শিরোনাম
প্রকাশ : ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ১৮:৫৮

বখাটের ভয়ে শিক্ষার্থীদের স্কুলে আসা বন্ধ!

কামরুজ্জামান সোহেল, ফরিদপুর

বখাটের ভয়ে শিক্ষার্থীদের স্কুলে আসা বন্ধ!

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে একটি স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় সন্ত্রাসী হামলার পর পুনরায় হামলার আশংকায় স্কুলে আসা বন্ধ করে দিয়েছে শিক্ষার্থীরা। ফলে স্কুলটির শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় বিঘ্ন ঘটছে। এদিকে, ঘটনার সাথে জড়িতদের পুলিশ আটক করতে না পারায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন স্কুলের শিক্ষক ও অভিভাবকেরা। এ ঘটনায় থানায় মামলা হলে সেই মামলা তুলে নিতে হুমকি দেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক। ঘটনার পর স্কুলের শিক্ষার্থী কমে যাওয়ায় পুলিশের পক্ষ থেকে একাধিকবার স্কুলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের অভয় দেয়া হলেও স্কুলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বাড়েনি।

স্থানীয় এলাকাবাসী ও অভিযোগে জানা যায়, চরভদ্রাসন উপজেলার গাজীরটেক ইউনিয়নে অবস্থিত চর সুলতানপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে গত ১৯ ফেব্রয়ারি বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। ক্রীড়া প্রতিযোগীতা চলাকালীন বেশকিছু বখাটে স্কুলের ছাত্রীদের উত্যক্ত করে। এ নিয়ে স্কুলের শিক্ষক মুহাম্মদ আবুল বাশার ও রাশেদুজ্জামানের সাথে বখাটেদের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে বখাটেরা শিক্ষক আবুল বাশারকে মারধর করে। এ সময় স্কুলের শিক্ষক ও স্থানীয়দের প্রতিরোধে বখাটেরা পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে বিকেলে সংঘবদ্ধ হয়ে সন্ত্রাসীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে স্কুলের শিক্ষকদের উপর হামলার চেষ্টা করে। শিক্ষকদের বাঁচাতে গেলে হামলাকারীরা স্থানীয় শেখ কামরুল ও আনছার আলী ওরফে আনছুকে কুপিয়ে মারাত্মকভাবে আহত করে। এসময় তারা ক্রীড়া প্রতিযোগিতার মঞ্চ ভাংচুর করে। এলাকাবাসী ঐক্যবদ্ধ হয়ে সন্ত্রাসীদের ধাওয়া করলে তারা পিস্তল উঁচিয়ে ভয় দেখিয়ে পালিয়ে যায়। মারাত্মক আহত অবস্থায় আনছু ও কামরুলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে তারা ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। এ ঘটনার পরদিন স্কুলের প্রধান শিক্ষক বিভুতিভূষন বিশ্বাস বাদী হয়ে ১৭ জনের নামউল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ২০/২৫ জনকে আসামি করে চরভদ্রাসন থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। হামলার ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি স্কুলের শিক্ষকদের মাঝে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

স্কুলের শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, হামলার সাথে জড়িতরা ক্ষমতাশালী হওয়ায় পুনরায় হামলার ভয় দেখাচ্ছে। তারা অনেকেই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে স্কুলের আশে পাশে ঘোরাফেরা করছে। মামলা তুলে নিতে দেখানো হচ্ছে ভয়ভীতি। এদিকে, পুনরায় হামলার ভয়ে স্কুলের শিক্ষার্থীরা স্কুলে আসা বন্ধ করে দিয়েছে। কয়েকজন অভিভাবক জানান, হামলাকারীরা অত্যন্ত প্রভাবশালী। তারা যে কোন সময় আবারও স্কুলে হামলা করতে পারে। সেজন্য আমরা সন্তানদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে তাদের স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছি। স্থানীয় এলাকাবাসী নাজমুল হক রাজু, সোহেল বেগ, শফিউদ্দিন আহমেদ, সলেমান বিশ্বাস, মজিবর রহমান জানান, হামলার ঘটনার পর স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। বখাটেরা স্থানীয়ভাবে বেশ প্রভাবশালী। তারা যে কোন সময় ফের হামলা চালাতে পারে। ফলে আমরা স্থানীয়রা বেশ ভয়ের মধ্যে রয়েছি।

বখাটেদের মারধরের শিকার হওয়া স্কুলের ধর্মীয় শিক্ষক আবুল বাশার জানান, বখাটেদের অন্যায় কাজে বাঁধা দেওয়ার কারণে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। তারা পুনরায় হামলার পাঁয়তারা চালাচ্ছে। আমরা শিক্ষককেরা আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছি।

স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আবুল বাশার বেগ বলেন, হামলাকারীরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। স্কুলের শিক্ষক, শিক্ষার্থীরা আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। স্কুলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি একেবারেই কমে গেছে।

চর সুলতানপুর স্কুলের প্রধান শিক্ষক বিভুতিভূষন বিশ্বাস জানান, সন্ত্রাসী হামলার ভয়ে স্কুলে শিক্ষার্থীরা আসা বন্ধ করে দিয়েছে। পুনরায় হামলার আশঙ্কায় স্কুলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি অনেক কম। তিনি বলেন, প্রায় তিন শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে বিদ্যালয়টিতে। সোমবার স্কুলে উপস্থিত ছিল ৫০ জনের মতো। হামলাকারীরা পুনরায় হামলার কথা বলায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে।

চরভদ্রাসন থানার ওসি নাজনীন খানম বলেন, হামলার ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। আমরা আসামিদের আটকের চেষ্টা চালাচ্ছি। তিনি বলেন, হামলার পর স্কুলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে গেছে। আমরা স্কুলে গিয়ে ছাত্র-ছাত্রী ও তাদের অভিভাবকদের সাথে কথা বলেছি। যাতে শিক্ষার্থীরা নির্ভয়ে স্কুলে আসতে পারে।

এদিকে, হামলার ঘটনার পর স্কুলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে যাওয়ায় পড়ালেখায় চরম বিঘ্ন ঘটছে বলে জানিয়েছেন স্কুলটির বেশকিছু ছাত্র-ছাত্রী। তারা এ ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও স্কুলের শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানান।

বিডি প্রতিদিন/ফারজানা


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর