শিরোনাম
প্রকাশ : ৬ এপ্রিল, ২০২০ ২২:৩৩

পথে পথে ঘুরে অনাহারী কুকুরদের মাঝে খাবার বিতরণ

দিনাজপুর প্রতিনিধি

পথে পথে ঘুরে অনাহারী কুকুরদের মাঝে খাবার বিতরণ

করোনাভাইরাসের প্রভাব দেশের বিভিন্ন স্তরে পড়েছে। এর ফলে কর্মহীন মানুষের সংখ্যা দিনদিন বাড়ছে। আবার খাদ্য সংকটে পড়েছে নিম্মআয়ের মানুষ। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে সারাদেশের ন্যায় দিনাজপুরেও অফিস আদালত, কোট, দোকান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বাজার, রেস্তোরাঁ, বেকারিসহ সব বন্ধ রয়েছে। 

ঘর থেকে বের হতে না পেরে অনেকেই যেমন কর্মহীন, তেমনই বাইরে খাদ্য সংকটে পড়েছে অবলা প্রাণী কুকুরগুলোও ! অথচ এই কুকুরগুলোই উচ্ছিষ্ট খেয়ে শহরকে পরিষ্কার করে রাখে। 

খাবার না পেয়ে এসব বেওয়ারীশ কুকুরগুলোকে শহরের বিভিন্ন রাস্তায় রাস্তায় ছুটাছুটি করতে দেখা যায়। তাই দিনাজপুর শহরে অনাহারী কুকুরগুলোর পাশে অনেকে এগিয়ে এসেছেন।

কখনো ভাত, কখনো খিচুরী আবার কখনো-বা বিস্কুট খাওয়াচ্ছেন দিনাজপুরের আফসানা ইমু (৩৬)। নিজের স্কুটি নিয়ে শহরের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত ছুটে ছুটে কুকুরকে খাবার দেন তিনি। নিয়মিত খাবার পেয়ে কুকুরগুলোও আফসানা ইমুকে আপন ভেবে লেজ নাড়ছে। 

আফসানা ইমু দিনাজপুর শহরের কালিতলা পোস্ট অফিস এলাকায় বাড়ি। নিজেরও কয়েকটি পোষা কুকুর আছে বাড়িতে। কুকুরের প্রতি ছোট বেলা থেকেই অন্যরকম ভালোবাসা ছিল ইমুর।

সোমবার আফসানা ইমু বলেন, একদিন পরপর শহরের কুকুরগুলোকে ভাত অথবা খিচুরী দেয়। যদি ভাত কিংবা খিচুরী রান্না করতে না পারি তাহলে বিস্কুট জাতীয় খাবার দেই। শহরের বাইরে হাজী দানেশ বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে ৩০টা কুকুর আছে। সেই ৩০টা কুকুরকে নিয়মিত খাবার দিচ্ছেন বলেও জানান তিনি। 

এদিকে, দিনাজপুরের বীরগঞ্জ শহরের বেওয়ারিশ কুকুরগুলোর খেয়াল রাখছেন সোহেল আহমেদ নামে এক যুবক। তিনি বীরগঞ্জ শহরের বিজয় চত্বর, ডাক্তার খানার মাঠ, দৈনিক বাজারে কুকুরগুলোকে ডেকে নিয়ে খাবার দিচ্ছেন। 

অপরদিকে শনিবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দিনাজপুর শহরে যেখানেই কুকুর দেখতে পেয়েছেন সেখানেই ওয়ানটাইম প্লেটে করে কুকুরকে খেতে দিচ্ছেন মাইফ্রেস ওয়াটার টেকনোলজির ব্যবস্থাপনা পরিচালক দিনাজপুরের খানসামার লিয়ন চৌধুরী। তিনি যখন খিচুরি রান্না করে কুকুরকে খেতে দিচ্ছিলেন তখন মানুষ দাঁড়িয়ে দেখছিলেন। 

বিডি প্রতিদিন/এনায়েত করিম 


আপনার মন্তব্য