গাইবান্ধার ৫টি আসনের ৬৭৫টি ভোটকেন্দ্রে পৌঁছানো হচ্ছে নির্বাচনী সরঞ্জাম। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে নির্বাচনী সংশ্লিষ্টদের মাধ্যমে এসব সরঞ্জাম পৌঁছানো হচ্ছে।
জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, গাইবান্ধা জেলার ৫টি সংসদীয় আসেন মোট ২১ লাখ ৯০ হাজার ৪৩২ জন ভোটার রয়েছে। এসব ভোটার ৬৭৫ ভোটকেন্দ্রে ৪০ জন প্রার্থীকে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এখানে ৩৭৯টি ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৭৯টি কেন্দ্রকে ‘অতি ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এসব ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বিশেষ নজরদারি থাকবে বলে জানিয়েছেন প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনে ভোটের মাঠে ৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে জিয়াউল ইসলাম, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে মাজেদুর রহমান, লাঙল প্রতীকে শামীম হায়দার পাটোয়ারী, হাতপাখা প্রতীকে রমজান আলী, কাঁচি প্রতীকে পরমানন্দ দাস, প্রজাপতী প্রতীকে কওছর আজম হান্নু, কলস প্রতীকে ছালমা আক্তার ও ঢেঁকি প্রতীকে মোস্তফা মহসিন।
এ আসনে ১২৩টি কেন্দ্রে মোট ৪ লাখ ১৯ হাজার ১০২ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।
গাইবান্ধা-২ (সদর) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ৭ জন প্রার্থী। এ আসনে ধানীর শীষ প্রতীকে আনিসুজ্জামান খান বাবু, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের আব্দুল করিম, লাঙল প্রতীকের আব্দুর রশীদ সরকার, হাতপাখা প্রতীকের আব্দুল মাজেদ, কলম প্রতীকের শাহেদুর জাহান, কাস্তে প্রতীকের মিহির কুমার ঘোষ ও কাঁচি প্রতীক প্রার্থী আহসানুল হাবীব সাঈদ।
এ আসনে ১১৮টি ভোট কেন্দ্রে ৪ লাখ ১১ হাজার ৪৬০ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।
গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্লাপুর-পলাশবাড়ী) আসনে ১০ জন প্রার্থী ভোটের মাঠে লড়ছেন। এ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মইনুল হাসান সাদিক, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে আবুল কাওছার মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, লাঙল প্রতীকে মইনুর রাব্বী চৌধুরী, ট্রাক প্রতীকে সুরুজ মিয়া, হাতপাখা প্রতীকে এটিএম আওলাদ হোসাইন, কাস্তে প্রতীকে আব্দুল্লাহ আদিল, আপেল প্রতীকে মোছাদ্দিকুল ইসলাম, কলম প্রতীকে মনজুরুল হক, ঘোড়া প্রতীকে এস এম খাদেমুল ইসলাম খুদি ও ঢেঁকি প্রতীক প্রার্থী আজিজার রহমান।
এ আসনে ১৪৬টি কেন্দ্রে ৫ লাখ ৬ হাজার ১৮৫ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।
গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনে ৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে শামীম কায়সার, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে আব্দুর রহিম সরকার, লাঙল প্রতীকে কাজী মশিউর রহমান, হাতপাখা প্রতীকে সৈয়দ তৌহিদুর রহমান তুহিন, কোদাল প্রতীকে আতোয়ারুল ইসলাম ও মোটরসাইকেল প্রতীকে আব্দুর রউফ আকন্দ।
এ আসনে ১৪২টি কেন্দ্রে ৪ লাখ ৬৮ হাজার ৩৮৪ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।
গাইবান্ধা-৫ (ফুলছড়ি-সাঘাটা) আসনে ভোটের মাঠে ৯ জন প্রার্থী লড়ছেন। তারা হলেন ধানের শীষ প্রতীকে ফারুক আলম, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে আব্দুল ওয়ারেছ, লাঙল প্রতীকে শামীম হায়দার পাটোয়ারী, হাতপাখা প্রতীকে আজিজুল ইসলাম, কাঁচি প্রতীকে রাহেলা খাতুন, কাস্তে প্রতীকে শ্রী নিরমল, হাঁস প্রতীকে নাহিদুজ্জামান নিশাদ, ঘোড়া প্রতীকে মেহেদী হাসান বিদ্যুৎ ও মোটরসাইকেল প্রতীকে এইচ এম গোলাম শহীদ রনজু।
এ আসনে ১৪৬টি কেন্দ্রে ৩ লাখ ৮৫ হাজার ২৬২ জন ভোটার তাদের ভোটধিকার প্রয়োগ করবেন।
রিটার্নিং কর্মকর্তা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনকে ঘিরে গাইবান্ধার পাঁচটি আসনে সব ভোট কেন্দ্রেই থাকবে সিসিটিভি ক্যামেরা। জেলা ও উপজেলা কন্ট্রোল রুম থেকে কেন্দ্রগুলো মনিটর করা হবে। চরাঞ্চলের বিদ্যুৎবিহীন ১১টি কেন্দ্রে জেনারেটরের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
এ বিষয়ে গাইবান্ধার রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি অবাধ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণের লক্ষ্যে গোটা জেলায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। জেলায় দায়িত্ব পালন করবেন ৪০ জন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও ১৫ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট। ১ হাজার ১৫০ জন সেনাবাহিনী কর্মকর্তা-সদস্য, ১৫ প্লাটুন বিজিপি, ২ হাজারের বেশি পুলিশ, রাবের ১৫টি টিম, ৮ হাজার ৭৭৫ জন আনসার-ভিডিপির সদস্য এবং অসংখ্য নৌ-পুলিশ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করবে।
বিডি-প্রতিদিন/বাজিত