আগামীকাল বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে দ্বীপজেলা ভোলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। আজ বুধবার দুপুর থেকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ভোটকেন্দ্রগুলোতে নির্বাচনি সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছেন। ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তায় ছয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মোট ১০ হাজার ১৭৩ জন সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভোলার জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ডা. শামীম রহমান।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ভোলার চারটি সংসদীয় আসনে মোট ৫২৫টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে ১৩১টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসবের মধ্যে ৪৩টি কেন্দ্র দুর্গম চরাঞ্চলে অবস্থিত।
ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড ও পুলিশের বিশেষ নজরদারি থাকবে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুতগামী নৌযান প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে হেলিকপ্টার ব্যবহারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
আসনভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, ভোলা-১ (সদর) আসনে মোট ১১৪টি কেন্দ্রের মধ্যে ২২টি ঝুঁকিপূর্ণ। ভোলা-২ (বোরহানউদ্দিন ও দৌলতখান) আসনে ১৩৮টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩২টি ঝুঁকিপূর্ণ। ভোলা-৩ (লালমোহন ও তজুমদ্দিন) আসনে ১১৯টি কেন্দ্রের মধ্যে ৫০টি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ভোলা-৪ (চরফ্যাশন ও মনপুরা) আসনে ১৫৪টি কেন্দ্রের মধ্যে ২৭টি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
এর মধ্যে তজুমদ্দিন উপজেলার ৩৬টি কেন্দ্রের সবগুলোই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন দুর্গম চরাঞ্চলে অবস্থিত কেন্দ্রগুলোর মধ্যে ভোলা-১ আসনে ১২টি, ভোলা-২ আসনে ২টি, ভোলা-৩ আসনে ১৭টি এবং ভোলা-৪ আসনে ১২টি কেন্দ্র রয়েছে।
জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান বলেন, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ ও দুর্গম কেন্দ্রগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বলয়ের পাশাপাশি স্ট্রাইকিং ফোর্স, পুলিশের মোবাইল টিম, নৌবাহিনী, বিজিবি, র্যাব ও কোস্টগার্ডসহ বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দায়িত্ব পালন করবে।
বিডি-প্রতিদিন/জামশেদ