১ অক্টোবর, ২০২১ ১৭:০২
ভোগান্তিতে শাপলা বিলের পর্যটকরা

উজিরপুর-আগৈলঝাড়া-গোপালগঞ্জ সড়কের বেহাল দশা

রাহাত খান, বরিশাল

উজিরপুর-আগৈলঝাড়া-গোপালগঞ্জ সড়কের বেহাল দশা

বরিশালের উজিরপুর থেকে আগৈলঝাড়া হয়ে গোপালগঞ্জ পর্যন্ত সড়কটির বেহাল দশা। বড় বড় খানাখন্দে ভরা সড়কটি এখন যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী। সড়কের দুরাবস্থার কারণে মাসখানেক আগে বন্ধ হয়ে গেছে বরিশাল-সাতলা রুটের বাস চলাচল। বিশেষ করে উজিরপুরের শাপলার বিল যেতে ওই সড়ক মারাতে হওয়ায় দুর্ভোগের শেষ নেই পর্যটকদের। ভুক্তভোগীরা অবিলম্বে সড়কটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে, সড়কটির একাংশ সংস্কারের জন্য ইতোমধ্যে টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বরিশাল এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী শরীফ মো. জামাল উদ্দিন। 

বরিশালের উজিরপুর ও বানারীপাড়া উপজেলাসহ আশপাশের এলাকা থেকে আগৈলঝাড়া হয়ে গোপালগঞ্জ যাওয়ার জন্য সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এই সড়কের উজিরপুর অংশের ২৭ কিলোমিটারের চরম দুরাবস্থা। যানবাহন চলাচলের একেবারেই অনুপযোগী হয়ে পড়েছে সড়কটিতে। পায়ে হেঁটে চলাও দূরুহ হয়ে পড়েছে। খানাখন্দে ভরা সড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকায় মাস খানেক আগে বরিশাল থেকে সাতলা রুটের বাস চলাচলও বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন ওই সড়কের ভ্যান চালক রহিম মিয়া। 

রাতে এই সড়কে চলাচল করা দূরুহ বলে জানিয়েছেন ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালক বাদশা হাওলাদার। 

এদিকে, বরিশালের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র উজিরপুরের শাপলার বিল যেতে এই সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ভাঙ্গা সড়কে শাপলার বিল যেতে আগ্রহ হারাচ্ছেন পর্যটকরা। খানাখন্দের কারণে দিনের আলো ফোঁটার আগে এই সড়কে চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। 

পর্যটক নাসরিন আক্তার বলেন, শাপলার আসল সৌন্দর্য উপভোগ করতে হলে ভোরের আলো কাটাতে হয় বিলে গিয়ে। কিন্তু দিনের আলো ফোঁটার আগে এই সড়ক চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সড়কটি সংস্কার করা হলে শাপলার বিলে পর্যটক আরও বাড়বে বলে তিনি মনে করেন। 

পর্যটক শহীদুল ইসলাম বলেন, বরিশাল থেকে শাপলার বিলের দূরত্ব প্রায় ৬০ কিলোমিটার। অথচ এই পথ যেতে ৩ ঘণ্টা বেশি সময় লাগছে। 

বরিশাল সাংস্কৃতিক সংগঠন সমন্বয় পরিষদের সাবেক সভাপতি কাজল ঘোষ বলেন, কষ্ট করে কেউ শাপলার সৌন্দর্য দেখতে যাবে না। রাস্তাঘাট ভালো না হলে পর্যটকরা শাপলার বিলে যেতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে। তাই শাপলার বিলে পর্যটক বাড়াতে অবিলম্বে সড়কটি সংস্কার দাবি করেন তিনি। 

উল্লেখিত সড়কটির ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে বরিশাল স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী বিভাগ (এলজিইডি)। সড়কটির বেহাল দশার কথা স্বীকার করেন এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী শরফি মো. জামাল উদ্দিনও। 

তিনি বলেন, এই সড়কের উজিরপুর অংশের ২৭ কিলোমিটারের মধ্যে এই মুহূর্তে ১৬ কিলোমিটার সংস্কারের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। এখন দরপত্র মূল্যায়ন করে ঠিকাদার নির্বাচন করা হবে। নির্বাচিত ঠিকাদার দ্রুত সংস্কার কাজ শেষ করবেন। ওই সড়কের বাকী ১১ কিলোমিটার আপাতত এলজিইডি নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় মেরামত করবে। 

গোপালগঞ্জ এবং শাপলার বিল যেতে সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় আগামীতে এই সড়কের দুই পাশ প্রশস্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাহী প্রকৌশলী শরীফ মো. জামাল উদ্দিন।

বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর