Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : ১৬ জুলাই, ২০১৯ ১৫:১৯
আপডেট : ১৬ জুলাই, ২০১৯ ১৫:২৫

জামালপুরে পানি বৃদ্ধির রেকর্ড, পানিবন্দি ৩ লাখ

জামালপুর প্রতিনিধি

জামালপুরে পানি বৃদ্ধির রেকর্ড, পানিবন্দি ৩ লাখ

জামালপুরের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। বাহাদুরাবাদ পয়েন্টে যমুনার পানি সর্বকালের রেকর্ড ছাড়িয়ে বিপদসীমার ১৪০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। 

পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় জেলার সাত উপজেলার তিন লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। বন্ধ হয়ে গেছে ২৭৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বন্যার পানিতে পড়ে আব্দুল্লাহ নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
 
যমুনা, ব্রহ্মপুত্র, ঝিনাই, জিঞ্জিরামসহ শাখা নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় জামালপুরের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। বাহাদুরাবাদ পয়েন্টে যমুনার পানি বিপৎসীমার সর্বোচ্চ রেকর্ড ২০১৭ সালে ছিল ১৩৪ সেন্টিমিটার। 

মঙ্গলবার যমুনায় পানি বৃদ্ধির সব রেকর্ড ছাড়িয়ে বাহাদুরাবাদ পয়েন্টে বিপদসীমার ১৪০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নতুন করে প্লাবিত হয়েছে মাদারগঞ্জ উপজেলার গুনারিতলা, আদার ভিটা ইউনিয়ন ও পৌরসভা, ইসলামপুর পৌরসভা, মেলান্দহ উপজেলার মাহমুদপুর, নাংলা, কুলিয়া; সরিষাবাড়ী উপজেলার ডোয়াইল ও কামরাবাদ ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা। 

সবমিলিয়ে জেলার সাত উপজেলার ৪৭টি ইউনিয়ন ও ৩টি পৌরসভার ৩ লাখেরও বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। দুর্গত এলাকায় বিশুদ্ধ পানি, খাবার ও গো-খাদ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। দুর্গতরা আশ্রয় নিয়েছে বিভিন্ন উঁচু সড়ক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। দুর্গত এলাকায় কাজ না থাকায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বানভাসীদের। অধিকাংশ এলাকায় ত্রাণ না পাওয়ার অভিযোগ করছেন দুর্গতরা।

বিভিন্ন সড়কে পানি উঠায় ভেঙে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পানি উঠায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ৯৫টি মাধ্যমিক এবং ১৮২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান। 

এছাড়াও জামালপুরের সিভিল সার্জন ডা. গৌতম রায় জানান, মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে ইসলামপুর উপজেলার গোয়ালেচর ইউনিয়নের মালমারা গ্রামের ফারুক মিয়ার ছেলে আব্দুল্লাহ (৪) বাড়ির পাশে বন্যার পানিতে খেলতে গিয়ে পড়ে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করে। 

এদিকে বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে ৩ হাজার ৫১০ হেক্টর পাট, আমনের বীজতলা ৮৬৫ হেক্টর, আউশ ১৮৩ হেক্টর, শাকসবজি ১ হাজার ৬৯৭ হেক্টর, মরিচ ৯০, কলা ৪৭ হেক্টরসহ মোট ৮ হাজার ১৯২ হেক্টর জমির ফসল। 

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আব্দুল মজিদ জানিয়েছেন, বন্যার পানিতে ভেসে গেছে ১১৮টি পুকুর ও মাছের ঘেরের ৩৯২ মেট্রিক টন মাছ ভেসে গেছে। এতে ৮ কোটি ৯৩ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে মৎস্য অফিস।

জেলা ত্রাণ কর্মকর্তা নায়েব আলী জানিয়েছেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত ৩১০ মেট্রিক টন চাল, নগদ সাড়ে ৫ লাখ টাকা ও ২ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।


বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন


আপনার মন্তব্য