরায়েলের সঙ্গে সব ধরনের কূটনৈতিক, সামরিক, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক অবিলম্বে ছিন্ন করার আহ্বান জানানো হয়। সমাবেশে একটি ঘোষণাপত্র পাঠ করা হয়। ঘোষণাপত্রটি বাংলা, ইংরেজি ও আরবি ভাষায় পাঠ করা হয়।
আরবি ভাষায় আনোয়ার হোসাইন তাহের জাবেরী, ইংরেজি ভাষায় মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য মোহাম্মদ আবদুর রব আর বাংলায় ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম ঘোষণাপত্র পাঠ করেন।
ঘোষণাপত্রে গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যা বন্ধ; ইসরায়েলের গণহত্যার বিচার আন্তর্জাতিক আদালতে নিশ্চিত করা; যুদ্ধবিরতি নয়, গণহত্যা বন্ধে কার্যকর ও সম্মিলিত পদক্ষেপ; ১৯৬৭ সালের পূর্ববর্তী ভূমি ফিলিস্তিনকে ফিরিয়ে দিতে বাধ্যবাধকতা তৈরি করা; পূর্ব জেরুজালেমকে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেওয়া; জায়নিস্ট অর্থনীতিকে সহযোগিতা করা বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে কালো তালিকাভুক্ত করা এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও গণমাধ্যমকে গাজায় প্রবেশাধিকার দিয়ে গণহত্যার সত্য বিশ্ববাসীর সামনে প্রকাশ করার সুযোগ দেওয়াসহ ১০ দফা ঘোষণায় দাবি জানানো হয়।