২৩ আগস্ট, ২০২১ ১৮:১৩

মৌলভীবাজারে হাওর তীরে সম্ভাবনাময় হাঁসের খামার

সৈয়দ বয়তুল আলী, মৌলভীবাজার

মৌলভীবাজারে হাওর তীরে সম্ভাবনাময় হাঁসের খামার

মৌলভীবাজারে হাওর তীরে হাঁসের খামার।

হাওর অধ্যুষিত মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার হাওর কাউয়াদীঘির তীরে কৃষকরা গড়ে তুলেছেন হাঁসের খামার। একেক খামারে রয়েছে হাজারো হাঁস। এসব হাঁস হাওরের মাছ, জলজ প্রাণী এবং জলজ উদ্ভিদ খেয়ে থাকে। শুকনো মৌসুমে খাল-বিল-নদীর অল্প পানিতে হাঁসের পর্যাপ্ত খাবার পাওয়া গেলেও বর্ষা মৌসুমে খাদ্য সংকটে পড়েন খামারিরা। বর্ষা মৌসুমে হাওরের খাল, বিল, নদী-নালার পানিতে তলিয়ে যায় হাওরের বিস্তৃত অঞ্চল। ফলে হাঁসের উন্মুক্ত বিচরণ হয় বাধাগ্রস্ত। দেখা দেয় খাদ্য সংকট।

সরেজমিন দেখা যায়, কাউয়াদীঘি হাওরের পূর্ব তীরে রাজনগর উপজেলার শশ্যসুতা গ্রামের শংকর ভট্রের বাড়িতে চারপাশ টিনের বেড়া দিয়ে তৈরি করা হয়েছে হাঁসের খামার। তিনজন কর্মী কাজ করছেন সেখানে।

খোঁজ নিয়ে আরো জানা যায়, হাওর পাড়ের অনেকেই এসব হাঁস পোষেণ এবং এই হাঁসের ডিম, বাচ্চা ও বড় হাঁস বিক্রি করেই জীবিকা নির্বাহ করেন। রাজনগর উপজেলা প্রাণীসম্পদ অফিস সূত্রে জানা যায়, রাজনগরে ১১০টি হাঁসের খামার রয়েছে। ৭০টি বড় খামার। বেশির ভাগ খামার হাওর কেন্দ্রীক।

স্থানীয় লোকজন বলেন, হাওরের হাঁসের তেল ভাল হয়। এই হাঁসের স্বাদ অন্য হাঁস থেকে আলাদা বলেই এর কদর আছে স্থানীয় বাজারে। এই হাঁসের ডিমেরও চাহিদা অনেক। স্থানীয় ব্যবসায়ী মিছবা মিয়া ও ইলিম মিয়া বলেন, স্থানীয় খামারে উৎপাদিত ডিমের চাহিদা স্থানীয় বাজারে অনেক বেশি হওয়ায় দামও পাওয়া যায়।

হাঁসের খামারি শংকর ভট্র বলেন, আমি ২০ বছর আগে ১৫০টি হাঁস দিয়ে খামার শুরু করি। এখন আমার খামারে প্রায় ১ হাজার হাঁস আছে। আমার খামারে তিনজন শ্রমিক রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে হাঁস ডিম দেওয়া বন্ধ করে দেয়। এই সময় হাঁসকে ধান, গম, ধানের খোরা (খোসা) ক্রয় করে খাওয়াতে হয়। তাই আমাদের পড়তে হয় আর্থিক সংকটে। শ্রমিকদের মজুরি দিতে হিমশিম খেতে হয়। তবে লাভজনক হওয়ায় হাওর পাড়ে এখন অনেকেই হাঁসের খামার করতে আগ্রহী।

এ ব্যাপারে রাজনগর উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. নিবাস চন্দ্র পাল বলেন, হাওরাঞ্চলে হাঁস পালন একটি সম্ভাবনাময় ব্যবসা। আমরা আমাদের পক্ষ থেকে তাদের সার্বিক সহযোগিতা ও পরামর্শ দিয়ে থাকি।

বিডি প্রতিদিন/এমআই

এই বিভাগের আরও খবর