শিরোনাম
প্রকাশ : ১৯ এপ্রিল, ২০২১ ১৫:৩১
প্রিন্ট করুন printer

লকডাউনের মাঝে হিলিতে অস্থির চালের বাজার

কেজিতে বেড়েছে ৩ থেকে ৪ টাকা

দিনাজপুর প্রতিনিধি


লকডাউনের মাঝে হিলিতে অস্থির চালের বাজার
Google News

আমদানি কমের অজুহাতে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে এবং স্থানীয় খুচরা বাজারে বেড়েছে সব ধরনের চালের দাম। চারদিনের ব্যবধানে প্রকারভেদে কেজিতে বেড়েছে ৩-৪ টাকা। লকডাউনের মাঝে হঠাৎ চালের বাজার অস্থির হওয়ায় বিপাকে হাকিমপুরসহ বিভিন্ন উপজেলার সাধারণ ক্রেতারা।

চালের বাজার স্বাভাবিক রাখতে গত ১০ জানুয়ারি থেকে হিলি স্থলবন্দরসহ কয়েকটি বন্দরের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে চাল আমদানির অনুমতি দেয় সরকার। আমদানি শুরুর প্রথমদিকে চালের বাজারে কিছুটা প্রভাব পড়লেও প্রশাসনের নজরদারির অভাবে অস্থির হয়ে উঠেছে চালের বাজার। গত রবিবার দুপুরে হিলি বাজারে দেখা যায়, বাজারে আমদানিকৃত সব ধরনের চালের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। চার দিনের ব্যবধানে প্রকারভেদে প্রতি কেজি চালের দাম বেড়েছে ৩ থেকে ৪ টাকা। স্বর্ণা-৫ জাতের চাল কেজিতে ৩ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৪৫ টাকা কেজি দরে, কেজিতে ৪ টাকা বেড়ে আটাশ জাতের চাল ৪৮ টাকা, কেজিতে ৪ টাকা বেড়ে ৫৬ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে মিনিকেট। এছাড়াও সম্পা কাটারি জাতের চাল কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৫৭ টাকা কেজি দরে।

চাল কিনতে আসা ভ্যানচালক আলম হোসেনসহ কয়েকজন ক্রেতা জানান, করোনাভাইরাসের কারণে লকডাউন চলছে। আর লকডাউনে রোজগার নেই। সব জিনিসের দামের সাথে হঠাৎ চালের দাম বেড়েছে। কেজিতে ৩-৪ টাকা বেড়ে যাওয়ায় পরিবার পরিজন নিয়ে বিপাকে পড়েছি। একটু সুযোগ পেলেই ব্যবসায়ীরা নানা অজুহাতে দাম বাড়িয়ে দেয়। আর কষ্ট ভোগ করতে হয় আমাদের। প্রশাসনের কাছে অনুরোধ, চালের বাজার মনিটরিং করলে হয়তো দাম স্বাভাবিক হয়ে আসবে।

চট্টগ্রাম থেকে হিলি স্থলবন্দরে চাল কিনতে আসা রাকিব জানান, আমি গেলো এক মাস থেকে হিলি স্থলবন্দর থেকে চাল কিনি। হঠাৎ করে প্রতিকেজি চালের দাম বন্দরেই ২ থেকে ৩ টাকা বেড়েছে।

খুচরা চাল বিক্রেতা স্বপন বলেন, স্থলবন্দরে প্রতি কেজি চালের দাম ২ থেকে ৩ টাকা বেশি কিনতে হচ্ছে। বন্দর থেকে বেশি দামে কেনার সাথে আবার চালগুলো আনার খরচ আছে। সবমিলিয়ে বেশি দামে কিনেছি, বেশি দামে বিক্রি করছি। এখানে সিন্ডিকেট করে দাম বাড়ার কোন সুযোগ নেই বলেও জানান তিনি।

হিলি স্থলবন্দরের চাল আমদানিকারক ললিত কেসেরাসহ কয়েকজন সাংবাদিকদের জানান, চাল আমদানি আগের তুলনায় কমে গেছে। যে কারণে চালের দাম কিছুটা বেড়েছে। সরকারের বেঁধে দেওয়া সময়সীমার মধ্যে চাল আমদানি করতে না পারলে ২৫% শুল্কের বিপরীতে ৬০% শুল্ক দিয়ে চাল আমদানি করতে হবে। আর ৬০% শুল্ক দিয়ে চাল আমদানি করলে অনেক
টাকা লোকসান গুণতে হবে। তাই আমরা চাল লোডিং কমিয়ে দিয়েছি।

সরকার যদি চাল আমদানির সময়সীমা বাড়িয়ে দেয়, তাহলে চাল আমদানিও বাড়বে। সেই সাথে বাজারে চালের দামও কমে আসবে।

উল্লেখ্য, হিলি কাস্টমসের তথ্য মতে, চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি থেকে চাল আমদানির পর ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত ভারতীয় ৩ হাজার ৪৭৩ ট্রাকে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন চাল আমদানি হয়েছে এই বন্দর দিয়ে। যা থেকে সরকার রাজস্ব পেয়েছে ১৩০ কোটি ৬ লক্ষ টাকা।


বিডি প্রতিদিন/ফারজানা

এই বিভাগের আরও খবর