বাংলাদেশ গার্মেন্ট বায়িং হাউস অ্যাসোসিয়েশনকে (বিজিবিএ) ইউরোপীয় ইউনিয়নের রেজিস্টার্ড এক্সপোর্টার (রেক্স) সুবিধা প্রদানে আপত্তি জানিয়েছে দেশের তৈরি পোশাক উৎপাদন ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ। রেক্সসুবিধা দেওয়া থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠিতে বিজিএমইএ এ দাবি জানিয়েছে।
রেক্স সিস্টেম হলো ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি ব্যবস্থা, যা রপ্তানিকারকদের নিজেদের পণ্যের উৎপত্তির ঘোষণা দিতে উৎসাহিত করে, যাতে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তির আওতায় থাকা দেশগুলো থেকে আসা পণ্যের ক্ষেত্রে শুল্কসুবিধা প্রদান করা যায়।
বিজিএমইএ বলছে, বায়িং হাউসগুলো সরাসরি উৎপাদন বা রপ্তানিতে যুক্ত নয়। ফলে তাদের এ সুবিধা দেওয়া হলে স্বার্থের সংঘাত তৈরি হবে এবং দেশের রপ্তানি খাতের জন্য অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এর আগে বিজিবিএ একই সুবিধার জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছিল। বর্তমানে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতায় বিজিএমইএ এবং বিকেএমইএ রেক্সসুবিধা পাচ্ছে।
বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু চিঠিতে বলেছেন, বিজিবিএ হলো বায়িং হাউস ও এজেন্টদের সংগঠন। তারা কোনো কারখানা পরিচালনা করে না এবং সরাসরি রপ্তানি কার্যক্রমেও নেই। তাই তাদের বিজিএমইএ বা বিকেএমইএর সমপর্যায়ের সুবিধা দেওয়া অবাস্তব হবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর সদস্যরা সারা দেশে হাজার হাজার কারখানা স্থাপন করেছেন; যেখানে অবকাঠামো, প্রযুক্তি, যন্ত্রপাতি ও বিপুল অর্থ বিনিয়োগ রয়েছে। অন্যদিকে বায়িং হাউসগুলো কেবল মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে, কোনো উৎপাদন অবকাঠামো বা বিনিয়োগ ছাড়াই।
বিজিএমইএর মতে ২০২৬ সালে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তীর্ণ হলে বিদ্যমান শুল্কমুক্ত সুবিধা জিএসপি বন্ধ হয়ে যাবে। তখন জিএসপি+ সুবিধা নিতে হলে কঠোরভাবে শ্রম, পরিবেশ, মেধাস্বত্ব এবং ইইউর নতুন চুক্তিবিধি মানতে হবে। এ অবস্থায় বায়িং হাউসগুলোকে রেক্সসুবিধা দিলে ভুয়া ইনভয়েস বা অর্থ পাচারের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, যা আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থা নষ্ট করবে এবং বাংলাদেশকে ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্কফোর্সের (এফএটিএফ) নজরদারিতে ফেলতে পারে।
অন্যদিকে বিজিবিএর সহসভাপতি এ কে এম সাইফুর রহমান বলেন, রেক্সসুবিধা এমন একটি ব্যবস্থা যেখানে যে কোনো রপ্তানিকারক, উৎপাদক বা ব্যবসায়ী, যারা দেশের ভিতরে প্রতিষ্ঠিত, তারা এ সুবিধার জন্য আবেদন করতে পারেন। তিনি বলেন, রেক্স সিস্টেমের আওতায় নিবন্ধিত রপ্তানিকারকরা যে কোনো সময় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নথি দিয়ে পণ্যের উৎস প্রমাণ করতে সক্ষম। ফলে বাইয়িং হাউসগুলোও এর আওতায় আসার যোগ্য। বর্তমানে রেক্সসুবিধা পাচ্ছে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ। বিজিবিএ এ সুবিধা চাইছে। তবে বিজিএমইএ বলছে, এটি রপ্তানি খাতের জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।