আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নির্বাচনী সরঞ্জাম বিতরণ কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনের আওতাধীন ৯টি উপজেলার সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তারা দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের কাছে ভোটগ্রহণের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম হস্তান্তর করছেন।
এর আগে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের সব ধরনের সরঞ্জাম সংশ্লিষ্ট উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে পাঠানো হয়। এসব সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে ব্যালট পেপার, ব্যালট বাক্স, অফিসিয়াল সিল, মার্কিং সিল, ব্রাস সিল, অমোচনীয় কালি, স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সের লক, হেসিয়ান বড় ও ছোট ব্যাগ, মোম, গানিব্যাগসহ নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অপরিহার্য বিভিন্ন উপকরণ।
সকাল থেকেই প্রিজাইডিং কর্মকর্তা, সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ও আনসার সদস্যদের কাছে কঠোর নিরাপত্তা ও নির্ধারিত প্রটোকল অনুসরণ করে এসব সামগ্রী বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী সরঞ্জাম সংরক্ষণ ও বিতরণে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা, যাতে পরিবহন ও হস্তান্তর প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনিয়ম বা বিশৃঙ্খলা না ঘটে।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মুহাম্মদ শানিয়াজ্জামান বলেন, উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে জেলার ৬টি সংসদীয় আসনের ৮০৫টি ভোটকেন্দ্রে নির্বাচনী সামগ্রী পাঠানো হচ্ছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উভয়ের জন্য প্রয়োজনীয় সব সরঞ্জাম সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণে আমরা সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি।
জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মোট ভোটার সংখ্যা ২৫ লাখ ৬৮ হাজার ১২৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৩ লাখ ২৯ হাজার ৯৭৮ জন, নারী ভোটার ১২ লাখ ৩৮ হাজার ১৩৩ জন এবং প্রবাসী ও পোস্টাল ভোটার রয়েছেন ৩৯ হাজার ৯৬৯ জন।
জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দায়িত্বে থাকবেন ৩ হাজার ৬৬৩ জন নিরাপত্তা সদস্য। এর মধ্যে সেনাবাহিনীর ৬২০ জন, বিজিবির ৪৩০ জন, পুলিশের ২ হাজার ৩৮৯ জন, র্যাবের ৭২ জন এবং আনসার ব্যাটালিয়নের ১৫২ জন সদস্য মাঠে থাকবেন। পাশাপাশি গ্রাম পুলিশ (চৌকিদার ও দফাদার) ভোটকেন্দ্র ও আশপাশের এলাকায় দায়িত্ব পালন করবেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বাহিনীর পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা সক্রিয় রয়েছেন। নির্বাচনী এলাকার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ প্রতিরোধ, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা এবং মাঠ পর্যায়ে নিয়োজিত বাহিনীকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসনের ৪০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে দায়িত্ব পালন করবেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, জেলায় মোট ৮০৫টি ভোটকেন্দ্রে ৮০৫ জন প্রিজাইডিং কর্মকর্তা, ৫ হাজার ১৫২ জন সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা এবং ১০ হাজার ৩৬৪ জন পোলিং কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় জেলার ৮০৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে প্রায় ৫৭৪টিকে অতি ঝুঁকিপূর্ণ, ঝুঁকিপূর্ণ ও সাধারণ কেন্দ্র হিসেবে শ্রেণিবিন্যাস করেছে জেলা পুলিশ। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল জোরদার করা হবে বলে জানিয়েছেন জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা।
বিডি-প্রতিদিন/মাইনুল