Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : ১৮ মার্চ, ২০১৯ ১৯:২৭
আপডেট : ১৯ মার্চ, ২০১৯ ০৮:৪৬

উপজেলার ভোটে রক্তাক্ত পাহাড়

নির্বাচন কর্মকর্তাসহ নিহত ৭, গুলিবিদ্ধ ১৬, গুরুতর ১২

ফাতেমা জান্নাত মুমু, রাঙামাটি

উপজেলার ভোটে রক্তাক্ত পাহাড়
নির্বাচনী সরঞ্জামে লেগে আছে রক্ত -বাংলাদেশ প্রতিদিন

ভোটারশূন্য উপজেলা পরিষদের দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে গতকাল রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে সন্ত্রাসীদের উপর্যুপরি গুলিতে নির্বাচনী কর্মকর্তাসহ অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। গুলিবিদ্ধ হয়েছেন আরও অন্তত ১৬ জন। আহতের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। গতকাল বাঘাইছড়ি উপজেলার তিনটি ভোট কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ শেষে প্রিসাইডিং কর্মকর্তাসহ অন্যরা নির্বাচনী সরঞ্জাম নিয়ে উপজেলা সদরে ফেরার পথে নয়মাইল এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। কারা হামলা চালিয়েছে তৎক্ষণাৎ জানাতে পারেনি পুলিশ। তবে ধারণা করা হচ্ছে, পাহাড়ি কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠী এ হামলার ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে। সন্ত্রাসী হামলায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন ছয়জন। তারা হলেন- সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মো. আমির হোসেন (৪০), আনসার-ভিডিপির সদস্য জাহানারা বেগম (৪০), আল আমিন (১৭), বিলকিস আক্তার (৩০), মিহিরকান্তি দত্ত (৩৫) ও পথচারী মন্টু চাকমা (৩৫)। এ ছাড়া গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারে চট্টগ্রাম সিএমএইচে নেওয়ার পথে মারা যান পোলিং কর্মকর্তা আবু তৈয়ব। গত রাত ১১টায় এ তথ্য নিশ্চিত করেন বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাদিম সারোয়ার। এ ঘটনায় প্রিসাইডিং কর্মকর্তা আবদুল হান্নান গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। জেলা প্রশাসক তার গুলিবিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সোমবার দেশের বিভিন্ন স্থানে ১১৫টি উপজেলার সঙ্গে বাঘাইছড়ি উপজেলায়ও ভোট গ্রহণ হয়। তবে জেএসএস সমর্থিত প্রার্থীদের ভোট বর্জনের কারণে উপজেলাজুড়ে চলছিল উত্তেজনা। এর মধ্যেই ভোট গ্রহণ শেষে সন্ধ্যায় নির্বাচনকর্মীদের ওপর এ সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনার পর ওই এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। রাঙামাটির জেলা প্রশাসক এ কে এম মামুনুর রশিদ গত রাত সাড়ে ৯টায় বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুরো বাঘাইছড়ি উপজেলায় অতিরিক্ত সেনা, পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

ইউএনও নাদিম সারোয়ার বলেন, বাঘাইছড়ি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে উপজেলার বাঘাইহাট প্রাথমিক বিদ্যালয়, কাচালং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কংলাছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়- এই তিন কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ শেষে ব্যালট পেপার নিয়ে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা আবদুল হান্নানের নেতৃত্বে অন্যান্য কর্মকর্তা ও আনসার-ভিডিপি সদস্যরা বাঘাইছড়ি উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ে ফিরছিলেন। নয়মাইল এলাকায় তাদের বহনকারী গাড়িবহর অবরোধের চেষ্টা করে সেখানে আগে থেকে অবস্থান নেওয়া সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা। এ সময় চালকরা গাড়ি না থামিয়ে চালিয়ে যেতে চাইলে সন্ত্রাসীরা গাড়িবহর লক্ষ্য করে ব্রাশফায়ার করে। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তাসহ ছয়জন। এ ছাড়া সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা ঘটনাস্থলে নির্বাচনী কর্মীদের লক্ষ্য করে ব্রাশফায়ার করে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে আরও অন্তত ১৬ জন আহত হন। আহতের মধ্যে ১২ জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারে করে চট্টগ্রাম সিএমএইচে পাঠানো হয়। পথে পোলিং কর্মকর্তা আবু তৈয়ব মারা যান। বাঘাইছড়ি স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন সবার নাম-পরিচয় জানা জায়নি। রাঙামাটি জেলা পুলিশ সুপার মো. আলমগীর কবির জানান, বাঘাইছড়ি উপজেলার যে এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে, তা খুবই দুর্গম। প্রাথমিক অবস্থায় হতাহতের সঠিক সংখ্যা জানা যায়নি।

বিডি প্রতিদিন/১৮ মার্চ ২০১৯/আরাফাত


আপনার মন্তব্য