শিরোনাম
প্রকাশ : ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ২২:২৫

গাজীপুরে ৮ মাস পর খুনের রহস্য উদঘাটন

গাজীপুর প্রতিনিধি:

গাজীপুরে ৮ মাস পর খুনের রহস্য উদঘাটন

পারিবারিক কলহের জেরে ৮ মাস আগে সহযোগীকে নিয়ে স্ত্রী ফাতেমা খাতুনকে জবাই করে খুন করেছিল ট্রাক চালক স্বামী এনামুল হক। খুনের পর লাশ গাজীপুরের কালিয়াকৈরের ভান্নারায় আকাশমনি বনে ফেলে পালিয়ে গিয়েছিলেন। নতুন করে আবারও বিয়ে করে সংসার শুরু করেছিলেন তিনি। বুধবার সহযোগীসহ পুলিশ ব্যুারো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) হাতে গ্রেপ্তার হয় ঘাতক স্বামী। বৃহস্পতিবার তারা দুজনেই আদালতে খুনের লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছেন। পিবিআইয়ের গাজীপুর জেলা প্রধান নাসির আহমেদ শিকদার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ঘাতক এনামুল হক (৩৪) লালমনিরহাট সদরের বলিরাম গ্রামের ইসমাইল হোসেনের ছেলে। তার সহযোগী নাজমুল হোসেন (২৮) গাজীপুরের কালিয়াকৈরের পূর্ব ভান্নারার আশরাফ আলীর ছেলে।   

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গাজীপুর পিবিআইয়ের পরিদর্শক মো: রুহুল আমীন জানান, গত বছরের ১ জুলাই কালিয়াকৈরের ভান্নারায় বনে অজ্ঞাত নারীর জবাই করা লাশ উদ্ধার করে কালিয়াকৈর থানা পুলিশ। এ ঘটনায় কালিয়াকৈরর মৌচাক পুলিশ ফাঁড়ির এসআই রনি কুমার সাহা বাদি হয়ে মামলা করলে তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআই। এটি ছিল একটি ক্লুলেস মামলা। আঙ্গুলের ছাপ নিয়ে প্রযুক্তি ব্যবহার করে ওই নারীর পরিচয় উদ্ধার করা হয়। গোপন তদন্তে পুলিশ জানতে পারে লাশটি ছিল সাতক্ষীরা সদরের বলগঙ্গা গ্রামের বাবর আলীর মেয়ে ফাতেমা খাতুনের (৩৫)। বুধবার সকালে সাভার থেকে গ্রেপ্তার করা হয় ফাতেমার স্বামী গাড়ি চালক এনামুল হককে। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিকেলে গাজীপুরের শ্রীপুরের নয়নপুর বাজার থেকে গ্রেপ্তার করা হয় এনামুলের সহযোগী (বর্তমানে ট্রাক চালক) নাজমুল হোসেনকে। পরে তারা দুজনই খুনের সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করলে উদঘাটন হয় খুনের রহস্য। সেই সাথে আসামীদের দেখানো মতে খুনের কাজে ব্যবহৃত চাকুটি ভান্নারা এলাকার জঙ্গল থেকে উদ্ধার করা হয়। বৃহস্পতিবার বিকেলে তারা গাজীপুরের সিনিয়র জুডিসিয়াল আদালতের বিচারক মোহাম্মদ ইকবাল হোসেনের আদালতে ফাতেমা হত্যায় জড়িত থাকার বিষয়ে বিস্তারিত স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। এনামুল আদালতের কাছে স্বীকার করেন, ফাতেমা ছিল তার দ্বিতীয় স্ত্রী। প্রথম স্ত্রী গ্রামের বাড়িতে থাকা অবস্থায় গার্মেন্ট শ্রমিক ফাতেমাকে ২০১২ সালে তিনি বিয়ে করে সাভারের আশুলিয়া থাকতেন। বিয়ের পর তাদের এক পুত্র সন্তানের জন্ম হয়। পরে তারা একবছর চট্টগ্রাম থাকেন। এক পর্যায়ে ফাতেমা তাকে ছেড়ে ছেলেসহ পিতার সাতক্ষীরার বাড়িতে চলে যায়। তিনি আশুলিয়ায় ফিরে ফাহিমা নামে আরেক নারীকে তৃতীয় বিয়ে করে সংসার শুরু করে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সালনার টেকনগপাড়া এলাকায় বাসা ভাড়া করে বসবাস শুরু করেন। খুনের এক সপ্তাহ আগে ফাতেমা আশুলিয়ায় এসে এনামুলের বড় ভাইয়ের বাসায় উঠেন এবং তার সাথে সংসার শুরু করার চাপ দিতে থাকেন। ফাতেমার কথা জানাজানি হলে ফাহিমা চলে যেতে পারে এ আশংকায় দ্বিতীয় স্ত্রীকে খুনের পরিকল্পনা করে এনামুল। তাকে সহযোগীতা করতে রাজি হয় তার হেলপার নাজমুল। সিদ্ধান্ত হয় নাজমুলের চাচার ভান্নারার সরকারী লিজকৃত আকাশমনী বাগানে ফাতেমাকে খুন করা হবে। এজন্য তারা সালনা বাজার থেকে দুইটি চাকু কিনে। তারা চাকু ও একটি মোটর সাইকেলের হাইড্রোলিক নিয়ে খুনের আগের দিন ঘটনাস্থল রেকি করে রেখে আসে। ৩০ জুন সন্ধ্যায় এনামুলের বড় ভাইয়ের বাসা থেকে নতুন ভাড়া বাসায় নেয়ার কথা বলে ফাতেমাকে নিয়ে রওয়ানা করে এনামুল ও নাজমুল। রাত ১১টার দিকে বনে নিয়ে তারা ফাতেমাকে জবাই করে খুন করে লাশ বনে ফেলে রেখে চলে যায়। পরবর্তীতে ফাহিমাকেও ডিভোর্স দিয়ে মিতু নামে আরেক নারীকে বিয়ে করে সাভারে সংসার করেছিলেন তিনি। 

বিডি প্রতিদিন/মজুমদার


আপনার মন্তব্য