শিরোনাম
প্রকাশ : ৫ এপ্রিল, ২০২১ ১০:০৪
প্রিন্ট করুন printer

করোনায় অনিশ্চিত ঈদের ছবি মুক্তি

আলাউদ্দীন মাজিদ

করোনায় অনিশ্চিত ঈদের ছবি মুক্তি

‘আসন্ন রমজানের ঈদে ছবি মুক্তি নিয়ে ফের অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। করোনার কারণে ঘোষিত লকডাউনের ফলে আবারও লোকসানের মুখে পড়ছেন সিনেমা হল মালিকরা। একই সঙ্গে ছবির প্রযোজকরাও। জনগণকে রক্ষায় সরকার আবারও দেশে লকডাউন দিতে বাধ্য হয়েছে। এতে করে অন্যসব বিনোদন কেন্দ্রের মতো সিনেমা হল আবারও বন্ধ হলো। লকডাউন শেষ হলেও কয়টি সিনেমা হল খুলবে তা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যায়। আর পর্যাপ্ত পরিমাণে সিনেমা হল না খুললে উন্নত বাজেটের ছবি মুক্তি দেবেন না প্রযোজকরা। কারণ তাঁরা ব্যবসা মানে মুনাফা করার জন্যই তো ছবি নির্মাণ করেছেন। অল্পসংখ্যক সিনেমা হলে ছবি মুক্তি দিলে মুনাফা দূরে থাক লগ্নিকৃত মূল টাকাই তো ফেরত আসবে না। ফলে ছবির ব্যবসার অন্যতম মৌসুম ঈদ হলেও অল্পসংখ্যক সিনেমা হলে কোনো প্রযোজকই বিগ বাজেটের ছবি মুক্তি দিতে চাইবে না। এতে গত বছরের মতো এবারের ঈদেও ছবি মুক্তি পাবে কিনা তা নিয়ে সংশয় দেখা দিল নতুন করে’- এমন আশঙ্কা চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মিয়া আলাউদ্দীনের। এই কর্মকর্তার কথায়, ছবি নির্মাণ, সিনেমা হলের উন্নয়ন ও বিদেশি ছবি আমদানির প্রক্রিয়া ঠিকঠাকভাবেই এগোচ্ছিল। কিন্তু করোনা সংক্রমণ হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় সরকার বাধ্য হয়েছে লকডাউন জারি করতে। এতে সিনেমা হল মালিকরা এতদিন ধরে ঈদ মৌসুমে ছবি মুক্তি দিয়ে অতীতের লোকসান পুষিয়ে নেওয়ার যে স্বপ্ন দেখছিল তা বলতে গেলে ভেস্তে গেল।

এদিকে প্রযোজক সমিতি সূত্রে জানা গেছে, ঈদে মুক্তির জন্য এখন পর্যন্ত পাঁচটি সিনেমা মুক্তির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন নির্মাতারা। ছবিগুলো হলো- শাকিব-বুবলী জুটির ‘বিদ্রোহী’, শাকিব-দর্শনার ‘অন্তরাত্মা’, আরিফিন শুভ-ঐশী জুটির ‘মিশন এক্সট্রিম’, সিয়াম-পূজা জুটির ‘শান’, নিরব-বুবলী জুটির ‘ক্যাসিনো’।

করোনার কারণে নতুন করে সিনেমা হল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন সংশ্লিষ্ট ছবির প্রযোজকরা। কারণ এসব ছবির বেশিরভাগই গত বছরের ঈদে মুক্তির জন্য চূড়ান্ত ছিল। কিন্তু করোনার কারণে সিনেমা হল তখনো বন্ধ থাকায় দুই ঈদেই ছবি আর মুক্তি দেওয়া যায়নি। দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকলে ছবির ম্যারিট নষ্ট হয়ে যায়। এখন এই দুশ্চিন্তায় লোকসানের মুখোমুখি বলে জানিয়েছেন ছবির প্রযোজকরা।

‘সিনেমা হল এখনই খুলে দিলে  যে দর্শক ছবি দেখতে আসবে এর কোনো গ্যারান্টি নেই। কারণ আমরা তাদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা কতটা করতে পারব সে প্রশ্ন রয়েই যায়।’ চলচ্চিত্র প্রযোজক খোরশেদ আলম খসরু এ কথা জানিয়ে বলেন, করোনা সংক্রমণ ঝুঁকি থেকে মুক্ত থাকার ব্যবস্থা কতটা বা কীভাবে করা যাবে তার দায়িত্ব  কে নেবে। এমন অবস্থা চলতে থাকলে ছবি মুক্তির বিকল্প চিন্তা করতে হবে। কী সেই বিকল্প চিন্তা? এমন প্রশ্নে প্রযোজক কামাল আহমেদ বলেন, এ অবস্থায় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ছবি মুক্তি দেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায়  নেই। কারণ পর্যাপ্ত পরিমাণে সিনেমা হল কবে খুলবে তারও কোনো নিশ্চয়তা নেই। দীর্ঘদিন ধরে যদি সিনেমা হল বন্ধ থাকে তাহলে নির্মাতারা ছবি নির্মাণ কীভাবে করবেন। তাই সিনেমা শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে এই মুহূর্তে ডিজিটাল প্ল্যাটফরমে ছবি মুক্তির আর কোনো বিকল্প নেই। এদিকে ঈদে মুক্তি প্রতীক্ষিত ওপরে উল্লিখিত পাঁচটি ছবি ছাড়াও মুক্তির জন্য আরও প্রস্তুত রয়েছে দীপংকর দীপনের ‘অপারেশন সুন্দরবন’, দেবাশীষ বিশ্বাসের ‘শ্বশুরবাড়ি জিন্দাবাদ-২’, জাজ মাল্টিমিডিয়ার ‘জিন’, রবিন খানের ‘মন দেব মন নেব’, মোস্তাফিজুর রহমান মানিকের ‘আনন্দ অশ্রু, স্বপ্নে দেখা রাজকন্যা, সাদেক সিদ্দিকীর ‘সাহসী যোদ্ধা’, রাশেদ পলাশের ‘পদ্মপুরাণ’সহ  বেশ কিছু ছবি।