Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : ১২ জুলাই, ২০১৯ ২০:৪৩

সড়ক নয় যেন ডোবা!

মোশাররফ হোসেন বেলাল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া:

সড়ক নয় যেন ডোবা!

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার চান্দুরা-আখাউড়া প্রধান সড়কের বিভিন্ন অংশে ছোট বড় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কের অনেক অংশে পানি জমে এসব গর্ত ডোবায় পরিণত হয়। কোথাও কোথাও রয়েছে হাঁটু সমান পানি। প্রতিদিন সড়ক দিয়ে চলাচলকারী প্রায় লক্ষাধিক মানুষকে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। 

উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, চান্দুরা-আখাউড় বাইপাস পর্যন্ত ২১ দশমিক ৯ কিলোমিটার সড়কের চান্দুরা থেকে সিংগারবিল বাজারের সেতু পর্যন্ত প্রায় ১৭ কিলোমিটার অংশেরই বেহাল দশা। সড়কটি ২০১০ সালে নির্মাণ করা হয়। ২০১৫ সালেও সড়কটি সংস্কার করা হয়। সর্বশেষ ২০১৭ সালের ২২ নভেম্বর থেকে ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত মের্সাস ইসলাম ট্রের্ডাস নামে একটি ঠিকাধারী প্রতিষ্ঠান চান্দুরা-আখাউড়া সড়কের সংস্কার কাজ করে। কিন্তু কাজ শেষ হওয়ার মাস খানেকের মধ্যেই সড়কে খানা-খন্দ দেখা দেয়। বর্তমানে সমস্ত সড়কে অসংখ্য খানা-খন্দ আর বড় বড় গর্ত। দিন যতই যাচ্ছে সড়কের বেহাল অবস্থাও বাড়ছে। ফলে সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে যাচ্ছে। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সম্প্রতি ১৮ থেকে ২৩ জুন পর্যন্ত শাহবাজপুর সেতু দিয়ে যান চলাচল বন্ধ ছিল। এসময় সড়কের উপর দিয়ে সিলেট থেকে ঢাকা, কুমিল্লা ও চট্টগ্রামের যান চলাচল করেছে। এমনিতেই রাস্তার ভালো ছিল না। তখন মাত্রাতিরিক্ত যান চলাচলের কারণে সড়কের বেহাল দশা আরো বেড়েছে। 

উপজেলার লোকজন জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর, আখাউড়া ও হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার মানুষ ও বিভিন্ন যানবাহন চান্দুরা-আখাউড়া সড়কটি দিয়েই বিজয়নগর, আখাউড়া উপজেলা, আখাউড়া স্থলবন্দর ও জেলা সদরে যাতায়াত করে।

এছাড়া সিলেট, হাবিগঞ্জ, সুমানগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলার সকল মানুষ ও পাথরবাহী ট্রাক এই সড়ক দিয়ে আখাউড়াস্থল বন্দরে যাওয়া আসা করে। আর বিজয়নগর উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে যাতায়াতের জন্য এটিই একমাত্র প্রধান সড়ক। তিন উপজেলার প্রায় লক্ষাধিক মানুষ এই সড়ক দিয়ে চলাচল করে। প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে প্রায় পাঁচ শতাধিক সিএনজি চালিত অটোরিকশা ও দেড় থেকে দুইশ ট্রাক চলাচল করে।

উপজেলার চান্দুরা থেকে আড়িয়ল পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার অংশের চান্দুরা, চান্দুরা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়, আমতলীবাজার, মির্জাপুর, আড়িয়ল পর্যন্ত খানা-খন্দ ও গর্তে ভরপুর। সড়কের এই অংশে রাস্তার উপর থেকে সুরকি ও বিটুমিন উঠে গেছে। এতে পথচারী ও যানচালকদের সময় লাগছে বেশি।

উপজেলার লোকজনের অভিযোগ, প্রায় দুই বছর আগে সড়কটি সংস্কার কাজ হয়। নিম্নমানের কাজের কারণেই সড়কের এমন দশা। 

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপজেলা প্রকৌশলী জামাল উদ্দিন জানান, বড় গর্তগুলো ভরাট করা হয়েছে। কিন্তু এতে স্থায়ী সমাধান হবে না। ২৫ কোটি টাকার টেন্ডার হয়ে গেছে। এখন অনুমোদনের অপেক্ষায়। 


বিডি প্রতিদিন/হিমেল


আপনার মন্তব্য