শিরোনাম
প্রকাশ : ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ১৯:৫৭
প্রিন্ট করুন printer

শরণখোলায় মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাইয়ে অনিয়মের অভিযোগ

বাগেরহাট প্রতিনিধি

শরণখোলায় মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাইয়ে অনিয়মের অভিযোগ

বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাইয়ের নামে অর্থ বাণিজ্যের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সন্তানরা। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় শরণখোলা প্রেস ক্লাবের সামনের সড়কে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

এর আগে গত মঙ্গলবার স্বজনপ্রীতি ও অর্থ বাণিজ্যের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধীদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার কারণে মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন তারা।

লিখিত অভিযোগ ও মানববন্ধনে অংশ নেওয়া বীর মুক্তিযোদ্ধারা জানান, তালিকা থেকে বাদ পড়া অনলাইনে আবেদনকারী বীর মুক্তিযোদ্ধাদের যাচাই-বাছাই করতে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) ১০২ নম্বর স্মারকে শরণখোলায় পত্র প্রেরণ করে। উপজেলা যাচাই-বাছাই কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আফজাল হোসাইন, সদস্য সচিব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরদার মোস্তফা শাহিন ও সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ খালেক খান গত ৩০ ডিসেম্বর থেকে ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধা বাছাই করেন।

বাছাই কমিটি ভারতীয় তালিকা, লাল মুক্তিবার্তা ও উপস্থিত সম্মুখযোদ্ধাদের সাক্ষী এবং সকলে ঐক্যমতের ভিত্তিতে একটি খসড়া তালিকা প্রস্তুত করেন। কিন্তু ওই খসড়া তালিকা বাদ রেখে বাছাই কমিটি গোপনে ৩৪ জন অমুক্তিযোদ্ধাদের অন্তর্ভুক্ত করে ৫৩ জনের নামের তালিকা জামুকায় প্রেরণ করেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা হেমায়েত উদ্দিন বাদশা, হারুন অর রশিদ খান, আ. মালেক জোমাদ্দার, আবু জাফর জব্বার, ইউসুফ আলী হাওলাদার জানান, যাচাই-বাছাই কমিটির দুজন সদস্য অনলাইনে আবেদনকারী দেড় শতাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে তালিকায় অন্তর্ভুক্তির নামে সর্বনিম্ন ৫০ হাজার থেকে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত গ্রহণ করেছেন।

এসময় উপস্থিত অনলাইনে আবেদনকারী সুনিল শিকারী জানান, মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্তির কথা বলে এক লাখ টাকা নিয়েও তার নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।

বীর মুক্তিযোদ্ধা আ. মালেক মীর, আব্দুল হালিম হাওলাদার, আব্দুল খালেক হাওলাদার, রুহুল আমিন হাওরাদার ও ইউসুফ মুন্সি জানান, প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা বাদ দিয়ে অর্থের বিনিময়ে যে ৫৩ জনের নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছে তার ৩৪ জনই অমুক্তিযোদ্ধা এবং এর মধ্যে কেউ কেউ মুক্তিযুদ্ধ বিরোধীও রয়েছে। এমনকি এক নম্বর গেজেটের যাচাই-বাছাই করতেও ব্যাপক অনিয়মের আশ্রয় নেওয়া হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন।

জানতে চাইলে উপজেলা যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্য সচিব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরদার মোস্তফা শাহিন বলেন, কমিটিতে থাকা বীর মুক্তিযোদ্ধা ও উপস্থিত সাক্ষীদের মতামতের ভিত্তিতে তালিকা করে জামুকায় প্রেরণ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে মুক্তিযোদ্ধাদের একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। এখন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বাছাই কমিটির সভাপতি এম আফজাল হোসাইন ও সদস্য এম এ খালেক খান অর্থ বাণিজ্যের কথা অস্বীকার করে বলেন, অভিযোগকারীদের নিয়ে ৫৩ জনের তালিকা করা হয়েছে। তাদের স্বার্থহানী ঘটায় এখন আমাদের নামে অপপ্রচার চালাচ্ছেন।

বিডি প্রতিদিন/এমআই


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর