ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটের আগে পাল্টে গেছে চট্টগ্রামের ছয় সংসদীয় আসনের ভোটের হিসাব-নিকাশ। বিএনপি, জামায়াত জোটের সাথে পাল্লা দিয়ে এসব আসনে লড়াইয়ের আভাস মিলেছে বৃহত্তর সুন্নী জোটের এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের। ফলে চট্টগ্রামের ১৬ সংসদীয় আসনের মধ্যে অন্তত ছয়টি আসনে মিলেছে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনগুলোতে কপাল খুলতে পারে যেকোনও প্রার্থীর।
বিএনপি’র চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা গোলাম আকবর খোন্দকার বলেন, “চট্টগ্রামের ১৬ আসনের প্রতিটাই বিজয়ী হবে ধানের শীষের প্রার্থী। ভোটের মাঠের সবচেয়ে জনপ্রিয় দল বিএনপি। নির্বাচনে তার প্রতিফলন গঠবে।”
‘বৃহত্তর সুন্নী জোট’র শীর্ষ নেতা ও বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের চেয়ারম্যান মাওলানা এম এ মতিন বলেন, “বৃহত্তর চট্টগ্রামে আমাদের বিশাল ভোট ব্যাংক রয়েছে। বিভিন্ন আসনে আমরা প্রত্যাশার বাইরে সাড়া পেয়েছি। এ অঞ্চলে আমাদের প্রার্থীরা বিজয়ী হওয়ার মতো অবস্থান তৈরি করেছেন।”
জানা গেছে, চট্টগ্রামের ১৬ সংসদীয় আসনে তফসিল ঘোষণার আগে বিএনপি এবং জামায়াত জোটের মধ্যে লড়াইয়ের আভাস মিললেও নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে পাল্টে যেতে থাকে মাঠের চিত্র। অন্তত ছয়টি আসনে লড়াই জমিয়ে তুলেছে বৃহত্তর সুন্নী জোট এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। ত্রিমুখী লড়াই হওয়া আসনগুলোর মধ্যে রয়েছে- চট্টগ্রাম-৬ রাউজান আসন। এ আসনে শুরুতে বিএনপি’র প্রার্থী গিয়াস কাদের চৌধুরী এবং জামায়াত প্রার্থী শাহজাহান মঞ্জুর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস মিললেও শেষ মুহুর্তে লড়াই জমিয়ে তুলেছে বৃহত্তর সুন্নী জোটের প্রার্থী ইলিয়াছ নুরী। এ আসনে প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে লড়ছেন সুন্নী জোটের প্রার্থী।
একই চিত্র চট্টগ্রাম-৭ রাঙ্গুনিয়া আসনের। এ আসনে বিএনপি’র প্রার্থী হুম্মাম কাদের এবং জামায়াত প্রার্থী এটিএম রেজাউল করিমের সঙ্গে টেক্কা দিচ্ছেন বৃহত্তর সুন্নী জোট মনোনীত প্রার্থী বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট প্রার্থী ইকবাল হাসান। তাই এ আসনে বিএনপি, জামায়াত এবং ইসলামী ফ্রন্ট প্রার্থীর মধ্যে ত্রিমুখী লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
চট্টগ্রাম-৮ চান্দগাঁও বোয়ালখালী আসনে মাঠের হিসাব পাল্টে দিয়েছেন বৃহত্তর সুন্নী জোটের প্রার্থীর সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান আজহারী। এ আসনে বিএনপি’র প্রার্থী এরশাদ উল্লাহর সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছেন প্রার্থী। এ আসন জামায়াত শরীক এনসিপিকে ‘আনঅফিসিয়াল’ ভাবে ছেড়ে দিলেও ভোটের মাঠে রয়েছেন দুই দলেরই প্রার্থী। ফলে ভোটারদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে ধুম্রজাল।
চট্টগ্রাম-১৩ আনোয়ারা আসনে ধুমকেতুর মতো জনপ্রিয় হয়ে উঠছেন বৃহত্তর সুন্নী জোট মনোনীত প্রার্থী বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট প্রার্থী এস এম শাহজাহান। এ আসনে বিএনপি’র প্রার্থী সরোয়ার জামাল নিজামের সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছেন বৃহত্তর সুন্নী জোট মনোনীত বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট প্রার্থী। ভোটের হিসাবে রয়েছেন জামায়াতের প্রার্থী মাহমুদুল হাসান।
চট্টগ্রাম-১৪ চন্দনাইশ আসনে জমে উঠেছে নির্বাচনী লড়াই। এ আসনে ত্রিমুখী লড়াই হওয়ার আভাস মিলেছে বিএনপি’র প্রার্থী জসিম উদ্দিন আহমেদ, এলডিপি’র ওমর ফারুক এবং বৃহত্তর সুন্নী জোট মনোনীত বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট প্রার্থী মাওলানা মো. সোলায়মানের মধ্যে। এ আসনে তিন প্রার্থীর যে কেউ জিততে পারেন।
চট্টগ্রাম-১৬ বাঁশখালী আসনেও নির্বাচন জমিয়ে তুলেছে বিএনপি’র বিদ্রোহী প্রার্থী লেয়াকত আলী। তিনি অগ্নি পরীক্ষায় ফেলেছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পাকে। মাঠে নেতা হিসেবে পরিচিত লেয়াকত আলী বাঁশখালীর জনপ্রিয় নেতাদের একজন। ব্যক্তি ইমেজের কারণে তার রয়েছে বিশাল ভোট ব্যাংক। যা নির্বাচনে গলার কাঁটা হয়ে দাড়াবে বিএনপি’র প্রার্থীর জন্য। সমান সমান প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুহাম্মদ জহিরুল ইসলাম।
বিডি প্রতিদিন/একেএ