Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ১৮ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৭ আগস্ট, ২০১৯ ২২:৫৯

সন্তানের ওপর মায়ের অধিকার

মুহম্মাদ ওমর ফারুক

সন্তানের ওপর মায়ের অধিকার

মা শব্দটি মানুষ মাত্রেরই প্রিয়। আল্লাহ তাঁর রহমতের সুধা দিয়ে প্রত্যেক মাকে সৃষ্টি করেছেন। তাঁদের বানিয়েছেন করুণার আধার হিসেবে। সন্তানের প্রতি মায়ের ভালোবাসা, করুণা, মমত্ববোধ আল্লাহর অশেষ কুদরতেরই নিদর্শন। এটি শুধু মানুষ নয়, প্রাণিজগতের সব প্রাণীর জন্যও এক সাধারণ সত্যি। এজন্য আল্লাহ ও রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পর মায়ের হক বেশি। একাধিক হাদিসে এ বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করলেন, ‘ইয়া রসুলুল্লাহ! আমি সবার আগে কার সঙ্গে সদাচরণ করব? রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমার মায়ের সঙ্গে। লোকটি প্রশ্ন করলেন, তারপর? উত্তর এলো তোমার মা। লোকটি আবার জানতে চাইলেন অতঃপর কে? রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবারও জবাব দিলেন, তোমার মা। ওই লোক চতুর্থবার একই প্রশ্ন করলে রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমার পিতা।’ বুখারি, মুসলিম।

রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শৈশবে তাঁর মাকে হারান। মায়ের প্রতি দায়িত্ব পালনের সৌভাগ্য তাঁর সেভাবে হয়নি। আবু দাউদের হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে, রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে যখন তাঁর দুধমা হজরত হালিমা আসতেন তখন তিনি তাঁকে দেখামাত্রই সম্মান জানিয়ে উঠে দাঁড়াতেন। নিজের পাগড়ি অথবা গায়ের চাদর হজরত হালিমাকে বসার জন্য পেতে দিতেন। মায়ের প্রতি সদাচরণ সন্তানের জন্য অবশ্যকরণীয়। আল্লাহর কাছে মায়ের মর্যাদা কেমন তা প্রকাশ পেয়েছে বায়হাকির হাদিসে। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, মায়ের দোয়া অতি দ্রুত আল্লাহর দরবারে কবুল হয়। আল্লাহ বান্দার সব গুনাহ ইচ্ছামতো ক্ষমা করতে পারেন। কিন্তু মাতা-পিতার অবাধ্যতার গুনাহ আল্লাহ কখনো ক্ষমা করবেন না। বরং ওই অবাধ্য সন্তানকে এই পার্থিব জীবনের মৃত্যুর আগে শাস্তি দিয়ে থাকেন। বায়হাকি। মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের বেহেশত। মায়ের অবাধ্য সন্তানকে আখেরাতে কঠিন জবাবদিহির সম্মুখীন হতে হবে। আলকামা নামক এক সাহাবি মারা যাচ্ছেন, এমন মুহূর্তে তাঁর জবান থেকে কালেমা বের হচ্ছে না। খবর পেয়ে রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এলেন এবং তিনি আলকামার মাকে জিজ্ঞাসা করলেন, আপনি কি পুত্রের ওপর অখুশি? উত্তরে তিনি বললেন, ইয়া রসুলুল্লাহ! আমার ছেলে আমার চেয়ে তার স্ত্রীকে বেশি গুরুত্ব দিত। এ কারণে আমি তার প্রতি নারাজ। তখন রসুলুল্লাহ হুকুম দিলেন, আলকামাকে আগুনে জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ছারখার করে দাও। আলকামার মা এ কথা শুনে গগনবিদারী চিৎকার দিয়ে বললেন, ইয়া রসুলুল্লাহ! আমার চোখের সামনে আমার সন্তানকে আগুনে জ্বালিয়ে দিলে আমি মা হয়ে কেমন করে তা সহ্য করব? রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন আলকামার মাকে অনুরোধ করলেন, তাহলে আপনার সন্তানকে ক্ষমা করে দিন। তা না হলে অনন্তকাল ধরে সে জাহান্নামে জ্বলবে। তা আপনি কী করে সহ্য করবেন? এ কথা শুনে মায়ের মন নরম হয়ে গেল, তিনি সঙ্গে সঙ্গে ক্ষমা করে দিলেন। তারপর আলকামার জবান থেকে কালেমা তাইয়েবা জারি হয়ে গেল এবং কালেমা পড়তে পড়তে ইমানের সঙ্গে আলকামা মৃত্যুবরণ করলেন।

      লেখক : ইসলামবিষয়ক গবেষক।


আপনার মন্তব্য