২৯ জুন, ২০২২ ১৬:০১

নওগাঁয় জমে ওঠেনি পশুর হাট

বাবুল আখতার রানা, নওগাঁ

নওগাঁয় জমে ওঠেনি পশুর হাট

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ক্ষুদ্র খামারি সাইদুর রহমান এক বছর ধরে দেশি জাতের একটি ষাঁড় পুষে বড় করেছেন। আশা করেছিলেন গরুটি বিক্রি করে লাভের মুখ দেখবেন। কিন্তু বাজারে নেওয়ার পর দাম যা উঠেছে তা শুনে হতাশ। তার বাড়ি নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার তালপুকুরিয়া গ্রামে। তিনি বলেন, আশা করেছিলাম, গরুটার দাম ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত উঠবে।

গত শনিবার মহাদেবপুর হাটে সর্বোচ্চ দাম উঠেছিল ৯৫ হাজার টাকা। সোমবার দাম বলছে ৯২-৯৩ হাজার টাকা। গরুর খাবারের যে দাম তাতে এই দামে বিক্রি করলে আমার কোনো লাভই থাকবো না। নওগাঁর অন্যতম বড় পশুর হাট মাতাজী হাটে গিয়ে দেখা যায়, কোরবানির পশুতে পুরো হাট ঠাসা। বিপুল পরিমাণ পশু যেমন উঠেছিল তেমনি বিক্রেতাদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে ছিল না আশানুরূপ ক্রেতা। ফলে অনেকটা বাধ্য হয়ে কম দামে ব্যাপারী ও মৌসুমি ব্যবসায়ীদের কাছে পশু বিক্রি করেছেন বিক্রেতারা। আবার অনেককেই আশানুরূপ দাম না পাওয়ায় হাট থেকে গরু ফেরত নিয়ে গেছেন।

ক্রেতা-বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, মাতাজীরহাট সপ্তাহে বুধবার দিন পশুর হাট বসে। সারা বছর হাটটিতে গবাদিপশুর বেচাকেনা হলেও কোরবানি উপলক্ষে প্রায় এক মাস আগে থেকে গরু-ছাগলের আমদানি কয়েক গুণ বেড়ে যায়। ঈদুল আজহার বাকি আর মাত্র ১০-১২ দিন। অথচ এখনও হাটে আশানুরূপ ক্রেতার দেখা নেই। কোরবানির আগে আগামী বুধবার আর একটি পশুর হাট লাগবে এই বাজারে।

হাট ঘুরে দেখা যায়, দেশি জাতের গরুর আমদানি ছিল বেশি। এছাড়া ছিল বিদেশী জাতের কিছু বড় গরু। তবে বিক্রি হয়েছে দেশি জাতের মাঝারি আকারের গরু। ৬০ থেকে ৮০ হাজার টাকা দামের গরুর চাহিদা ছিল বেশি। বিক্রিতারা জানান, হাটে গরুর ব্যাপক আমদানির তুলনায় ক্রেতা কম থাকার সুযোগে মৌসুমী ব্যবসায়ী ও ব্যাপারীরা বেশ কম দামে গৃহস্থ-খামারিদের কাছ থেকে গরু-ছাগল কিনে নিয়েছেন। নওগাঁর পতনীতলার ঘোষনগর গ্রামের খামারি সুলতান মোশায়েক সুমন দেশী জাতের একটি ষাঁড় বিক্রি করতে এসেছিলেন।

কিন্তু দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও গরুটির দাম কেউ করেননি। শেষমেশ গরুটি বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। হাট ইজারাদার বলেন, মাতাজী হাট নওগাঁর সবচেয়ে বড় পশুরহাট। অন্য বছর ঈদের তিন-চার হাট আগে থেকেই এখানে হাট জমে উঠে। কিন্তু এবার তা জমে উঠেনি। আজকে হাটে প্রচুর গরু-ছাগলের আমদানি হয়েছে অথচ ক্রেতা নেই। কিছু ব্যাপারী কম দামে গরু-ছাগল কিনেছেন। 
জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সরকার বিভাগ সূত্রে জানা যায়, জেলায় ছোট-বড় ১০৪টি হাট রয়েছে।

এর মধ্যে স্থায়ী গবাদিপশুর হাট রয়েছে ৩৮টি। নিয়ামতপুরের ছাতড়া, মান্দার চৌবাড়িয়া ও সতিহাট, নওগাঁ সদরের ত্রি-মোহনী, সাপাহারের দিঘিরহাট, পোরশার মশিদপুর, পত্নীতলার মধুইল, ধামইরহাট সদর, রাণীনগরের আবাদপুকুর, আত্রাইয়ের আহসানগঞ্জ, মহাদেবপুরের মাতাজী ও বদলগাছীর কোলা হাটে বেশি গবাদিপশু বিক্রি হয়। জেলা প্রাণীসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এ বছর জেলায় ৪ লাখ ৩৩ হাজার গবাদিপশু কোরবানির প্রস্তুত আছে।

এর মধ্যে জেলায় গতবার কোরবানি হওয়া গবাদিপশুর সংখ্যা অনুযায়ী এবার কোরবানি হতে পারে ২ লাখ ৯৩ হাজার পশু। কোরবানি উপযুক্ত অতিরিক্ত ১ লাখ ৩৯ হাজার গবাদিপশু দেশের অন্যান্য অঞ্চলের চাহিদা মেটাবে। জেলায় বাণিজ্যিকভাবে গবাদিপশু লালন-পালনকারী খামারের সংখ্যা ২৫ হাজার।

বিডি প্রতিদিন/এএ

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর