শিরোনাম
প্রকাশ : ২৯ জানুয়ারি, ২০২০ ১৫:২৩

সরাইলের ১২ গ্রামের মানুষের জন্য বাঁশের নড়বড়ে সাঁকো

মোশাররফ হোসেন বেলাল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

সরাইলের ১২ গ্রামের মানুষের জন্য বাঁশের নড়বড়ে সাঁকো

স্বাধীনতার ৪৮ বছরেও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে ছেত্রা নদীর উপর সেতু নির্মাণ হয়নি। ফলে অরুয়াই ও পাকশিমুল ইউনিয়নের ১২ গ্রামের মানুষের জন্য ৭০০ ফুট দীর্ঘ বাঁশের তৈরি নড়বড়ে সাঁকোই একমাত্র ভরসা। সেতু না থাকায় এই দুই ইউনিয়নের মানুষ দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। 

উপজেলার উত্তর প্রান্তের হাওরবেষ্টিত অরুয়াইল বাজারের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে ছেত্রা নদী। কৃষি নির্ভর অরুয়াইল ও পাকশিমুল ইউনিয়নের ১২ গ্রামের মানুষকে ছেত্রা নদীর ওপর নির্মিত বাঁশের সাঁকো পার করে উপজেলার সঙ্গে যোগাযোগ করতে হয়। প্রতিটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে প্রার্থীরা এখানে সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসলেও তা এখনও বাস্তবায়ন হয়নি। 
 
জানা গেছে, গত দুই দশক ধরে প্রতি বছর সাত মাসের জন্য বাঁশ দিয়ে ৭০০ ফুট দীর্ঘ ও ৬ ফুট প্রস্থ বাঁশের সাঁকো তৈরি করা হয়। তবে নড়বড়ে এই সাঁকো দিয়ে যাত্রীবাহী বা পণ্যবাহী রিকশা, অটোরিকশা বা ভ্যান পারাপার হতে পারে না। ফলে কৃষি নির্ভর এ এলাকায় মানুষ কৃষিপন্যসহ অন্যান্য পন্য ঘাড়ে-মাথায় করে ঝুঁকি নিয়ে সাঁকো পার হন। 

ইউনিয়ন সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার অরুয়াইল ইউনিয়নের রানিদিয়া, অরুয়াইল, কাকুড়িয়া, বড়কাকুড়িয়া, বনিয়ারটেক, রাজাপুর, সিঙ্গাপুর এবং পাকশিমুল ইউনিয়নের পরমানন্দপুর, ফতেহপুর, হরিপুর, বড়ইছাড়া ও ষাটবাড়িয়া গ্রামে অর্ধলক্ষাধিক লোক বাস করে। অরুয়াইল আবদুস সাত্তার ডিগ্রি কলেজ, অরুয়াইল বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, অরুয়াইল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, অরুয়াইল ফুলকলি কিন্ডারগার্টেন, অরুয়াইল হুসাইনিয়া মাদ্রাসা, পাকশিমুল হাজী শিশু মিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, অরুয়াইল সালমা মানিক মহিলা মাদ্রাসা, রানিদিয়া মহিলা মাদ্রাসা ও রানিদিয়া এশায়েতল উলুম মাদ্রাসার সহশ্রাধিক শিক্ষার্থীসহ প্রতিদিন পাঁচ-ছয় হাজার নারী-পুরুষ ওই সাঁকো দিয়ে পারাপার হয়ে থাকেন। এজন্য জনপ্রতি দুই টাকা করে ভাড়া দিতে হয়।

উপজেলার অরুয়াইল-রাজাপুর সাত কিলোমিটার সড়কের রানিদিয়া গ্রামে ছেত্রা নদীর উপর গ্রামবাসী বাঁশের সাঁকো তৈরি করেছেন। 

জানা যায়, ১৯৯৭ সালে রানিদিয়া গ্রামের রহমত আলী ও মজর মিয়ার উদ্যোগে দুই লাখের বেশি টাকা খরচ করে বাঁশের সাঁকো তৈরি করা হয়। এর প্রতি বছর নভেম্বর মাসে বাঁশ, বেত, রশিদ, গুনা দিয়ে সাঁকো তৈরি করা হয়। এখন সাড়ে তিন-চার লাখ টাকা খরচ হয়। সাত মাস সেতু দিয়ে পারাপার চলে। কারণ জুনের মাঝামাঝিতে পানি বাড়ার আগেই সাঁকো ভেঙে ফেলতে হয়। এছাড়া বৈশাখ মাসে ঝড়-বৃষ্টিতে সেতু ক্ষয়ক্ষতি হলে তখন পারাপার বন্ধ থাকে। 

অরুয়াইল আবদুস সাত্তার ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মৃধা আহমেদুল কামাল বলেন, অরুয়াইল বাজারে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ডাকঘর, ইউনিয়ন পরিষদ, ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়, পুলিশ ফাঁড়ি, সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক-বীমা, উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রসহ প্রায় সাত শতাধিক দোকানপাট রয়েছে। ১২ গ্রামের মানুষের জীবিকা ও লেনদেনের প্রধান ঠিকা অরুয়াইল বাজার। 

অরুয়াইল ইউনিয়নের পরিষদের চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূইয়া বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে এলাকাবাসী সেতুর দাবি করে আসছেন। কিন্তু কথা শোনার কেউ নেই। 

এ বিষয়ে সরাইল উপজেলা প্রকৌশলী মোসাম্মত নিলুফা ইয়াসমিনকে বার বার যোগাযোগের চেষ্টা করে পাওয়া যায়নি। তবে অফিস সূত্রে জানা যায়, সাঁকোর স্থলে পল্লী সড়কে সেতু-কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ২০০ মিটার দীর্ঘ একটি পাকা সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য উকিল আবদুস সাত্তার ভূইয়া বলেন, আগামীতে সুযোগ পেলে ছেত্রা নদীর ওপর পাকা সেতু নির্মাণের ব্যবস্থা করব।

বিডি প্রতিদিন/এনায়েত করিম


আপনার মন্তব্য